অন্যদৃষ্টি অনলাইন।।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে তার বিরুদ্ধে পরিচালিত নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির ধার্য তারিখে আজ পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত বিশেষ জজ আদালতে হাজির করা হয়। দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে হুইল চেয়ারে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা ২টা ১০ মিনিটের দিকে শুনানি শেষে আবার কারাগারে নেয়া হয়। দু’টি দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে এই কারাগারেই বন্দি রয়েছেন খালেদা জিয়া।
কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার পর বেগম খালেদা জিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারককে বলেন, এতো ছোট জায়গায় মামলা চলতে পারে না। এখানে আমাদের কোনো আইনজীবী বসতে পারেন না। এখানে মামলা চললে আমি আর আদালতে আসব না। আমাকে সাজা দিলে দিয়ে দেন।
এ সময় বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, এই আদালতে আমি নতুন। বিষয়টি নিয়ে আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।
নাইকোর কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে কানাডীয় পুলিশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই যে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে তা গ্রহণের বিষয় শুনানি ট্রায়ালে হবে বলে জানিয়েছেন বিচারক।
ক্ষমতায় থাকতে হলে মামলা করতে হয়
শুনানি চলাকালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ক্ষমতায় থাকতে হলে মামলা করতে হয়। তাই আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
এদিন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ তার নিজের পক্ষে অভিযোগ গঠন শুনানি নতুন করে শুরু করেন। শুনানির এক পর্যায়ে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে কোনো কারণ ছাড়াই এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি এই বিষয় কিছুই জানেন না।
শুনানি এক পর্যায়ে মওদুদ মামলার কার্যক্রম মুলতবি রাখার জন্য আবেদন করেন। এ সময় দুদকের আইনজীবী কাজল বিচারককে উদ্দেশ্য করে বলেন, আগামী সাপ্তাহে মামলাটির শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হোক।
এরপর বেলা ১টা ৫৬ মিনিটে বিচারক মামলাটির পরবর্তী অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করে এজলাস ত্যাগ করেন।
নির্বাচনের বিষয়ে কিছু বলার নেই
বিচারক এজলাস কক্ষত্যাগ করার পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে ১৬ মিনিটের মত আইনজীবীরা কথা বলেন।
এরপর সাংবাদিকরা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয় খালেদা জিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয় আমার কিছুই বলার নেই। এর পর বেলা ২টা ১০ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়াকে তার কারাকক্ষে ফিরিয়ে নেয়া হয়।
উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুদকের দায়ের করা দুই মামলায় ১০ ও ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। আপিলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড বেড়ে ১০ বছর এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতে ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়া আছেন। সেখান থেকেই গত ৬ অক্টোবর চিকিৎসকদের পরামর্শে খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নেয়া হয়। টানা এক মাস ২ দিন বিএসএমএমইউয়ে চিকিৎসা নেয়ার পর ৮ নভেম্বর তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়।
You must be logged in to post a comment.