ত্রুটিপূর্ণ ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে জনগণ প্রতারিত হয়েছে: নঈম উল ইসলাম 

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারী, ২০১৯, ৮:৫৪ অপরাহ্ন

দেলোয়ার হোসাইন, রাংগুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ত্রুটিপূর্ণ,প্রশ্নবিদ্ধ ও নজিরবিহীন আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ নঈম উল ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখার স্বার্থে নির্বাচনে সবদল অংশগ্রহণ করে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করলেও জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাঁধা দিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সকল দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতেই শুধু ব্যর্থ হয় নি, বরং তারা একটি লজ্জাজনক ইতিহাসের অংশীদারও হয়েছে। তিনি বলেন,  বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। আর এর জন্য নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতাই দায়ী। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ও সরকারী দলের আশীর্বাদপুষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠীর সিন্ডিকেটের কারণে  নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ কষ্টে আছে বলে ও তিনি মন্তব্য করেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বলেন, ডাকসু,চাকসুসহ বিভিন্ন কলেজ সংসদের নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ছাত্রসংসদ নির্বাচন একটি ইতিবাচক দিক। তবে নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সকল দলের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জাতীয় নির্বাচনের মত ছাত্রসংসদ নির্বাচনেও নির্দিষ্ট একটি দল ছাড়া অন্য কোন দলের প্রার্থী বিজয়ী হতে পারবে না।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার সংগ্রাম,গৌরব,ঐতিহ্য ও সাফল্যের ৩৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর শাখার আয়োজনে ২১ জানুয়ারী  সোমবার বিকালে আন্দরকিল্লা চত্বরে অনুষ্ঠিত ছাত্রসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপর্যুক্ত কথা বলেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সভাপতি ছাত্রনেতা মুহাম্মদ মাছুমুর রশিদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ছাত্রসমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র‍্যালীতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ নঈমুল ইসলাম। উদ্বোধক ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সভাপতি মুহাম্মদ জসীম উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সহ-সভাপতি আ ন ম তৈয়্যব আলী, আনজুমানে রজভীয়া নূরীয়া কাতার শাখার সভাপতি ফোরকান রেজা, চট্টগ্রাম নগর সহ সভাপতি আলহাজ্ব সৈয়দ মোহাম্মদ সেলিম, ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ শফিউল আলম, মাওলানা সোহাইল উদ্দীন আনসারী, আহমদ রেযা রুকু পাঠান, আবদুল মাবুদ,সৈয়দ লিয়াকত আলী, মুহাম্মদ ইব্রাহিম, এরশাদ মোল্লা, মুহাম্মদ শাহজাহান, মাওলানা সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, মুহাম্মদ আব্দুর রহিম, মাওলানা জামাল উদ্দিন খোকন, আনোয়ার পারভেজ সিকদার, মুহাম্মদ হাবিবুল মোস্তফা সিদ্দিকী, নুরুল্লাহ রায়হান খান, আবদুল কাদের রুবেল, খোরশেদুল ইসলাম সুমন, এস এম ইকবাল বাহার চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার সহ-সভাপতি জি.এম শাহাদত হোছাইন মানিক। উদ্বোধনী বক্তব্যে জসিম উদ্দীন বলেন, মাদক আর দুর্নীতির মহোৎসবে দেশের ছাত্র-যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।  ছাত্র-যুবসমাজকে নিজেদের ক্ষমতায় বসার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে ক্ষমতালোভী সন্ত্রাসনির্ভর রাজনৈতিক নেতারা মাদক আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে নীরব ভূমিকা পালন করছে। তিনি দেশের প্রাণশক্তি ছাত্র-যুবসমাজকে মাদক আর দুর্নীতির ভয়াল থাবা থেকে রক্ষায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রধার বক্তা জি.এম শাহাদত বলেন,  ছাত্র রাজনীতির নামে আজ চলছে সন্ত্রাস-হানাহানি-টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি, ক্যাম্পাস দখল ও ছাত্র নামধারী মাস্তানদের দাপট। একশ্রেণীর ছাত্র নামধারী বিপথগামী ছাত্র-যুবক সম্মানিত শিক্ষকের গায়ের ওপর হাত তুলতেও কুণ্ঠিত হচ্ছে না। এই অশুভ ছাত্র রাজনীতির বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজকে সোচ্চার হয়ে আদর্শিক ছাত্রবান্ধব জ্ঞানমুখী ছাত্র রাজনীতির পথে ফিরে আসতে হবে। তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার আলোকে কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করে বেকারত্ব রোধে সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। সভাপতির বক্তব্য মাছুমুর রশিদ বলেন, চট্টগ্রামে সরকারী কলেজের সংখ্যা অত্যন্ত কম। সরকারী কোন মাদ্রাসাও নেই। এ কারণে মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক সন্তান উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি চট্টগ্রামে সরকারী কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধি ও নূন্যতম দুটি মাদ্রাসাকে সরকারীকরণের দাবি জানান।

ছাত্রসমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র‍্যালীতে আরো উপস্থিত ছিলেন মুহাম্মদ গোলাম মোস্তফা,এহছানুল হক, শিহাব উদ্দীন, কাউছার খান, ফোরকান রেজা, মুহাম্মদ এরশাদুল করিম, তৌহিদুল হক,বাবর আলী,শাহাদাৎ হোসাইন,আবু সায়েম মুহাম্মদ কাইয়্যুম,বেলাল রেজা,শরীফ মুহাম্মদ মাহমুদুল ইসলাম,আহমদুল হক,আব্দুল কাদের, কাজী মুহাম্মদ আরাফাত,মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ,মুহাম্মদ আতিকুল্লাহ, এম এইচ আরমান, জিয়াউদ্দীন রায়হান,মুহাম্মদ নাঈম উদ্দীন, খোরশেদুল ইসলাম, মুশফিক রায়হান, মিজানুর রহমান, মুহাম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন সাদু,জুনাইদ রেজা প্রমুখ। ছাত্র সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে এসে সমাপ্ত হয়।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ