চুয়াডাঙ্গার প্রতিবন্ধী বিধবা জহুরা বেগম ৮০ বছর বয়সেও পাননি  কোন সরকারী ভাতা কার্ড !

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
বুধবার, ১৮ জুলাই, ২০১৮, ১০:১৬ অপরাহ্ন

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি।।
প্রতিবন্ধী জহুরা বেগম লাঠিতে ভর দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটেন। স্বামী নেই। নেই সন্তানও। তার ভরণপোষণ বহনের নেই কেউ-ই। ৮০ বছর বয়সে আজও জোটেনি প্রতিবন্ধী, বিধবা কিংবা বয়স্ক ভাতার কার্ড।
তিনি বলেন, কতজনকেই দেখলাম, বয়স্ক ভাতার কার্ড পেতে। খালি আমারই জুটলো না। স্বামীকে হারিয়েছি অনেক আগে। অথচ, বিধবা ভাতাও পাইনি কখনও। কথাগুলো অনেক আক্ষেপ নিয়ে বলছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়ন শৈলমারী গ্রামের এক হতদরিদ্র পরিবারের ৮০ বছর বয়সি প্রতিবন্ধী, বিধবা জহুরা বেগম।
নিঃসন্তান জহুরা বেগমের আর্তনাদ করে আরও বলেন, আর কত বছর প্রতিবন্ধী থাকলে, বিধবা থাকলে, কত বছর বয়স হলে কপালে জুটবে প্রতিবন্ধী, বিধবা কিংবা বয়ষ্ক ভাতার একটি কার্ড। স্বামী সন্তান না থাকায় অন্যের দ্বারস্থ হয়ে দুর্বিসহ জীবন কাটছে তার। সমাজসেবা অফিসের তথ্য অনুযায়ী বয়স্ক ভাতা পেতে নারীর জন্য বয়স ৬২ ও পুরুষের জন্য ৬৫ বছর হওয়া প্রয়োজন। সে হিসেবে প্রতিবন্ধী জহুরা বেগম আরও ১৮ বছর আগে বয়স্কভাতা পাওয়ার কথা।শারিরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় ঝিয়ের কাজ করার ক্ষমতায় নেই জহুরার। বিয়ের পর সংসার জীবনে শারিরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় সন্তান আদীর মুখ যেমন দেখতে পাইনি, তেমনি স্বামীর অকাল মৃত্যুতে অথৈয় সাগরে পড়ে জহুরা বেগম। বেচে থাকার জন্য নতুন করে জীবন সংগ্রাম শুরু হয় তার। বর্তমানে অনাহারে অর্ধাহারে কোন রকমে দিন কাটছে এ বৃদ্ধা প্রতিবন্ধীর। কথায় বলে দুঃখ দিয়ে যাদের জীবনগড়া তাদের আবার দুঃখ কিসের। স্বামী সন্তান না থাকায় চোঁখেমুখে অমাবস্যার অন্ধকারে নিমজ্জিত জহুরার। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জমি আছে ঘর নাই আশ্রয়ন প্রকল্পের তালিকায়ও নাম ওঠেনি তার। সহায় সম্বল হীন ভাবে স্বামীর বাড়িতে বুকে পাথর বেধে অসহায় ভাবে জীবন কাটছে তার।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মহোদয় জিয়াউদ্দীন আহমেদের কাছে প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা জহুরা খাতুনের আকুল আবেদন জীবনের শেষ সময়ে যদি একটি বিধবা, বয়স্ক, অথবা প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করে দেন তাহলে বাকি জীবনটা কিছুটা হলেও স্বাচ্ছন্দে চলতে পারবো।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ