চুয়াডাঙ্গায় তীব্র গরমের সাথে চলছে লোডশেডিং এর পাল্লা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
শুক্রবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৩, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন

অস্বস্তিকর গরমের মধ্যে শুরু হয়েছে দফায় দফায় লোডশেডিং। দুপুর, সন্ধ্যা, গভীর রাত কিংবা ভোর কোনো নিয়মই মানছে না বিদ্যুতের লুকোচুরি। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দফায় দফায় লোডশেডিংয়ে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন।

এদিকে তীব্র তাপদাহে শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালকরা অস্থির হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষেরা। শহরের বেশ কিছু সড়কের পিচ গলে যেতে দেখা গেছে। গতকাল বুধবার  চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র গরমের মধ্যে বাতাসের আর্দ্রতা কমে গেছে।

শহরের শান্তি পাড়া এলাকার বাসিন্দা আরমান হোসেন জানান, গতকাল সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে যায়। তারাবির নামাজের সময় আরেক দফা গিয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার  রাত ২টা ২১ মিনিটে লোডশেডিং শুরু হয়ে ছিল এক ঘণ্টা। আবার সারাদিনেও লোডশেডিং ছিল প্রায় সময়ই। তিনি বলেন, প্রচণ্ড গরমে ফ্যান চালিয়েও ঘরে থাকা যায় না। ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) দাবী, প্রচণ্ড গরমে বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। লোড বেড়ে যাওয়ায় ট্রান্সফর্মারসহ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। এসব মেরামতে সময় লাগছে। এ ছাড়া সরবরাহ কম থাকায় কিছু লোডশেডিং হচ্ছে। তবে পরিমাণে কম। ওজোপাডিকো চুয়াডাঙ্গার নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ঘোষ বলেন, ‘দাবদাহের কারণে গরমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। তবে শিগগিরই তার সমাধান হয়ে যাবে।’

অপরদিকে, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি ২৩ রমজান পর্যন্ত সামাল দেয়া গেলেও চাহিদা বাড়তে থাকায় সংকটে পড়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। গরমের সঙ্গে সঙ্গে এয়ার কুলার (এসি) ছাড়াও মানুষের বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী গত রবিবার সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এদিন উৎপাদন হয়েছে ১৫ হাজার মেগাওয়াট। প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে লোডশেডিং বাড়াতে হয়েছে। গত দুদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়ে উঠছেন অনেকে। বিশেষ করে শহরের তুলনায় গ্রামে লোডশেডিং অনেক  বেশি হচ্ছে।

এমনিতেই তীব্র তাপদাহে মানুষ হাঁসফাঁস করছে। এর মধ্যে নতুন করে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবে গতকাল দেশে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের লোডশেডিং হয়েছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহে গত কয়েক দিন ধরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে শহর ও গ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েই চলেছে। বাড়তি চাহিদা পূরণ করতে পারছে না বিতরণ কোম্পানিগুলো। এরমধ্যে প্রতিটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের ফিডার এখন লোডশেডিংয়ের জন্য শাটডাউন রাখা হচ্ছে।

অন্যদিকে গরমের কারণে বেড়ে গেছে বিদ্যুতের চাহিদা। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারার কারণে শহর থেকে গ্রামে সর্বত্র শুরু হয়েছে লোডশেডিং। অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কথা বলতে গিয়ে দীননাথপুরের আইনজীবী বেলাল হোসেন  বলেন, কয়েকদিন ধরে তীব্র তাপদাহ। অন্যদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিং।  প্রচণ্ড গরমের মধ্যে জনজীবনে নেমে এসেছে দূর্বিষহ, এর মধ্যে প্রায় প্রতি ঘন্টা পর পর লোডশেডিং হচ্ছে। গৃহিনী রুনা বিবি জানান, গত কয়েকদিন ধরেই দিনে রাতে এবং সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার মধ্যে রয়েছে। আসছে প্রায় এক ঘণ্টা পর। এই ঘটনা একবার নয়। সারা দিনে প্রায় ৮ থেকে ১২ বার বিদ্যুৎ চলে যায়।

পিডিবি’র দাবি, গত রোব বার সন্ধ্যায় সারা দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এই সময়ে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ উৎপাদন হয় ১৪ হাজার ৯৯৯ মেগাওয়াট। ফলে ৯২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লোডশেডিং করতে হয়েছে। সর্বনিম্ন উৎপাদন হয় ১২ হাজার ১০ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব মতে, ঢাকায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা ৪ হাজার ৮৬৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে  লোডশেডিং করা হয়েছে ১৮০ মেগাওয়াট। চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৬১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং হয়েছে ১২৫ মেগাওয়াট। খুলনায় ১ হাজার ৭৭৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং করা হয়েছে ১৫০ মেগাওয়াট। রাজশাহীতে ১ হাজার ৫৬৯ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং হয়েছে ১৩৫ মেগাওয়াট। কুমিল্লায় ১ হাজার ৩৩৯ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং হয়েছে ১১০ মেগাওয়াট। ময়মনসিংহে ১ হাজার ১০১ মেগাওয়াটের বিপরীতে লোডশেডিং হয়েছে ১১২ মেগাওয়াট। সিলেটে ৪৯৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা ছিল। এখানে লোডশেডিং হয়েছে ৪০ মেগাওয়াট। বরিশালে ৪০১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা ছিল। রংপুরে ৮৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং হয়েছে ৭০ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব মতে, দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৬ হাজার ৫৫০ মেগাওয়াট। গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ৪৮ লাখ। বিতরণ লাইন রয়েছে ৬ লাখ ২৯ হাজার কিলোমিটার। বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১০০ ভাগ। সোলার হোম সিস্টেম ৬০ লাখ রয়েছে।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ