মহাজোটকে বিপুলভাবে বিজয়ী করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ: প্রধানমন্ত্রী

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
শুক্রবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০১৯, ৯:০০ অপরাহ্ন

অন্যদৃষ্টি অনলাইন।।

২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারতি জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে এ আশার কথা জানান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

ত্রিশ মিনিটের দেয়া বক্তব্যের শুরুতেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটকে বিপুলভাবে বিজয়ী করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যাঁরা আমাদের ভোট দেননি, আমি তাঁদেরও ধন্যবাদ জানাচ্ছি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করার কয়েকটি কারণ উল্লখে করে প্রধানমন্ত্রী বলনে, ‘এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় ছিল খুবই প্রত্যাশিত। নির্বাচনের আগে দেশি-বিদেশি জরিপগুলিও এ রকমই ফলাফলের ইঙ্গিত দিয়েছিল।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের পর থেকেই নির্বাচনি প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনি প্রস্তুতি ছিল ব্যাপক। একটি সমাজের প্রায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ যখন কোনো দলের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন, তখন তাকে কোনভাবেই আটকে রাখা যায় না।’

নির্বাচনে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের পরাজয়ের বহুবিধ কারণ রয়েছে বলেও মন্তব্য করনে আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি বলেন, ‘সাধারণ ভোটারগণ বিএনপি’র দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন এবং নৌকার অনুকূলে এবার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল।’

আওয়ামী লীগ সরকাররে গেল এক দশকের নানা উন্নয়ন ও সফলতার কথা উল্লখে করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১০ বছরে দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে, সাধারণ মানুষ তার সুফল পেয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করায় মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত হয়েছে। পদ্মাসেতু, ঢাকা মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মহাসড়কগুলোকে চার-লেনে উন্নীতকরণসহ মেগা প্রকল্পগুলো দৃশ্যমান হওয়ায় সাধারণ মানুষের বর্তমান সরকারের ওপর আস্থা জন্মেছে।’

তিনি জানান, ‘আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব শিক্ষিত তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। আগামি পাঁচ বছরে আমরা দেড় কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি।‘

সরকারের যেকোন নীতিমালা প্রণয়নে এবং উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে নির্বাচনি ইশতেহার পথ-নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগামীতে দেশকে আরও এগিয়ে নিতে এখন আমাদের প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের ঐক্যের যোগসূত্র হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সাম্য ও ন্যায়বিচার এবং উন্নয়ন ও অগ্রগতি।’

দেশবাসীর প্রতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা টানা চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সরকার পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়ে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। কথা দিচ্ছি আমি প্রাণপণ চেষ্টা করব সে আস্থার প্রতিদান দিতে।

তবে, এজন্য দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের সমর্থন এবং সহযোগিতা চান বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ