রাঙ্গুনিয়ায় বেতাগী ইউপিতে এক গৃহবধূর হস্যজনক মৃত্যু!

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১১:২৪ অপরাহ্ন
‘মৃত্যুর আগে আমার মাকে রুমের মধ্যে চুল ধরে মাটির মধ্যে টানাটানি করে। কিছুদিন আগে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে ডুবিয়ে পানি খাওয়ায়’....

মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি।।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের চান্দার বাড়িতে গত শনিবার ৮ ডিসেম্বর মুহাম্মদ হোসাইনের (প্রকাশ বাচা)’র স্ত্রী রোনা আকতার সোমার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। দুপুর ১ টায় খাবার খাওয়ার সময় মূলার সাইজ বড় হওয়ার ইস্যু নিয়ে সোমা এবং বাচার সাথে কথা কাঁটাকাটি হয় এবং সোমাকে অনেক মারধর করে।

তখন সোমা কীটনাশক বিষ খেয়ে টানা ১ ঘন্টা যাবত কাজ করে পানি খাবার পর শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়ার কারণে মাথা ঘুরে পড়ে যায়। পরে থাকে রাঙ্গুনিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেয়া হয়। তখন মেডিকেলের ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গৃহবধুর মরদেহ ময়নাতদন্তের শেষে রবিবার ৯ ডিসেম্বর’১৮ রাত ৮টায় তাকে শাশুড় বাড়ির এলাকার কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত গৃহবধূর তিন শিশু কন্যা আছে বলে জানা যায়।

পারিবারিক কলহের জেরে সে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে তার শ্বশুর বাড়ির লোকেরা জানালেও পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

সোমার মেয়ে হুমাইরা আর হীরা বলে, ‘মৃত্যুর আগে আমার মাকে রুমের মধ্যে চুল ধরে মাটির মধ্যে টানাটানি করে। কিছুদিন আগে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে ডুবিয়ে পানি খাওয়ায়।’

উল্লেখ্য যে, রোনা আকতার সোমা রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের রোশাইপাড়া গ্রামের মরহুম আবুল কাশেমের মেয়ে। ১০ বছর পূর্বে পূর্ব বেতাগী মির্জাখীলের চান্দার বাড়ি এলাকার বদিউল আলমের পুত্র মুহাম্মদ হোসেন প্রকাশ বাচা সাথে তার বিবাহ হয়।

স্বামী মুহাম্মদ হোসেন পেশায় কৃষিকাজ করে। এভাবে প্রায় সময় ছোটখাটো বিষয় নিয়ে নির্যাতন করতো তাকে। এই ব্যাপারে বেশ কয়েকবার গ্রাম্যবিচারও হয়।

রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমতিয়াজ মুহাম্মদ আহসানুল কাদের ভুঞা বলেন, ঘটনার কথা আমি শুনেছি। কেউ এখনো পর্যন্ত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদৃষ্টি

 

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ