স্টাফ রিপোর্টার।।
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের চাপরাইল হাইস্কুলের শিক্ষিকা মিতা চক্রবর্তী শহরের এম.ইউ কলেজ পাড়ায় বসবাস করেন। সোমবার সকালে তিনি মেয়েদের জন্য কেনাকাটা ও নিজের গহনার কাজ করাতে বাসা থেকে ২ মেয়ে নিয়ে বের হয়েছিলেন। বেশ খানিকটা পায়ে হেঁটে কলেজ রোড থেকে ইঞ্জিনচালিত একটি রিক্সায় যাত্রা করলেন শহরের দিকে।
এক রিক্সায় ২ মেয়ে সামলাতে কষ্ট হচ্ছিল তাই সপিং ব্যাগে ভরা গহনার ব্যাগটি ঝুলিয়ে দিলেন রিকসার ভিতরের বাঁকানো হুটে। কিন্ত শহরের ভিতরে মেয়েদের জন্য কেনাকাটা করতে নেমে গেলেও ভূলে ওই রিকসায় ফেলে যান গহনার ব্যাগটি। মেয়েদের জন্য কেনাকাটা শেষ করে দেখেন গহনার ব্যাগটি নেই। এরপর শুরু হলো খোঁজাখুজি।
একপর্যায়ে মিতা চক্রবর্তী তার স্বামী স্বপন ভট্রাচার্যকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানালে তিনিও পৌছে যান তাদের কাছে। এরপর একটি মটর সাইকেলে করে খুঁজতে থাকেন মিতার মুখচেনা রিকসাওয়ালাকে। প্রায় ২ ঘন্টা খোঁজাখুজির পর কোথাও না পেয়ে তাদের মধ্যে হতাশা কাজ করছিল। এরপর মোবাইলে কল দিয়ে জানানো হলো ব্যাগটি নিয়ে একজন বাসার গেটে অপেক্ষা করছেন। পরবর্তীতে বাসায় ফিরলে গহনার ব্যাগটি বিশ্বস্থ রিকসাচালক ওই দম্পতির হাতে তুলে দেন। সততার পরিচয় দেয়া এই রিকসাচালকের নাম খোকন বিশ্বাস। তিনি কলেজপাড়ার পার্শ্ববর্তী কলোনী পাড়ার মৃত নিতাই বিশ্বাসের পুত্র।
রিকসাচালক খোকন বিশ্বাস জানান,ম্যাডাম মেয়েদের নিয়ে যখন রিকসা থেকে নেমে গেছেন তখন আমি নিজেও খেয়াল করিনি যে ভিতরে হুটে শপিং ব্যাগ ঝুলিয়ে রেখে গেছেন। এরপর আমি ঘন্টা খানেক ভাড়াও মেরেছি। এক যাত্রী বললেন রিকসাওয়ালা ভাই আপনার এ শপিং ব্যাগটি এখানে ঝুলিয়ে রেখেছেন কেন। এরপর আমি দেখি ব্যাগটির ভিতরে আরও একটি লেডিস হাত ব্যাগ। এটা দেখে বুঝলাম ব্যাগটি অবশ্যই কলেজপাড়া থেকে রিকসায় উঠা ভদ্র মহিলার। মনের ভ’লে উনি ফেলে গেছেন। এরপর যেখান থেকে উঠেছিলেন সেখানে গিয়ে লোকের মুখে শুনে বাসায় সামনে এগিয়ে দেখি গেটে তালা ঝুলানো। আমি দাদার মোবাইল নম্বর যোগাড় করে কথা বলে নিশ্চিত হই ব্যাগটি ম্যাডামের। তিনি বলেন, গরীব মানুষ টাকার অভাব আছে কিন্ত পরের হক মেরে নই।
শিক্ষিকা মিতা চক্রবর্তীর স্বামী খড়িখালী মায়াময় মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন ভট্রাচার্য জানান, আমার স্ত্রীর এ ব্যাগে সোনার গহনা ও নগদ টাকা মিলে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার জিনিস ছিল। সেটা রিকসা চালক খোকনের সততার কারনেই পাওয়া গেল। আমি খুশি হয়ে কিছু টাকা তাকে দিতে গিয়েছিলাম কিন্ত কোনক্রমেই নিলেন না। তিনি বলেন, আমরা সবাই এমন সৎ হলে দেশটা হতো আরও সুন্দর।
You must be logged in to post a comment.