ফারুক আহমেদ, সিরাজগঞ্জ।।
আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে বৈশাখ মাসে তার হাটু জল থাকে। পার হয়ে যায় গরু পার হয় গাড়ি। দুই ধার উচ্চ তার ঢালু তার পাড়ি। কোথাও নেই কাঁদা, দুই ধারে কাসবোন ফুলে ফুলে সাদা।
এক কালের খরস্রোতা সিরাজগঞ্জ সলঙ্গার বিভিন্ন খাল শুকিয়ে তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। বৈশাখের এ সময় খাল বিলের পানি শুকিয়ে তাছাড়া রায়গঞ্জের সোনাখাড়া, তাড়াশ মাধাইনগর, উল্লাপাড়া রামকৃষ্ণপুর ও সলঙ্গার ধুবিল ইউনিয়নসহ বিভিন্ন গ্রামের প্রভাবশালিরা খালের ভিতর অবৈধভাবে খাল দখল করে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে পুকুর তৈরি করে উচ্চু পাড় বা নেন্টজালের বেড়া দিয়ে মাছ চাষের মহাউৎসবে পরিনিত করেছেন।
এতে এলাকার সাধারণ মানুষ ও মৎস্য জীবীরা সেখানে মাছ ধরে জীবিকা ভরন পোষণ করতে পারছেন না। এছাড়া এলাকার হাজার হাজার একর জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় দুই ফসলি জমি এক ফসলে পরিনিত হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে এলাকাবাসি সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর, তাড়াশ টিওনো অফিস, রায়গঞ্জ ভূমি অফিস, উল্লাপাড়া ভূমি অফিসে লেখিত আবেদন করছেন বলে এলাবাসির দাবি। সলঙ্গার বোনবাড়িয়া, বেতুয়া, চুনিয়াখাড়া, রৌহদহ,আমশড়া, শ্যামিরঘন, তাড়াশের ঝুরঝুরি, লক্ষিপুর, চকঝুরঝুরি, বোয়ালিয়া, শোলাপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের প্রভাবশালীরা। খালগুলির নাব্যতা হারিয়ে এখন শুধু চারদিকে পুকুর আর পুকুরে পরিনিত করেছে। খালের বুকে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করা হয়েছে। উজানে বাঁধ দিয়ে ইরিক্ষেতে সেচ দেয়া,অপরিকল্পিত বাঁধ নিমার্ণ এবং খালের বুকে একাধিক ব্রিজ নির্মাণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

তাছাড়া প্রমত্ত যমুনার পানি প্রবাহ স্বাভাবিক না থাকায় কোরতোয়ার শাখা সিরাজগঞ্জ সলঙ্গা,তাড়াশ, উল্লাপাড়ার বিভিন্ন খালের এ অবস্থা হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরাসহ এলাকার সর্বস্তরের লোকজন মনে করেন। কোন কোন স্থানে খালের বুকে পলি জমে জমে উঁচু হয়েছে। দু’পাড়ের আয়তন কমে গেছে এবং খালের পাড়ে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। খালের চর ভুমি গ্রাসীরা দখল করে নিয়েছে। ফলে ক্রমান্বায়ে করতোয়া নদীর খাল শুকিয়ে শীর্ণ খালে পরিণত হয়েছে। বর্ষায় খালে কোনো কোনো স্থানে পানি জমলেও শুস্ক মৌসুমের শুরুতেই শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়। এ সুযোগেই এলাকার কৃষকরা খালের বুক জুরে ফসলের আবাদ করেন। পরিণত হয় গবাদী পশুর চারণ ক্ষেত্রে। একসময় যে এ সমুস্ত খালের পানি সেচ দিয়ে তীরবর্তী মানুষ জমিতে ফসল ফলাতেন।
এছাড়া এ সমুস্ত খালের ভিতর দিয়ে নৌকা, ডেংগি পালতুলে চলতো। এখন সে খালের বুকে অগভীর নলকূপ বসিয়ে ইরি চাষ করতে হয়। খালে নৌকা নেই, পানি নেই, মাছ নেই। যমুনা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে রায়গঞ্জ করতোয়া নদীর বুকে মিশে সলঙ্গা ধুবিল, মালতিনগর,বনবাড়িয়া, বেতুয়া, চুনিয়াখাড়া, আমশড়া, শ্যামিরঘন, নিমগাছি, ঝুরঝুরি, লক্ষিপুর, চকঝুরঝুরি, বোয়ালিয়া, শোলাপাড়াসহ আরো বিভিন্ন গ্রামের মধ্য দিয়ে হয়ে তাড়াশ চলনবিলে পড়েছে।
তারা আরো বলেন, দেশী মাছ এখন বিলুপ্তর পথে। দেশীও মাছের অভাবে এলাকার লোকজনেরা পুষ্টিহীনতা ভুগছেন। প্রভাশালীরা অরৈধভাবে খাল দখল করে পুকুর দিয়ে অবাধে বাণিজিক ভাবে মাছ চাষ করায় খালগুলোর ওপর গড়ে উঠা ঐ অবৈধ স্থাপনা ও পুকুর উচ্ছেদ না করতে পারিলে খাল তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলবে।
এ নিয়ে এলাকায় চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকা বাসি ও লিখিত আবেদন সূত্রে এ সকল তথ্য জানা গেছে। এখনই সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করে জলাবদ্ধতা নিরসন কল্পে খাল পূনঃখনন,সম্প্রসারণ সংস্কার ও উন্নয়ন করা না হলে সলঙ্গা, তাড়াশ, রায়হঞ্জ ও উল্লাপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের খাল তার ঐতিহ্য হারাতে পারে। মুছে যেতে পারে মানচিত্র থেকে এমনটাই অভিমত সংশিষ্টদের।
You must be logged in to post a comment.