চাঁদপুরের ৪০টি গ্রামের মানুষ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। নাইজার, মালিসহ বেশ কয়েকটি দেশে চাঁদ দেখা যাওয়ায় তাদের সঙ্গে মিল রেখে হাজীগঞ্জবাসীও ঈদ উদযাপন করেছেন বলে জানা গেছে।
রোববার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরিফ মাদ্রাসা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন সাদ্রা দরবার শরিফের পীর মুফতি যাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী।
এ বিষয়ে সাদ্রা দরবারের পীরজাদা ড. মুফতি বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, হানাফি, মালেকি ও হাম্বলি— এ তিন মাজহাবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে পৃথিবীর পশ্চিম প্রান্তেও যদি চাঁদ দেখা যায় আর সে সংবাদ যদি নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তেও পৌঁছায়, তাহলে পূর্ব প্রান্তের মুসলমানদের জন্য রোজা রাখা ফরজ এবং ঈদ করা ওয়াজিব।
আরও পড়ুন : বঙ্গবন্ধু সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা টোল আদায়
সাদ্রার আরেক পীর মাওলানা মো. আরিফ চৌধুরী বলেন, আমার চাচারা ঈদ উদযাপন করলেও আমাদের কাছে তা গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে না। আমরা সোমবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করব।
স্থানীয় বাসিন্দা মশিউর রহমান মুশু যুগান্তরকে জানান, সকাল থেকে কিছু মানুষ নামাজ পড়েছে। তবে কম। আগামীকাল আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ করবো। আজ ঈদের জামায়াতে তেমন মুসল্লীর সমাগম ঘটেনি।
উল্লেখ্য, আরব দেশগুলোর সঙ্গে সংগতি রেখে প্রতিবছর চাঁদপুরের তিনটি উপজেলার ৪০ গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। সাদ্রা দরবার শরিফের অনুসারীরা ৯৩ বছর ধরেই প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে সাদ্রাসহ ৪০টি গ্রামে ঈদ উদযাপন করে থাকে।
এছাড়া একই অনুসারীদের মধ্যে পটুয়াখালী, দিনাজপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, জামালপুর, মুন্সীগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নোয়াখালী ও বরিশালের কিছু এলাকায় পালিত হচ্ছে বলে দাবি করেন সাদ্রা দরবার শরীফের পীর আরিফ চৌধুরী।
জানা যায়, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে নাইজার, মালি ও আফগানিস্থানে চাঁদ দেখা যাওয়া সাপেক্ষে আজ ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে।
সাদ্রা দরবার শরীফের পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী বলেন, আমরা মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে আজ ঈদ করছি। আমরা নির্ধারিত কোনো দেশকে ফলো করি না। আরব বিশ্বের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে তা বিশ্বাসযোগ্য হলে আমরা রোজা পালন এবং ঈদ উদযাপন করি। যদি সেটি আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য মনে হয়।
You must be logged in to post a comment.