আসিফ কাজল।।
হাতে ইউরিন ব্যাগ। দুই হাতে ক্যানোলা ঝুলছে। মুমুর্ষ। তারপরও হেটে বাসা থেকে গাড়িতে উঠছেন। পাশে যেতেই বলে উঠলেন। কাজল ভাই আমি ঢাকায় যাচ্ছি কিডনি ডায়ালেসিস করতে। আমার দুই মেয়ে রুমু ও ঝুম থাকলো। আপনি ওদের দেখে রাখবেন। রফিক ভাই আমার পুর্ব পরিচিত ছিলেন না। আমার বড় মেয়ে মিমকে যখন সরকারী কেসি ইউনিভার্সিটি কলেজে ভর্তি করতে যায় সেদিন তার সাথে পরিচয়। সাথে তার দুই মেয়ে রুম আর ঝুম। তারাও আমার মেয়ে মিমের সাথে ভর্তি হলো। কাকতালীয় ভাবে বাসাও নিল আমার বাসার পাশে। যদিও রফিক ভাইয়ের বাড়ি আমার গ্রামের পাশে বাজারগোপালপুরে। কিন্তু এতোটা পরিচয় ছিল না। তবে এক দিক থেকে তার সাথে আমার মিল ছিল। আমারও টুইন বেবি, রফিক ভাইয়ের রুমু ঝুমু নামে টু-ইন। ফলে কেন জানি তাদের প্রতি পিতৃত্বতুল্য দায়িত্ব স্নেহ ভালবাসা বেড়ে গেল। সেই যে রফিক ভাই ঢাকায় গেলেন তারপর কফিনে মোড়া লাশ আসলো তার। পিতার ইন্তেকালে গভীর হতাশায় পড়ে রুমু-ঝুম। এটা নিয়েও ফেসবুকে লিখি।

দায়িত্ব গ্রহন করেন ঝিনােইদহ পৌরসভার মেয়র জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বড় ভাই সাইদুল করিম মিন্টু। তিনি তাদের পড়া, লেখা, বই কেনা, ভর্তি ও ফরম পুরণের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। মিন্টু ভাইয়ের প্রসারিত হাতে আশ্রয় আর ভরাসা খুজে পায় রুমু-ঝুম। মেয়রের এই সাহসী আর দৃঢ়চেতা মনোভাবে রুমু-ঝুমও মনোনিবেশ করে পড়ালেখায়। রফিক ভাইয়ের বাঁচানোর জন্য আমি আহামরি কিছুই করতে পারিনি। তার কিডনি সংগ্রহ করে দিতে পারিনি। ফেসবুকে লিখে হয়তো তার কিডনি সংগ্রহের জন্য ৫/৭ লাখ টাকা জোগাড় হয়েছিল। আজ রফিক ভাই নেই। তার ছোট মেয়ে ঝুমু ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে চান্স পেয়েছে। আশা করা যায় বড় মেয়ে রুমু হয়তো চান্স পাবে। আমার মতো রুমু ঝুমুর পড়ালেখার দায়িত্ব নেওয়া মেধাবী আর হতদরিদ্রদের বন্ধু মেয়র মিন্টু ভাইও বেজায় খুশি। তারপরও কথা থেকে যায়।
ঝুমুর এই সাফল্যে আজ যে মানুষটি সবচে বেশি খুশি হতেন তিনি হলেন রুমু ঝুমুর পিতা মরহুম রফিক ভাই। ঝুমু যখন এই খবরটি আমাকে ফোনে জানায়, তখন তার কন্ঠনালী যেন সংকুচিত হয়ে আসছিল অশ্রু রাশির ফোয়ারায়।
লেখক
সিনিয়র সাংবাদিক
সাবেক জেলা প্রতিনিধি, বিটিভি।
You must be logged in to post a comment.