তাবলিগ জামাতের মতবিরোধের নেপথ্যে (১ম কিস্তি) 

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
সোমবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৮:৩৯ পূর্বাহ্ন

আবদুল মান্নান।।

সাদ কান্ধলভী। পিতা মরহুম মাও: হারুন।তার পিতামহ হজরত ইলিয়াস কান্ধলভী( রহ)।তিনি দিল্লির নিজাম উদ্দিন মসজিদ থেকে তাবলিগের খেদমত আরম্ভ করেছিলেন।সেখান থেকে তাবলিগ জামাত বিশ্বে সমাদৃত। আর দিল্লির নিজাম উদ্দিন মসজিদ হল তাবলিগ জামাতের প্রাণকেন্দ্র। এখান থেকে সারা বিশ্বে তাবলিগ জমায়েতের সমস্ত নির্দেশনা পরিচালিত হয়। আর সাদ কান্ধলভী হলেন নিজামুদ্দিন মারকাজের প্রধান মুরব্বি।

রেওয়াজ অনুযায়ী ঢাকার টঙ্গীতে অবস্থিত বিশ্ব ইজতেমায় প্রতি বছর সাদ কান্ধলভী প্রধান মুরব্বি হিসেবে অংশগ্রহণ থাকেন। ইজতেমায় অংশগ্রহণ করে প্রতিবছর তিনি হেদায়তি আলোচনা করেন এবং শেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন। গতবছর(২০১৭সাল) সাদ কান্ধলভী প্রতি বছরের ন্যায় টঙ্গীর ইজতেমায় অংশগ্রহণ করার জন্য কাকরাইলের মারকাজে আসেন। কিন্তু তাবলিগ জমায়েতের একাংশ ও কওমি মাদ্রাসার আলেমদের প্রবল প্রতিরোধ ও বিক্ষোভের মুখে শেষতক ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। তাকে কাকরাইল থেকে দিল্লিতে ফিরে যেতে বাধ্য করেন সাদ বিরোধী তাবলিগরা। বিষয়টি সুরাহা করার জন্য  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাদ অনুসারী এবং বিরোধীদের সমন্বয়ে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বাংলাদেশের সাদ বিরোধী তাবলিগ জামাতের মুরব্বিদের দাবী হল যে, সাদ যতদিন পর্যন্ত কোরআন ও হাদিস সম্পর্কে নিজের মনগড়া বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাইবে না এবং তার বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে  দারুল উলুম দেওবন্দ এর আলেমদের সন্তুষ্ট করতে পারবেনা;ততদিন পর্যন্ত টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে পারবেনা।

দেওবন্দ মাদ্রাসার অনুসারী আলেম-উলামা ও তাবলিগ জামাতের একটি অংশ দিল্লির নিজামউদ্দিন মারকাজের প্রধান মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর ঘোর বিরোধী। তাদের দাবি ,সাদ কোরআন-হাদিসের অপব্যাখ্যা ও নিজের মনগড়া বিভিন্ন মতামত প্রচার করে যাচ্ছে। তার এ সমস্ত বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে তাবলিগে বিভক্তি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। তার এ ধরণের  বিভ্রান্তিকর মন্তব্য থেকে নবী-রাসুলগণ রেহাই পাচ্ছেন না। সাদ কান্ধলভীর ইসলামের অপব্যাখ্যামূলক বক্তব্যগুলো হচ্ছে:

প্রায় দশবছর পূর্বে সাদ সাহারানপুরে এক সমাবেশে উলামায়ে কেরামের বেতন সম্পর্কে বলেন,এই টাকা বেশ্যাদের উপার্জনের সমতূল্য! তখন মাওলানা সালমান সাহেবের সভাপতিত্বে” মাজহারুল উলুম মজলিসে ইলমি” রেজুলেশন পাশ করে যে, সাদ কে আর কখনো বয়ান(আলোচনা) করতে দেওয়া যাবেনা।

তার বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে আলোচনা করার জন্য দারুল উলুম দেওবন্দের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা সাদকে দেওবন্দ মাদ্রাসায় আসতে বলেন। সাদ দেওবন্দের ডাকে সাড়া দেননি। এমনকি সাদকে যতবার দেওবন্দে আসতে বলা হয় তিনি যেতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসাকে অপেক্ষা করতে থাকেন।তখন দেওবন্দ থেকে তার কাছে সংবাদ পাঠানো হয় যে,আমরা আমাদের জিম্মাদারি আদায় করে যাব। এখবর শুনে সাদ দ্রুত মাওলানা আহমদ লাটকে দেওবন্দে পাঠান।

দেওবন্দের মেহমান খানায় তার সাথে আল্লামা আবুল কাসেম নূমানী(মুহতামিম),সাঈদ আহমদ পালনপুরী(শাইখুল হাদিস),হাবিবুর রহমান খায়রাবাদি(প্রধান মুফতি) ও  সৈয়দ আরশাদ মাদানিসহ সিনিয়র সকল শিক্ষকের সাথে বৈঠক হয়।শুরুতে সাদ সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় আহমদ লাট ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে প্রায় আধঘন্টা কান্নাকাটি করে বলেন, এগুলো হল যা আপনাদের পর্যন্ত পৌছেছে তা। আমাদের চোখের সামনে আরও কত কী ঘটছে! অথচ আমরা কিছু করতে পারতেছিনা।

আহমদ লাট বলেন;এখনো মারকাজে ইব্রাহীম দেওলা ও মাওলানা ইয়াকুসহ অনেক মুরব্বি অবস্থান করতেছে। আপনারা আমাদের অনুমতি দিলে মারকাজ ছেড়ে চলে যেতে প্রস্তুত। উনাকে কন্ট্রোল করা আমাদের ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে।এ সকল কর্মকান্ড দেখে দেখে সেখানে থাকার আর ইচ্ছে নেই।এটা শুধু আমার কথা নয়।বরং মুরব্বিয়ানে কেরামের বিরাট এক জামাত আছেন যাদের কথা হল; দেওবন্দ থেকে যদি থাকতে বলা হয় তাহলে থাকব।যদি বলা হয় চলে যেতে তাহলে  চলে যাব।

মাওলানা লাট সাহেবের এ কথার পর দেওবন্দ থেকে তাকে বলা হল, আপনারা মারকাজেই থাকেন। কী হয় দেখা যাক।

(চলবে)

 

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ