মোঃ সাইদুল হাসান সেলিম।।
অরিত্রির মর্মান্তিক আত্মহনন, প্রচন্ড নাড়া দিয়েছে সর্বমহলে। ইতিমধ্যেই আমারা অসংখ্য অরিত্রীকে হারিয়েছি অজ্ঞাতে অলক্ষ্যে। ১০ মাসে এগারো আত্মহত্যা কিঞ্চিত পরিমাণ আমাদের বিবেকের টনক নাড়াতে পারেনি। কোচিং বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, এবং ডোনেশন বাণিজ্যের নামে শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত করা হয়েছে। ভয়াবহ নকল প্রবনতা, অর্থনৈতিক তছরুপ, প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় বিপর্যস্ত দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। রাজনৈতিক বিবেচনায় ম্যানেজিং কমিটির দৌরাত্ম্যে বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থার নাকাল অবস্থা। নিয়োগ বাণিজ্য, অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তরা সীমাহীন দুর্নীতিতে আকুন্ঠ নিমজ্জিত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষাবিদ, শিক্ষানুরাগী সবাইকেই গুণগত মানবিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ৯৭ শতাংশ বেসরকারি রেখে , শিক্ষাব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্ব বেসরকারি প্রতিনিধিদের হাতে ছেড়ে দিয়ে, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা অসম্ভব। অবশেষে আদালত স্ব-প্রণোদিত হয়ে শিক্ষা আইন বা নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। বিগত ৮ বছরে আমলাদের দায়িত্বহীনতা ও অবহেলায় একটি শিক্ষা আইন তৈরি করতে পারেনি শিক্ষামন্ত্রণালয়। গুণগত মানের শিক্ষায় মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন মানুষ তৈরি করা শিক্ষার লক্ষ্য হওয়া উচিত। অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের কাছে চাওয়া উচিত একজন মানবিক মানুষ তৈরি করা।
অরিত্রিদের বাঁচাতে, শিক্ষার মানোন্নয়নে এবং শিক্ষার সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণে একযোগে সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষার নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। “অধিকার ছেড়ে দিয়ে, অধিকার দেখানোর মতো বিরম্বরণা আর নেই।”
লেখক
সভাপতি
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম, ঢাকা।
You must be logged in to post a comment.