অন্যদৃষ্টি অনলাইন।।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মনোনয়ন বাতিল করা একান্তই নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। এখানে সরকারের কিছু করার নেই। তাই যদি না হতো তাহলে আমাদের সবচেয়ে বড় শরীক জাতীয় পার্টির মহাসচিব কি বাদ পড়তেন!
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের আইনে আছে মনোনয়নপত্র বাতিল করার। মনোনয়নপত্র যেসব কারণে বাতিল হয়, সেগুলো তো নির্বাচন কমিশন সবসময় আমলে নেয়। নতুন করে তো কোনও আইন করা হয়নি। সরকার কোনোভাবেই এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।
সোমবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। উদাহরণ টেনে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মওদুদ আহমদ সাহেব। খুব নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে আমাকে জানানো হয়েছিল মওদুদ আহমদ সাহেবের মনোনয়ন পত্রে কিছু ‘ঘাপলা’ আছে; কিন্তু আমি আন্তরিকভাবে চেয়েছি তিনি যেন টিকে যান, নির্বাচন করেন। না হলে নির্বাচন তো জমবে না। ওখানে কার সঙ্গে ইলেকশন করব? আমার কিন্তু এই মানসিকতা কাজ করে। ফলে যে যেখানেই বাদ গেছেন সেখানে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের জন্যই বাদ গেছেন।
বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল প্রসঙ্গে কাদের বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিষয়টি উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে হয়েছে। দুই বছরের বেশি যারা কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তারা নির্বাচন করতে পারবেন না। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।
তিনি বলেন, আমাদেরও তো অনেকে বাদ পড়েছেন, এখানে আমাদের কী করার আছে! নির্বাচন কমিশন তার আইন মেনে কাজ করছে। নতুন করে তো কোনো আইন করা হয়নি। নির্বাচনী যে আইন সে আইন অনুযায়ী বাদ গেছেন, এখানে তো আমাদের কিছু করার নেই।
১৩ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত হাজি মোহাম্মদ সেলিম তাহলে কীভাবে নির্বাচনে টিকে গেলেন- সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখানে আওয়ামী লীগেরও সন্দেহ ছিল হাজী সেলিম নির্বাচন করতে পারবেন না। তাই ওই আসনে দুই জনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল; কিন্তু নির্বাচনী আইনে তিনি টিকে গেছেন, এখানে তো আমাদের কিছু করার নেই। দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করে কোনো অজুহাতেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট যেন নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ায় সে আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা কোনোভাবেই একতরফা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নির্বাচনে লড়াই করতে চাই না। ডেমোক্রেসি হচ্ছে দুই চাকার বাইসাইকেল। এখানে কে অপজিশন হবে সেটা পিপলস ডিসাইড করবে। আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দেব, এমন ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পোষণ করেন না।
২০ দলীয় জোটের অভিযোগের প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, অলি আহমেদ সাহেবের সঙ্গে সম্ভবত গতকালই (রোববার) আমার মোবাইলে কথা হয়েছে। তিনি প্রশাসনিকভাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ব্যাপারে কিছু কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন। আমি তখনই তাকে বলেছি, দেখুন এখন তো পুলিশ প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধীনে। তারপরও বর্তমান সরকারের একজন মন্ত্রী হিসেবে রুলিং পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে আমি চেষ্টা করবো কোনোভাবেই যেন আপনার এলাকায় যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ক্ষুণ্ন না হয়।
You must be logged in to post a comment.