জালই কাল ও হেলাল

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
বৃহস্পতিবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৮, ৭:৫৪ অপরাহ্ন

স্টাফ রির্পোটার ।।
জাল সনদে দীর্ঘ ৮ বছর চাকুরীর করার পর অবশেষে ধরা পড়েছেন শিক্ষক হেলাল উদ্দীন। হেলাল উদ্দীন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার চাপরাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি শিক্ষক ও হেলাই গ্রামের গোলাম বারী বিশ্বাসের পুত্র । বে-সরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে তার সনদটি জাল বলে জানিয়ে দিয়েছেন। আর এই জাল সনদে চাকুরীর করার অপরাধে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের জন্য সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষকেও নির্দেশ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, শিক্ষক হেলাল উদ্দিন ২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি ৫১০০ টাকার বেতন-স্কেলে চাপরাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। যোগদানের পূর্বে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরির জন্য যখন আবেদন করেন তখন সেখানে জাল নিবন্ধন সনদ জমা দেন। যেটা যাচাই করে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ দেখেছেন তিনি ২০০৭ সালের ৩য় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় শিক্ষক হেলাল উদ্দীন অংশ নিয়েছেন। ওই পরীক্ষায় তার রোল নম্বর ছিল ১১২০৩১৫৩। পরীক্ষায় তিনি শতকারা ৫০.০০ নম্বর পেয়ে পাশ করেছেন। এছাড়া তিনি এস.এস.সি, এইচ.এস.সি, বিএ, বিএড পরীক্ষায় সবগুলোতে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উত্তির্ণ হয়েছেন।
এদিকে দীর্ঘ সময় চাকুরিরত থাকার পর স¤প্রতি তার নিবন্ধন সনদ নিয়ে প্রশ্ন উঠে। অনেকে এটাকে জাল সনদ বলে সন্দেহ করেন। অবশেষে জেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে তার শিক্ষক নিবন্ধন যাচাই করতে পাঠানো হয়। সেখানে ধরা পড়ে তার ওই সনদপত্রটি জাল। ঢাকা এনটিআরসিএ’র সহকারী পরিচালক মোঃ মোস্তাক আহমেদ স্বাক্ষরিত বেশিনিক/প্রমূপ্র/সনদ যাচাই/৭৪৪(অংশ-৩)/২০১৭/৪০৩ নং স্বারকে জানানো হয়েছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার চাপরাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের সনদটি জাল। গত ২৮ জুলাই এই চিঠি পাঠানো হয়েছে ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিসে। যে চিঠিতে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করা হয়েছে। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল হক বিশ্বাস জানান, আমি আজ (বুধবার) একটি চিঠি পেয়েছি। আমরা সেটি যাচাই বাছাই করে দেখবো। এ ব্যাপারে শিক্ষক হেলাল উদ্দীনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চাপরাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নারায়ন বসু জানান, একটি চিঠি পেয়েছি। তবে ব্যস্ততার কারনে সেটি পড়তে পারেনি। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মধুসূদন সাহা জানান, জেলা শিক্ষা অফিসারকে ইনডোস করা একটি চিঠির কপি আমি পেয়েছি।
Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ