শাহনেওয়াজ সুমন,ঝিনাইদহ।।
তৌহিদুল রহমান পাভেল বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান । ঝিনাইদহের গোবিন্দপুর বাড়ী । ছোট একটিবোন অবশ্য ছিল, কিন্তু প্রিয় ভাই আর বাবা মাকে ছেড়ে ওপারে পাড়ি জমিয়েছে অনেক আগেই। কন্যা হারানোর কষ্ট বুকে নিয়ে বাবাও বেশিদিন পৃথিবীর মায়ার বাঁধনে আটকে থাকতে চাননি। হঠাৎ স্ট্রোক করে স্ত্রী আর এক মাত্র ছেলে কে রেখে পাড়ি জমান মেয়ের কাছে। স্বামী আর কন্যা হারানোর ব্যথা একমাত্র ছেলের মুখের পানে চেয়ে দিন কাটেবৃদ্ধ মায়ের। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার খেলা বোঝা বড় দায়, ছোট বেলা থেকেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত পাভেল মটরবাইকে চড়ার সময় উত্তপ্ত সাইলেন্সার এ ডান পা সম্পূর্ণ পুড়িয়ে ফেলে। ডান পায়ে সেন্স না থাকার কারণে সে টেরই পায়না যে জুতা পুড়ে তার পা টিও পুড়ে গেছে। পরবর্তীতে ঢাকার বারডেম হসপিটালের ডাক্তার প্রথমে তার পা কেটে ফেলার কথা বললেও পরবর্তীতে হাই ডোজ এ্যান্টিবায়েটিক ঔষুধের মাধ্যমে তার পা ঠিক হয়। তখনও পাভেল বিন্দুমাত্র টের পায়নি যে উচ্চমাত্রার এ্যান্টিবায়েটিক ঔষুধ খাবার ফলে তার দুটি কিডনীই অকেজো হয়ে গেছে। পরবর্তীতে সে বিছানায় আশ্রয় নিলে ধরা পড়ে মারাত্বক মরণঘাতী এ রোগের। স্বামীর এরকম অবস্থা দেখে সদ্য বিবাহিত স্ত্রী আর তার ভবিষ্যত কে অন্ধকার না করার জন্য তাকে বিচ্ছেদের কাগজ ধরিয়ে দিয়ে চলে যায়। ঘরে পড়ে থাকে পাভেলের অসহায় শরীর আর তার মায়ের কিংকর্তব্য বিমূঢ়, অশ্রুসজল চোখদুটি। পারিবারিকভাবে মধ্যবিত্ত হলেও চলাচলে অক্ষম পাভেল কে নিয়ে তার বৃদ্ধ মা একাই লড়াই করে যাচ্ছেন। একটাই আশা সৃষ্টিকর্তা যেন তার শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে না নেন। প্রতি মাসে ৫০-৬০ হাজার টাকা খরচ করছেন ছেলের ডায়ালাইসিস করাবার জন্য (সপ্তাহে অন্তত ৩ বার করতে হয়)। কিছু মানুষের সহযোগীতা আর তার ছোটাছুটির ফলে এখনও পাভেল তার বুক আগলে বেঁচে আছে। কিন্ত এভাবে আর কতদিন ??? আমরা সকলে যদি আমাদের প্রতিদিনের হাত খরচের টাকাটাও তাকে সাহায্য হিসাবে দিতে পারি তাহলে হয়ত পাভেল ভালো চিকিৎসা করে তার মায়ের মুখে আবার হাসি ফুটাতে পারবে। একবার ভাবুনতো পাভেলের যায়গাতে আপনি আর তার মায়ের যায়গাতে যদি আপনার মা থাকতো !!! কি বুকের মাঝে একটি ঠান্ডা শিহরন জাগলো কিনা না? এ কারণেই তাদের সম্মতি সম্পূর্ণরূপে না থাকলেও আমরা তার সাহায্যের জন্য আপনাদের সকলের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। আসুন না আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করি একজন মায়ের মুখের হাসি ফিরিয়ে দিতে। আপনার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাও হতে পারে তার বেঁচে থাকার শেষ আশা।
সাহায্য পাঠাতে চাইলে- বিকাশ নং : 01820-544940 (পাভেলের পার্সোনাল বিকাশ নং)
ডাচ বাংলা ব্যাংক: তৌহিদুর রহমান , একাউন্ট নং-2281510003942, ঝিনাইদহ শাখা।
সাহায্য পাঠাতে না পারলেও অন্তত স্ট্যাটাস টি শেয়ার করার অনুরোধ রইলো।