আ’লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কাল, মাঠে নামছে না তৃনমূলের নেতাকর্মীরা

এস এম মিন্টু
রবিবার, ২২ জুন, ২০২৫, ৭:৩৫ পূর্বাহ্ন

আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল সোমবার। অন্যান্য বছর দলটি উৎসবে মেতে উঠলেও এবার তারা নিষিদ্ধ দল হিসেবে আত্মগোপনে রয়েছে। তবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর আত্মগোপনে থাকা দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বলেন জানা গেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দোয়া ও ঝটিকা মিছিলসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।

তবে এই কর্মসূচি ঘিরে সিনিয়র নেতারা যে পরিকল্পনার করেছে, তাতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সিনিয়র নেতারা রাজপথে নেমে আন্দোলনে যোগ দিতে নির্দেশ দিলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাদের সেই নিদের্শনা মানবে না। বরং যারা বিদেশে বসে নির্দেশনা দিচ্ছেন সেসব সিনিয়র নেতাদের দেশে এসে নেতৃত্ব দেয়ার আহ্বান জানানো হয়। তৃণমুল নেতারা তাই মাঠে নামতে নারাজ। আওয়ামী লীগের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রাম গ্রুপে ‘ধানমন্ডি-৩২’ গ্রুপে এমন আলোচনা হয়েছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।

এ দিকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যেন মাঠে নামতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। গত ১৬ জুন পুলিশ সদর দফতর থেকে পাঠানো এক নির্দেশনায় ডিএমপিসহ সারা দেশের পুলিশ সদস্যদের সতর্ক করা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তারা বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করেছে। নির্দেশনায় সব পুলিশ সদস্যকে সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়।

এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম নয়া দিগন্তকে বলেন, নিষিদ্ধ দল পরিকল্পনা করবে তাই বলে পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। সারা দেশের পুলিশ সজাগ রয়েছে। তারা কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটনোর আগেই আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের গ্রেফতার করবে। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের আগে থেকেই তারা বলে আসছে পুলিশের ঘুম হারাম করবে। পুলিশকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গুজব রটিয়েছে। পুলিশ গুজবকারীদেরও গ্রেফতার করছে। কোনো ধরনের পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইলে কোনো ছাড় নয়।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের পদত্যাগ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজে বাধাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশকে অচল করতে পরিকল্পনা করেছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। গত ১৬ জুন ট্রাইব্যুনালের সামনে ককটেল বিস্ফোরণসহ রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় ঝটিকা মিছিল করেছে।

গতকাল ‘ধানমন্ডি ৩২’ টেলিগ্রাম গ্রুপে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মাঠ পর্যায়ে ও তৃণমুল পর্যায়ের নেতাদের নির্দেশনা দেন একেক জেলা থেকে অন্তত ৪০ হাজার লোক জড়ো করতে। উত্তরে তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে প্রতিদিনই শত শত নেতাকর্মী গ্রেফতার হচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বড় কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তারা বলেন, সিনিয়র নেতারা বিদেশে থেকে নির্দেশনা দিলেই হবে না। দেশে এসে নেতৃত্ব দিলেই সাবাই একযোগে মাঠে নামবে।

গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম টেলিগ্রাম গ্রুপে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সবার মুখেই শুধু আশারবাণী শুনি। আমরা মাঠে কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। আপনারা প্রতি ওয়ার্ড থেকে ১০ জন করে লোক নিলেও রাজপথ গরম করা যায়। কর্মীদের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজপথে না নামলে আমরা ২০ বছর পিছিয়ে যাবো। তাই সবার অস্তিত্ব রক্ষায় মাঠে নামতে হবে।

গত ১৫ জুন গোয়েন্দাদের করা এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মাসব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তার মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ ও আইসিটি ট্রাইব্যুনালে বিচার বন্ধের দাবিতে ঢাকা মহানগরের অন্তর্গত সব থানায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করবেন বলে জানা যায়। আগামীকাল ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ভার্চুয়াল আলোচনা সভা, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণসহ মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে বিক্ষাভ মিছিল ও ঝটিকা মিছিল করার পরিকল্পনা করেছে। ২৪ জুন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ ও আইসিটি ট্রাইব্যুনালে বিচার বন্ধের দাবিতে সারা দেশে বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করবেন। আগামী ১ জুলাই ইউনূসের পদত্যাগ ও আইসিটি ট্রাইব্যুনালে বিচার বন্ধের দাবিতে সব জেলার সাংগঠনিক কার্যালয় কেন্দ্রীক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করবেন। ১৬ জুলাই সব সাংগঠনিক উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়সহ তৃণমূলের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করবেন।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, আওয়ামী লীগের সবধরনের কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নিষিদ্ধ কার্যক্রম করলেই তাদেও গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অল্প কয়েকজন ছদ্মবেশে গভীর রাত বা ভোরে কর্মসূচি করে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এ ধরনের কর্মসূচির ক্ষেত্রে র‌্যাব আগে থেকেই তৎপর রয়েছে। আগামীতেও এ ধরনের তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে র‌্যাব।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ