বরিশাল বিভাগীয় মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোঃ জাকির হোসেন মজুমদারের অঢেল সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। আর সেই সম্পদের বদৌলতে তিনি শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। শরীয়তপুর জেলার অন্তত ১৫টি জায়গায় তিনি জমি কিনেছেন। চতুর্থ গ্রেডে পুলিশের একজন অতিরিক্ত কমিশনার হয়ে এতো সম্পদের মালিক কিভাবে হলেন তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে
আর সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, জাকির হোসেন মজুমদারের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও ইউনিয়নের লাকার্তা গ্রামে। তার পিতার নাম হান্নান মজুমদার। তার পাঁচ সন্তান। তার মধ্যে ৪ জন ছেলে ও একজন মেয়ে রয়েছে। হান্নান মজুমদারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা স্বচ্ছল ছিল না। বাড়িতে চৌচালা একটি টিনের ঘর সহ ৮০ শতাংশ জমি রয়েছে। সেই জমি তার সন্তানদের বন্টন করে দেয়ার পর জাকির মজুমদার ১৬ শতাংশ জমি পৈত্রিক সূত্রে পেয়েছেন।
জাকির মজুমদার ছাত্র জীবন থেকেই উচ্চাভিলাষী ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিংয়ে মাষ্টার্স সম্পন্ন করার পর ২২ তম বিসিএস এ এএসপি হিসেবে পুলিশ বিভাগে যোগদান করেন। তারপর থেকে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি আওয়ামী সরকারের আশীর্নাদপুষ্ট হয়ে নিজ নামে বেনামে অনেক সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। শরীয়তপুর জেলার অন্তত পনেরটি জায়গায় জমি কেনার সন্ধান পেয়েছে। পুলিশে চাকরী নেয়ার পর বাড়িতে চৌচালা টিনের ঘরের পরিবর্তে দৃষ্টিনন্দন ডুপ্লেক্স ভবন হয়েছে। জাকির মজুমদার শরীয়তপুর ছাড়াও বরিশাল ও ঢাকায় অনেক সম্পদ করেছেন বলে শোনা যায়। আপাতত শরীয়তপুরের যে সকল জায়গায় জমি কিনেছেন তার তথ্য দেয়া হলো। শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর মধ্যপাড়া মৌজায় অর্থাৎ পুলিশ লাইন্সের পাশে বাবুল সরদারের কাছ থেকে ৪ বছর পূর্বে ১৬ শতাংশ জমি কিনেছেন ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকায়। বর্তমানে সে জমির বাজার মূল্য ৬ কোটি টাকা।
তুলাসার মৌজায় অর্থাৎ শরীয়তপুর পৌরসভার পিছনে অবস্থিত দলিল উদ্দিন মাওলানার বাড়ির সামনে বিল্লাল মোল্যার কাছ থেকে একতলা ভবন সহ ১০ শতাংশ জমি কিনেছেন ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা দিয়ে। পরবর্তীতে সেই একতলা ভবনকে সংস্কার করে পাঁচতলা ভবনে রূপান্তর করা হয়েছে। কিন্তু বিল্লাল মোল্যার পুরো টাকা পরিষোধ করেননি। জাকির মজুমদার পুলিশী ভয়ভীতি দেখিয়ে বিল্লাল মোল্যাকে দিয়েছ মাত্র ৮০ লক্ষ টাকা। ভেদরগঞ্জ উপজেলার লাকার্তা মৌজায় বি আর এস ১১১০ নং দাগে লোটন কাজী, খোকন কাজী এবং সাচ্চা কাজী গংদের কাছ থেকে দুই বছর পূর্বে ৩২ শতাংশ জমি কিনেছেন ৬৪ লক্ষ টাকা দিয়ে। বর্তমানে সে জমির বাজার মূল্য ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা।
লাকার্তা মৌজায় আবদুল হামিদ খান, বাচ্চু খান গংদের কাছ থেকে ৮০ শতাংশ জমি কিনেছেন ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা দিয়ে। সেই জমিতে এখন আম বাগান করা হয়েছে। লাকার্তা মৌজায় সেলিম সিকদার গংদের কাছ থেকে ৬৪ শতাংশ জমি কিনেছেন ১ কোটি ৩ লক্ষ টাকা দিয়ে। লাকার্তা মৌজার বি-আর এস ১১০৯ নং দাগে নিজ মালিকানা জমি রয়েছে ১০শতাংশ। একই দাগে খলিল মজুমদার, স্বপণ মজুমদার, মোয়াজ্জেম মজুমদার এবং খোকন মজুমদার গংদের কাছ থেকে পুলিশী ভয়-ভীতি দেখিয়ে জোর পূর্বক ৩২ শতাংশ জমি দখল করে নিয়েছে।
শরীয়তপুর পৌরসভার আটং মৌজায় মেইন সড়কের সাথে ৪৩ শতাংশ জমি কিনেছেন ৬৫ লক্ষ টাকা দিয়ে। যার বর্তমান বাজার মূল্য ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। ৪৩ নং দাসার্তা মৌজায় নিখিল ঘোষ, শান্তি ঘোষ, দয়াল ঘোষদের কাছ থেকে চার বছর পূর্বে ১কোটি ২০ লক্ষ টাকা দিয়ে ৮০ শতাংশ জমি কিনেছেন ।
এ ছাড়া লাকার্তা মৌজায় প্রায় ৫০ একর জমি নিয়ে রয়েছে বড় ২টি মাছের ঘের। ছয়গাঁও ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আবু বকর বলেন, জাকির মজুমদারের আর্থিক অবস্থা আগে তেমন ভালো ছিলো না। শুনেছি, পুলিশে চাকরী নেয়ার পর শরীয়তপুর সহ অনেক জায়গায় অনেক জমি কিনেছেন। লাকার্তায় দুইটা মাছের বড় ঘের রয়েছে। আমাদের এলাকায় তিনিই এখন বড় ধনী ব্যাক্তি। এ ব্যাপারে জাকির মজুমদারের বক্তব্য নেয়ার জন্য তার মুঠোফোনে বেশ কয়েকবায় ফোন দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হলো না।
You must be logged in to post a comment.