অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে আমাদের অ্যাসাইনমেন্ট গুলো দিতে পারে

সিদরাতুল মুনতাহা প্রান্ত
রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২০, ১২:৫৩ অপরাহ্ন
অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে আমাদের অ্যাসাইনমেন্ট গুলো দিতে পারে

আমার কাছে মনে হয় যুগ আধুনিক হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতির সাথে আমাদের কম-বেশি এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তু ডিজিটাল অনলাইন ক্লাস বাংলাদেশের মতো জায়গায় খুবই কঠিন একটা ব্যাপার।

হ্যাঁ, এটা হয়তো সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে কঠিন নয়। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছে আর এই উদ্ভুত মহামারী সংকটে অনলাইন ক্লাস একটা দুষ্কর ব্যাপারের মতো। আমাদের সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং উন্নত ইন্টারনেট ব্যবস্থা ছাড়া অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করা বেশ অবাস্তব চিন্তা।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কিছু শিক্ষার্থী আছে যাদের অনেকের কাছে স্মার্ট ফোন ব্যবস্থা নাই আর থাকলেও ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। পড়ালেখার চেয়েও অন্যান্য সংকট সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভেতর বেশি দেখা যাচ্ছে। টিউশনি করিয়ে যাদের আয় হতো, এই দুর্যোগ ব্যবস্থার কারণে সেই আয় এখন বন্ধ। তারা এই মুহূর্তে বিপদে পড়েছে। অনেকের পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির হয়তো চাকরি নেই। যেখানে জীবনকে টিকিয়ে রাখা তাদের জন্য অসম্ভব হইয়ে পড়েছে সেখানে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ক্লাস তাদের জন্য খুবই কষ্টসাধ্য একটি বিষয়।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেসব শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয় তা আবেদনের তুলনায় শিক্ষাবৃত্তি অনেক কম। যদি একটি ডিপার্টমেন্টের খবর নেওয়া হয়, দেখা যাবে সেখানে অধিকাংশ ছেলেমেয়ে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে আসে। এসময় সারা বিশ্ব যখন একটি দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে তাই সেখানে কাউকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এটা সত্যি, দীর্ঘদিন একাডেমিক পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলে  আমরা একটা বিরাট সমস্যার মুখোমুখি হব। তবে এটাও সত্য, এভাবে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে আমাদের পড়ার বিষয়গুলো খুব একটা বোঝা সম্ভব হবে নয়। এর জন্য গ্রুপ কাজের দরকার হয়। বিভিন্ন বইয়ের দরকার হবে, যা অনলাইন ক্লাসে একেবারে সম্ভব হয়ে উঠবে না।

তবে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে আমাদের অ্যাসাইনমেন্ট গুলো দিতে পারে যা বাড়িতে বসে করা সম্ভব হবে। বিশ্ববিদ্যালয় খুললে তখন আমরা নিজেদের মতো করে পড়ে এবং স্যার ম্যামদের এক্সট্রা ক্লাসের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করে নিতে সক্ষম হব।

তাই আমার মনে হয়, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এই মুহূর্তে অনলাইন ক্লাস করার বিষয়টাকে বিকল্প পদ্ধতি হিসাবে না দেখে যদি ক্যাম্পাস খোলার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিভাবে সুষ্ঠুভাবে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়া যায় এ ধরনের চিন্তাভাবনা করেন, তাহলে হয়তো সবাই এগিয়ে যেতে পারব। অবশ্যই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ফুটিয়ে তুলতে হবে।

লেখক

শিক্ষার্থী, স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ (বাংলা বিভাগ), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি), গোপালগঞ্জ।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ