ঝিনাইদহের ডাকবাংলার টেলিফোন অফিসের বেহাল দশা নেই লোকবল, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব!

সাইফুল ইসলাম, ঝিনাইদহ সদর
বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২২, ৩:২০ অপরাহ্ন

বেহালে রয়েছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলার টেলিফোন অফিস। এক সময় এই ডাকবাংলা মিনি শহরে  অনেক বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং অফিসে ব্যবহৃত  হতো টেলিফোন। বর্তমানে দিন দিন মুঠোফোনের নিচে এবং টেলিফোন অফিসের অবহেলায় চাপা পড়ে যাচ্ছে টেলিফোন। নেই অফিসের সামনে কোন সাইনবোর্ড।

এনজিও ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বলে প্রতিনিয়ত জনসাধারণ প্রবেশ করে টেলিফোন অফিসে। সাইনবোর্ড এর জন্য লাইনম্যান মুকুল উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার বললেও টেলিফোন অফিসে মেলেনি সাইনবোর্ড।

ডাকবাংলা মিনি শহরে শুরুতেই খাতা-কলমে টেলিফোন সংযোগ প্রায় ২১০ টির জায়গায় এখন মাত্র ১৫ টি আছে।  তাও আবার অধিকাংশ লাইনই প্রায় ১ বছর ২ বছর ধরে বিচ্ছিন্ন। তার ওপর লোকবল সংকটের কারণে গ্রাহকসেবা নেই বললেই চলে। এই ডাকবাংলা মিনি শহরের নাথকুন্ডু রোডের জুড়োন মিয়ার বাসার পাশেই রয়েছে দুইতলা বিশিষ্ট অফিস ভবন। ২০০৬ সালের ২১ অক্টোবরে ডাকও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক এমপির উদ্ভোদন এর মাধ্যমে ম্যাগনো-২ টেলিফোন অফিস চালু হয় এখানে।

ওই সময় খাতা-কলমে সংযোগ ছিল প্রায় ২১০ টি। প্রথমে কয়েকটি বছর অফিসটি ভালো ভাবে চললেও এখন অবহেলার কারণে কোন গ্রাহক বাড়েনি বরং আস্তে আস্তে গ্রাহক কমে গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ১৫টি তাও আবারও এদের মধ্যে অধিকাংশই লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আছে। বিটিসিএল কোম্পানির টেলিফোন অফিসটির শুরুতে লোকবলের মধ্যে অপারেটর ছিল ০১ জন, লাইনম্যান ছিল ০১ জন এবং বার্তা বাহক ছিল না। যদিও বা বর্তমানে ০১ জন অপারেটর ০১ জন লাইনম্যান ও ০১ জন বার্তাবাহক থাকার কথা কিন্তু ০১ জন লাইনম্যান দিয়ে চলছে অফিসের কাজ।

এবিষয়ে সাগান্না ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইফাদ অটো রাইচ মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলাউদ্দিন আল মানুন বলেন,ডাকবাংলা মিনি শহর একটি শিল্প-প্রতিষ্ঠান এলাকা। এখানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন অফিস, ব্যাংক বীমার অফিসসহ বড় বড় অটো রাইচ মিল ও ধান চাউলের ব্যবসা। সুতরাং আমার দুটি লাইন ছিল

ডাকবাংলা টেলিফোন অফিসের অবহেলার কারণে  তা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি। তিনি আরও বলেন এ ধরনের অফিস থেকে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে কারণ এখান থেকে আয়ের তুলনায় কর্মচারীদের দিতে হচ্ছে কয়েক গুন বেশি টাকা। তাতে আয়ের তুলনায় ব্যায় কয়েকগুন।

এবিষয়ে ওসমান গনি অটো রাইচ মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান গনি বলেন,টিএনটি অফিসের লাইন বিশেষ করে ব্যবসায়িকদের একান্ত প্রয়োজন কিন্তু টিএনটি অফিসের অবহেলার কারণে আমাদের মতো ব্যবসায়িক মহল টেলিফোন লাইন সংযোগ নিতে চান না।

এদিকে জোহান এগ্রো ফুড লিঃ কোম্পানীর ম্যানেজার মজিবুর রহমান বলেন,আমাদের অফিসের লাইন প্রায় দু বছর বিচ্ছিন্ন আছে। ডাকবাংলা অফিসে বললে অফিসের লাইনম্যান মুকুল হোসেন আমাদের তাঁর কিনে দিতে বলেন  না হয় লাইন সংযোগ দিবেন না। তিনি আরও বলেন আমাদের অফিসে আসলেই তাকে দিতে হয় টাকা। এবং আমাদের এখানে আজ প্রায় দু বছর লাইন বিচ্ছিন্ন থাকলেও প্রতিমাসে আমাদের প্রায় দু’শত টাকা বিল দিতে হয়।

আরও দেখুন : ৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটার কিনছেন ইলন মাস্ক

ত্রিমহনী কামাল উদ্দিন বাঁচাই অটো রাইচ মিলের ব্যবস্থানা পরিচালক কামাল উদ্দিন বলেন, ডাকবাংলা টিএনটি অফিসটির অবহেলার কারণে আজ ডাকবাংলার মতো এমন একটি শিল্প-প্রতিষ্ঠান এলাকা থেকে টেলিফোন বিলুপ্তি হতে চলেছে। যা সরকার মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে।

এবিষয়ে ডাকবাংলা বাজার দোকান মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজিব শেখ বলেন,টিএনটি অফিসের সাথেই আমার বাসা এদের সেবা একে বারে নিম্নমানের। আমার জানা মতে এই টিএনটি অফিসে এখন মনে হয় গ্রাহক সেবা নেই বললেই চলে। সুতরাং সরকার প্রতি বছরে এই টিএনটি অফিসের মাধ্যমে মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে।

টেলিফোন অফিসের লাইনম্যান মুকুল হোসেন বলেন,এখানে  শুরুতে ২১০ টি লাইন সংযোগ ছিল। মুঠোফোন ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাথে টেলিফোনের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে গ্রাহকরা। এ ছাড়া জরুরি প্রয়োজনে বেশির ভাগ সময় সংযোগ নষ্ট থাকার মতো ঘটনা ঘটতে থাকায় মেরামত করতে বিলম্ব হওয়ার কারণে অনেক গ্রাহক আগ্রহ হারিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। বর্তমানে এখানে ১৫ টি সংয়োগ রয়েছে।

সাইনবোর্ড নেই এ বিষয়ে জানতে চাইলে লাইনম্যান মুকুল হোসেন বলেন,উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার সাইনবোর্ড সম্পর্কে জানালেও তারা এখানে সাইনবোর্ড দেয়নি। আমারও অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয় কারণ এনজিও ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বলে প্রতিনিয়ত জনসাধারণ প্রবেশ করে টেলিফোন অফিসে।

এতো কম সংযোগ কেন এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার স্থান খুঁজে পেতে সময় লেগে যায়। এবং জনবল কম হওয়ায় তাঁকে একা এসব কাজ করতে হয়। জনবল বাড়ালে ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বাড়ালে দ্রুত মেরামত কাজ সম্ভব।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ