ফারুক আহমেদ, সিরাজগঞ্জ।।
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গাসহ তিনটি উপজেলায় হাওড়, বাওড়, বিল অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে চাপা আতস্ক বিরাজ করছে। মাঠে পাকা ধানের ম ম গন্ধে হৃদয়জুড়ানো সুবাস; কিন্তু স্বস্তি নেই কৃষকরা।
সারা বিশ্বজুড়ে করোনা আতস্ক পিছে নেই আমাদের বাংলাদেশ তথা সিরাজগঞ্জের তিনটি উপজেলার হাওর, বাওর ও বিল অঞ্চলের মালিক বরগা ও প্রন্তিক ধান চাষিরাও। তিনটি উপজেলা কোথাও কোথাও আগাম জাতের বোরো ধান কাটা লাগলেও কামলা সংস্কটে আকাশ কালো হলেই তাদের মধ্যে অজানা এক আতস্ক ভর করে। ফসল ঘরে তুলতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা যায়।
বৈশাখের কালবৈশাখির ঝড় বৃষ্টি ও বর্তমানে করোনার কারণে কামলা সংস্কটে তাদের মনে শস্কা আরো বড়িয়ে দিয়েছে। গত বছরে প্রচুর বৃষ্টেপাতে অকাল বন্যায় তিনটি উপজেলার নিম্ন অঞ্চলের হাওর, বাওর ও বিল এলকার সব ধান তলিয়ে গিয়েছিল। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সীমাহীন খাদ্য সংকটে পড়া কৃষকরা এবার বোরো চাষ করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে ; কিন্তু এবার ফসলের ক্ষতি হলে তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না। সলঙ্গা নিচু এলাকার লোক ছাড়াও তাড়াশ ও উল্লাপাড়া হাওর, বাওর ও চলনবিল অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যেও একই উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।
তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের রানিদিঘির গ্রামের কৃষক শিপন সরকার বলেন, আসমান কালো করে যে মেঘ ধরায় তাতে এবারও ধান ঘরে তুলতে পারবো বলে মনে হয় না। গত কয়েক বছরের ক্ষতি পোষাতে এ বছর জেলার বিশেষ করে এই তিনটি উপজেলার হাওর, বাওর ও বিল অঞ্চলের কৃষকরা উন্নত জাতের ধান আবাদ করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের গাছগুলোও খুব বেঁড়েছে। এরই মধ্যে ব্রি- ২৮, হাজারি মিনিগেট, ও সুবুল লতাসহ আব্দুল ঘুটি জাতের ধান পরিপুষ্ট হয়েছে পাকতে শুরু করেছে।
কত অঞ্চলে ইতিমধ্যেই ধান কাটা শুরু করেছে কৃষকরা; কিন্তু আধা পাকা অবস্থায় ধানে অনেক ধানে মরা ছিচা দেখা যাচ্ছে। ভয়ে অনেক কৃষকরা; মাঠে আধা পাকা অবস্থায় আগেভাগে কাটায় ধানে চিটার পরিমাণ বেশি দেখা যাচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে ব্লাস্ট ও নেট বাস্ট রোগ। তাই কৃষকরা আশস্কা করছে, এবারও কি তাদের স্বপ্ন ভঙ্গ হবে!
সলঙ্গা ৩নং ধু্বিল ইউনিয়ন আমশড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ বলেন, গত বছর অকাল বন্যায় তলিয়ে হাওর, বাওরসহ বিলঅঞ্চলের ক্ষেত তলিয়ে যায়। আমার একটি ধানও ঘরে তুলতে পারিনি। আগের কয়েক বছরও আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। এবার বোরো চাষ করে অতীতের ক্ষতি কিছুটা পোষাতে চেয়েছি। কিন্তু ধানে বিভিন্ন রোগ দেখা দেওয়ায় এখন আশস্কার মধ্যে আছি।
এ ছাড়া কয়েক দিন থেকে কয়েক দফা বৃষ্টি আমাদের মনে শস্কা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। এবার যদি বোরো ধান ঘরে তুলতে না পারি তাহলে আমাদের পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।
You must be logged in to post a comment.