শামীম খাঁন, মহেশপুর, ঝিনাইদহ।।
অভাব যার নিত্য সঙ্গি, জীবনের সাথে যুদ্ধ করে সাইকেলে করে ঝাল মুড়ি বিক্রি করে অসহায় অসুস্থ্য মাকে দুবেলা দুমুঠো খাবার তুলে দিচ্ছে এবং সাথে সাথে লেখা পড়া চালিয়ে যাচ্ছে যশোরের চৌগাছার নারায়নপুর ইউনিয়নের বাদেখানপুর গ্রামের মৃত মল্লিক সরদারের পুত্র মোঃ লিখন হোসেন।
গত বছর বাবাকে হারিয়েছে। অসুস্থ্য মাকে নিয়ে তার বসবাস। সংসার চলার মতো নাই কোন জমি। ভিটেমাটি টুকু সম্বল করে মাকে নিয়ে চলছে তার সংসার। ব্যবসা করার মতো নাই কোন পুঁজি। এক মুদি দোকানদার তাকে ৩টা ঢম ও ১টা ক্যারেট দিয়ে বলেন তুই ঝাল মুড়ি বিক্রি কর। কিস্তিতে ১ টা সাইকেল কিনে মাত্র ১৫০ টাকা পুঁজি নিয়ে গ্রামে গ্রামে হকারি করে ঝাল মুড়ি বিক্রি করে বেড়ায় লিখন হোসেন। তাতে যা লাভ হয় তা থেকে সপ্তায় ১০০ টাকা কিস্তি দিয়ে আর মায়ের জন্য ঔষুধ কিনে কোন মতে দুবেলা দুমুঠো খাবারের ব্যাবস্থা করে। সাথে তার লেখাপড়া চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সে এবার উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী ২য় বর্ষের পরীক্ষা শেষ করল। বাকি আছে আর ২ সেমিস্টার। তার আশা বিএ পাশ করে কোন কোম্পানির চাকুরি ম্যানেজ করে নিবে। তবে সে বাইরে কাজ করতে যেতে পারছে না তার অসুস্থ্য মাকে রেখে। সেকারনে কোন উপায় না পেয়ে বেছে নিয়েছে এ কাজ।
সে আরো বলছে কোন কাজ ছোট না। আমি লেখাপড়া করি পাশাপাশি একাজ করি অনেকে বাহবা দেয়।
বাবার একমাত্র ছেলে অসহায় লিখন হোসেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঝালমুড়ি বিক্রি করতে কোন দ্বিধা করেন না। ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের সাথে সুন্দর ব্যবহার করে তার ব্যবসা চালিয়ে যায়।