বঙ্গবাজার অগ্নিকান্ড উত্তাপ চুয়াডাঙ্গার বাজারে

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
বুধবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৩, ৭:৩০ অপরাহ্ন

ঢাকা বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব পড়েছে চুয়াডাঙ্গা মার্কেট-শপিংমল গুলোতে। পবিত্র ঈদুল-ফিতরকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা বিপণী বিতানগুলোতে পোশাকের চাহিদা বেড়েছে।

ঠিক এমন সময়ে বঙ্গবাজারের কাপড়রের মার্কেটে আগুন লাগার সুযোগ নিচ্ছে বিক্রেতারা। বাড়ানো হয়েছে সবধরনের কাপড়ের দাম। আর পোশাকের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বঙ্গবাজারারের আগুনের ঘটনাকেই দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে, যথেষ্ট বাজার মনিটরিং নিয়ে অভিযোগ তুলেছে ক্রেতা সাধারন।

জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ঢাকার বঙ্গবাজারের কাপড়ের সবথেকে বড় মোকাম ও দোকানে ভয়াবহ আগুন লাগে। প্রতি সেকেন্ডে আগুন চারদিক ছড়িয়ে যায়। এতে শত শত দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আর এই আগুন লাগার প্রভাবে ঈদকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার শপিংমলগুলোতে আকাশ চুম্বি কাপড়ের দাম দেখা গেছে। যে কাপড় আগে ছিল এক হাজার টাকা। সেই কাপড় এখন দেড় হাজার টাকা। প্রতিটা কাপড়ের মানভেদে ৫০০ টাকা বেশি বাড়ানো হয়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে ক্রয় ক্ষমতা। আর হঠাৎ করে কাপড়ের দাম বৃদ্ধিতে সব থেকে বিপাকে পড়েছে চুয়াডাঙ্গা নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষেরা।

ক্রেতাদের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে চুয়াডাঙ্গার মার্কেট শপিংমলগুলোতে বাজার মনিটরিং চোখে পড়ছে না। এই সুযোগকেও কাজে লাগিয়ে কাপড় ব্যবসায়িরা দ্বিগুণ মুনাফা দাম হাকাচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে বাজার মনিটরিং বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

এদিকে, ঈদের আর মাত্র ১০দিন বাকি থাকলেও সেভাবে জমে উঠেনি চুয়াডাঙ্গার শপিংমলগুলো। প্রতিটা কাপড়ের দোকানে ক্রেতা সমাগম আশানুরুপ ভাবে কম।

শপিংমলে আসা এক ক্রেতা তাহের আলি বলেন, এবার ঈদের পোশাকের দাম অনেক বেশি। পরিবারের সকলের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি। কিন্তু সব কাপড়ের দাম এমন বেশী যে কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আবার না কেনা ছাড়া তো উপায়ও নেই। পোশাকের দাম আরো একটু কম হলে মনে হয় ভালো হয়।

আরেক ক্রেতা বাবু সজল মিয়া বলেন, বঙ্গবাজারে আগুন লাগার কারণে পোশাকের দাম বাড়ানো হয়েছে। সামনে ঈদ আর এখন যদি এতো দাম বাড়ে তাহলে আমরা কিনবো কিভাবে। পোশাকের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হলে বাজার মনিটরিং বাড়াতে হবে। তা না হলে সাধ্যের বাইরে চলে যাবে। তাই জোর দিয়ে বাজার তদারকি করা দরকার।

দাম বাড়ার কারন জানিয়ে  ব্যবসায়ীরা জানান, বঙ্গবাজারে আগুন লাগার প্রভাবে আমরা কাপড় বাইরে থেকে কিনতে পারছি না। যেগুলো কিনতে পারছি তার দাম অনেক বেশী। তাই ক্রেতাদের কাছে  বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আবার মার্কেটে ক্রেতা সমাগম কম। সামনে পহেলা বৈশাখ ও ঈদুল ফিতর এই জন্য শপিংমলগুলোতে ক্রেতা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। আসা করি ২০ রোজার পর থেকে ক্রেতা সমাগম দেখা যাবে এবং বেচাকেনাও বাড়বে।

চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কর্মাসের সহ-সভাপতি মনজুরুল আলম মালিক লার্জ বলেন, ঢাকার প্রত্যেকটা পাইকারি দোকানদাররা বেশি দামে বিক্রি করছে ব্যবসায়িদের কাছে। আর তাই বাধ্য হয়ে চুয়াডাঙ্গায় কাপড় ব্যবসায়ীরা বেশি দামে কাপড় বিক্রি করছে। আর বেচাকেনা অনেকটা সমাঝোতার মধ্যে আছে। বঙ্গবাজারটা কেন্দ্র করে বাজারে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে চেম্বারের পক্ষ থেকে সচেতনতা অভিযান চলছে।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ