আধুনিক যুগেও টিকে আছে কাঠের পিঁড়ির সেলুন

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
বৃহস্পতিবার, ১ আগস্ট, ২০১৯, ৪:৫৩ অপরাহ্ন

ফারুক আহমেদ, সিরাজগঞ্জ।।
আধুনিক সভ্যাতার ক্রম বিবর্তনের ফলে দৈনন্দিন জীবনের সকল ক্ষেত্রেই এসেছে পরিবর্তন।  লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া।  গড়ে ওঠেছে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক সেলুন।
এসব সেলুনে চলছে আধনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।  এই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও দাপটের মাঝে সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানার বিভিন্ন হাটগুলিতে এখন ও সমান তলে টিকে আছে আবহমান বাংলার সেই চিরচেনা পিঁড়িতে বসা সেলুন।  তবে পুঁজি কম থাকায় ভাগ্য বদলায় না ওই সেলুনের কারিগরদের সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারসহ সলঙ্গার ৯টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি হাট -বাজার রয়েছে।
এসব হাট-বাজারের পরিত্যক্ত খোলা জায়গায় রাস্তার কিনারে ফুটপাতে ও টিনের তৈরি একচালা ঘরের নিচে বসে বংশ পরম্পরায় পিঁড়িতে বসা সেলুনের মধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন নাপিতরা। বিভিন্ন গ্রাম থেকে দরিদ্র লোকেরা চুল কাটতে  ১৫ টাকা ও শেভ করতে ১০ টাকা লাগে। সারাদিন কাজ শেষে একজন নাপিত পায় দুইশত টাকা থেকে দুইশত ৫০ টাকা এই টাকাই চলে তাদের জীবন। এই টাকায় চলে ছেলে -মেয়েদের লেখাপড়াসহ যাবতীয় খরচ। বছর শেষে আয় বলতে কিছুই থাকে না তাদের। ফলে একটি আধুনিক সেলুন তৈরি করতে পারছেন না তারা। সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ৯টি ইউনিয়নে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় আমশড়ার হাটে শ্রী গনেশ বাবু  ও শ্রী প্রীপ কুমার নামে দুই জন নাপিত কাজ করছেন। তাদের পাশেই কাঠের তৈরি একটি পিঁড়ির উপর ছোট সাদা কাপুরে চুল কাটার ও শেভ করার সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি রাখা আছে। শ্রী গনেশ বাবু একজন ব্যক্তিকে পিঁড়িতে বসিয়ে হাঁটুর কাছে মাথা নিয়ে চুল কাটছেন। রমেশ চন্দ্র মাহথো একজন বৃদ্ধের শেভ করছেন। শেভ করতে আসা সাতকুর্শি গ্রামের আব্দুল জলিল, আধুনিক সেলুনে শেভ করতে লাগে ৩০ টাকা আর চুল কাটাতে লাগে  ৫০-৬০ টাকা। এই সেলুনে শেভ করাতে লাগে ১০ টাকা আর চুল কাটাতে লাগে মাত্র ২০ টাকা লাগে তাই এখানে এসে শেভ করি। নাপিত রমেশ চন্দ্র মাহথো বলেন, আমার দাদা তার দাদা থেকে আমার বাবা এই কাজ করে গিয়েছেন। আমি এই পিঁড়িতে বসিয়ে প্রায় ৩৮ বছর ধরে এ কাজ করছি। প্রথম জীবনে চুল কাটছি ৫ টাকা আর দাড়ি কাটছি ২ টাকা নিয়ে। সেই সময় নাপিতদের যা আয় হতো তা দিয়েই সংসার ভালো ভাবে চলতো। কিন্তু বর্তমানে ৫০-৬০ চুল ও ১০-১৫ টাকায় দাড়ি কেটেও সারাদিনে যে টাকা পাই  তা দিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হয়।সলঙ্গা চৈত্রহাটি গ্রামের নাপিত সন্দ্ধিব কুমার বলেন,আমি, ৪৫ বছর ধরে এ কাজ করছি। বর্তমানে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সব কিছুর পরিবর্তন হয়ে গেছে। চুল ও দাড়ি কাটার সরঞ্জমে ও যন্ত্রম্পাতির পরিবর্তন হয়েছে। আধুনিক সেলুনগুলোতে এখন আর শান দেয়া ক্ষুর নেই।
এর বদলে এসেছে ব্লেড।  এসেছে শেভ ক্রিম,ফোম,উন্নতমানের লৌশন। যখন আমরা এ কাজ শুরু করেছিলাম তখন এসব ছিল কল্পনার বাইরে।
এখন প্রতিদিন যা উপার্জন করিতা দিয়ে কোনোরকম সংসার চলে যায়। আধুনিক সেলুন দেওয়ার মতো এতো টাকা হাতে নেই।
Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ