দেলোয়ার হোসাইন, রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি।
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশর কেন্দ্রীয় মহাসচিব জাতীয় নেতা অধ্যক্ষ আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর বলেছেন, তরুণরা হচ্ছে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধানতম অনুঘটক।
তারুণ্য শক্তির মাধ্যমেই গোটা পৃথিবীর আমূল পরিবর্তন সম্ভব। এদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ কোটি তরুণকে বাদ দিয়ে একটি দেশ গঠন অচিন্তনীয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, দেশের সম্ভাবনাময়ী এ যুব ও তারুণ্য শক্তি বিবিধ সহিংস কর্মকান্ড, অপরাধ প্রবনতা তথা মাদকাসক্তির সাথে জড়িয়ে পড়ে সামাজিক শান্তি ও শৃংখলা বিনষ্ট করছে প্রতিনিয়ত। যার মর্মমূলে রয়েছে সুশিক্ষার অনুপস্থিতি, যথাযথ প্রশিক্ষণ এর অভাব তথা অভিশপ্ত বেকারত্ব।
বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক বাস্তবতায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বেকারত্ব রীতিমতো বিষফোঁড়া হিসেবে দৃশ্যমান। দেশের ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে কর্মসংস্থান সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি। একথা অস্বীকার করার কোন অবকাশ নেই যে, বেকারত্ব কেবল একটি সরকারকে নয় বরং গোটা দেশ ও জাতিকে বিপদগ্রস্ত করে তুলতে পারে। তাই দেশের সম্ভাবনাময়ী তরুন ও যুব সমাজকে শক্তি ও সম্পদে পরিবর্তন করতে হলে রাষ্ট্রকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।

উপরন্ত একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই বলে এরুপ মন্তব্য করেন ইসলামী ছাত্রসেনার উদ্যোগে অনুষ্ঠিতব্য “অনুগামী” সম্মেলনে উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
কেন্দ্রীয় সভাপতি ছাত্রনেতা এম এম নাঈম উদ্দিনের সভাপতিত্বে শনিবার(৩০ মার্চ), সকালে জামালখাঁনস্থ অভিজাত কমিউনিটি সেন্টার এক্সক্লুসিভ কনভেনশন হলরুমে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশর কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আলহাজ্ব এম আবু নাছের তালুকদার। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী রেজভী ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,অধ্যক্ষ আল্লামা এস এম ফরিদ উদ্দিন, অধ্যক্ষ আল্লামা কাজী আনোয়ারুল ইসলাম খাঁন, হাফেজ মাওলানা আমিন, আলহাজ্ব এইচ এম মুজিবুল হক শুক্কুর,অধ্যক্ষ এম ইব্রাহীম আখতারী, এম রাশেদুল ইসলাম রাশেদ প্রমুখ।
অনুগামী সম্মেলনে বক্তারা বলেন,দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা ও সুশিক্ষার মধ্যে দুস্তর ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। যেমন- সুশিক্ষার অনুপস্থিতি থাকায় অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষার সর্বোচ্চ সোপান অতিক্রম করেও অস্ত্রবাজী করে অবলীলায়। মাস্তানী, চাঁদাবাজী, হাইজ্যাক ইত্যাকার অবাঞ্চিত বিষয়াদি তার পেশা। অনাকাংখিত ইভটিজিং করতে তার বিবেক প্রশ্নবিদ্ধ হয়না। নিজেকে একজন টপটেরর বলেত কুণ্ঠিত হয়না। নেশাগ্রস্ত হয়ে মাতলামী করাকে পৌরুষত্বের প্রতীক বলে মনে করে। এসব শিক্ষা কখনও জাতীয় জীবনে কাংখিত সুফল বয়ে আনতে পারে না।
তাই ইসলামী ছাত্রসেনা এহেন শিক্ষার বিপরীতে ছাত্রসমাজকে নৈতিকতার স্খলনমুক্ত শিক্ষায় গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন কাজ আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে। আরো বলেন, ছাত্ররা হচ্ছে দেশ ও জাতির ভবিষ্যত কর্নধার, দেশের চালিকাশক্তি। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, গৌরব ও অহংকারের প্রতীক সেই ছাত্রসমাজ এখন মহল বিশেষের ক্রীড়নক। দেশ ও জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা এখন তাদের নিকট পুরোপুরিভাবে উপেক্ষিত। জাতীয় জীবনে একটি মেধাবী ও নৈতিক গুনাবলী সমৃদ্ধ ও দক্ষ প্রজন্ম গঠন মূল লক্ষ্য হলেও অদ্যাবদি তা গুমরে মরছে। তাই ছাত্র সমাজের মধ্যে কোরআন-সুন্নাহর আদর্শালোকে বিশুদ্ধ চরিত্র গঠন তথা জাতীয় জীবনে একটি আদর্শ, দক্ষ, প্রশিক্ষিত দেশপ্রেমিক নাগরিক গঠনে ইসলামী ছাত্রসেনা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
You must be logged in to post a comment.