ড. শাহীদা সুখী
যাঁরা বিশ্বাস করে নারী’র জীবনের প্রতিকূলতা……তাঁকে অন্যায়ের সাথে আপোস করতে শেখাবে একদিন, তাঁদের জন্য প্রচুর করুণা আর ভালোবাসা। …….মেরুদন্ড আর ঘাড় সোজা রেখে চলার রোগটা বংশানুক্রমিকভাবে পাওয়া, সহজে ঠিক হবে না। তাইতো, নারী নিয়ে ভাবনার যেন অন্ত নাই। ……বা, নারীকে নিয়ে কথা বলার জন্য কোনো দিবসের প্রয়োজনিয়তা অনুভব করি না। …..নারী’র জন্য বাণী- “নারী’র চরম দুর্বলতাই নারী’র চূড়ান্ত অনুপ্রেরণা হোক।” সেই সাথে পুরুষ শাসিত সমাজে নারী’র জীবনকে নরক বানানোর নিরলস প্রচেষ্টার জন্য…..আন্তরিক ধন্যবাদ, আপনাদের এই বিশাল কর্মকান্ড কেবল নারী জাতিকে চেতনায় সমৃদ্ধ করুক……এই কামনা রাখি!
আমরা এদেশের নারীদের নিরানব্বই দশমিক নয় শতাংশ আটপৌরে শাড়ি পরা……আত্মগ্লানি, আত্মবঞ্চনা দেখতেই অভ্যস্ত ছিলাম…..The lesson of history is that nobody learns from history….নারী আত্মঅবমাননার ইতিহাস পর্যালোচনা এজন্য যে, এদেশের নারীদের নিজস্ব কোনো প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না…..নেই…..বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কি গড়ে তুলেছি?? উত্তর তো, না বোধক।
আহ্লাদ হয় না……রাগ হয়, রাগ। যেখানে আমার মর্যাদা নেই, সেটা আমার সংসার না……মার খেয়ে পড়ে থাকা, জমি কামড়ে থাকার চেষ্টাও অপরাধ…….এসব কেন শেখে না মেয়েরা! ……নিউটনের তৃতীয় সূত্রের মতো ইটের বদলে পাটকেল, একটা মারের বদলা নিতে দশটা মার আর লাথি মেরে, ভেঙ্গে বেরিয়ে আসতে শিখুক সব মেয়েরা……নিজেকে ভালোবাসতে শিখুক…….
বেগম রোকেয়া, বিবি রাসেলের অসম লড়াইয়ে সব প্রতিরোধই শেষ পর্যন্ত পরাস্ত হয়েছিল……কিন্তু তার চেয়ে বড় কথা হলো…..লড়াকুদের আত্মঅবমাননা চেতনা, যার ব্যাখ্যা হবে “বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সুচাগ্র মেদিনী বা জ্বলে পুড়ে ছাড়খার তবুও মাথা নোয়াবার নয়।”
You must be logged in to post a comment.