শাহিনুর রহমান, এম.এম কলেজ, যশোর।।
ঈদ তুমি কার? ঈদ সামনে তবুও ছিন্নমুল শিশুদের মনে নেই কোনো আনন্দ । তারা পরিচয়হীন ,জানে না তার বাড়ি কোথায়,জানে না তার পিতা ,মাতা কে । রাস্তা ,অফিস – আদালতের সামনে,পার্কে ভিক্ষুকদের মতো মানুষের দ্বারে ভিক্ষা করে জীবীকা নির্বাহ করে। মানুষের কাছে ভিক্ষা চাইলে এমনকি তারা ছিন্ন শিশুদের কে তাড়া ও মারপিট করে। কোথায় ও দেখা যায় ছোট শিশুদেরকে শিশুশ্রম দিয়ে নির্যাতন করা হয়। কেন তাদের এই পরিণতি ? কেন তারা অবহেলায় ,? তারা কি সমাজের মানুষ না ? হ্যাঁ অবশ্যই তারা মানুষ তাদের নিজেদের একটা পরিচয় আছে । ছিন্ন শিশুরা আমাদের মতোই মানুষ । বছরে ২টা ঈদ আসে তাদের কি মনে চাইনা আনন্দ করতে? এ বিষয় নিয়ে রাহাত নামের ৬ বছরের একটা শিশুর সাথে কথা বললাম ।
শিশুটিকে জিজ্ঞাসা করলাম সামনে ঈদ কি করবা সে জানালো, ঈদের দিন নামাজ পড়ব । কিছু কেনা-কাটা করবানা বললো, না টাকা নেই, তুমি টাকা আয় কর কী ভাবে ? সে বললো মানুষের কাছে গিয়ে বলে ভায়া টাকা । মানুষের কাছ থেকে ভিক্ষা করে জীবীকা নির্বাহ করি । বললাম মা,বাবার সাথে ঈদ করবে না,বলার সাথে সাথে কান্না করল বলল আমার আব্বা আম্মা নেই । বললাম ঈদ উপলক্ষে তোমাদের কেউ কি কোনো কিছু সাহায্য করছে বলল না। আমাদের সবাই ঘৃণা করে। এখন দুপুর বললাম, ভাত খেয়েছিস? বলল- না । কেন ? তারা আমাদের সমাজের একজন মানুষ হয়ে অসহায় ? আমরা কি তাদের সাহায্য করতে পারি না ? ছিন্নমুল শিশুদের জীবনটা বিড়াল গল্পের মতো । সমাজের বিত্তবান মানুষেরা ,ও সরকারী ,বেসরকারী প্রতিষ্ঠান তাদের দায়িত্ব নিলে মানুষ হয়েও অসহায় জীবন যাপন করতে হত না ।
ছিন্নমুল শিশুরাও সমাজ,দেশ, জাতির জন্য কিছু করতে পারে । আমাদের সবার হাতটা তাদের দিকে বাড়িয়ে দিলে তাদের জীবনে অন্ধকার নেমে আসতো না ।
সরকার এবং বিত্তবান ব্যক্তিরা তাদের জন্য একটু সহানভূতিশীল হলেই ঈদ সবার হতে পারে…।
You must be logged in to post a comment.