জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক
রবিবার, ২০ জুলাই, ২০২৫, ৬:২০ পূর্বাহ্ন

শ্রীলঙ্কায় টি-২০ ফরম্যাটের সাফল্য ঘরের মাঠে ধরে রাখতে চায় বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি। লঙ্কানদের পর পাকিস্তানের বিপক্ষেও সিরিজ জিততে মরিয়া লিটন দাস বাহিনী।

ক’দিন আগেই শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট ও ওয়ানডে হারের পর তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। হার দিয়ে শুরুর পর শেষ দুই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজ জিতে টাইগাররা।

টি-২০ সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছে বাংলাদেশ। নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে সাফল্য আদায় করে নিয়েছে তারা। কিন্তু সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে পাকিস্তান ভিন্ন দল। টি-২০তে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সাফল্য বেশি নেই। ভারতের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সাফল্যের হার খুবই খারাপ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২২টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে জয় পেয়েছে মাত্র তিনটিতে এবং হেরেছে ১৯ ম্যাচে। ভারতের বিপক্ষে ১৭ ম্যাচ খেলে মাত্র একটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। এ বছরের মে মাসে পাকিস্তানের মাটিতে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। সিরিজের সবগুলো ম্যাচ হেরে যায় তারা। তাই ঘরের মাঠের সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য প্রতিশোধের মিশন। লঙ্কান সিরিজে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং উন্নতি চোখে পড়ার মতো ছিল। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এবং পারভেজ হোসেন গত কয়েকটি সিরিজে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। তবে পাকিস্তান সিরিজে তাদের বোলিং লাইন আপের বিবেচনায় এবার ব্যাটারদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-২০ সিরিজ জয়ী বাংলাদেশ দলে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ওই সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে জয় পাওয়া একাদশ নিয়েই পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এ দিকে শাদাব খানকে ছাড়াই, খেলবে পাকিস্তান। তবে সফরকারীদের দলে খুশদিল শাহ এবং ফাহিম আশরাফের মতো অলরাউন্ডার রয়েছে, যারা বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত মুখ। গত কয়েক মৌসুমে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) খেলা খুশদিল শাহ মিরপুরে ১২টি ম্যাচ খেলেছেন, যা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া মোহাম্মদ হারিস, ফাহিম আশরাফ, আবরার আহমেদ এবং আব্বাস আফ্রিদিও খেলেছিলেন বিপিএলে। সেটিকেই অস্ত্র বানাতে চাইবে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের টি-২০ অধিনায়ক সালমান আলি আগা জানালেন, বাংলাদেশে খেলার অভিজ্ঞতা তার দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ‘‘এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য। বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই বিপিএল খেলেছে। তাদের সাথে কথা হয়েছে। তারা তাদের ইনপুট দিয়েছে, আমরা ওই অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজিয়েছি।’

পরে সালমানের কথার জবাব দিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন দাস। জানালেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন থাকে, তেমনি তৈরি হয় বন্ধুত্বও। সেই বন্ধুত্বই কখনো কখনো প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা জানার জানালাও খুলে দেয়। ওরা আপনার শক্তি-দুর্বলতা জানতে পারবে। আপনিও পারবেন। ওরা বিপিএল খেলে কন্ডিশন বা সব জানে বলে সমস্যা হবে না। কারণ আমরাও জানি।’

বাংলাদেশ দল : লিটস দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, মোহাম্মদ নাইম, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলি অনিক, শামিম হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, মাহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।

পাকিস্তান দল : সালমান আলী আগা (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, আহমেদ দানিয়াল, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান, হাসান নাওয়াজ, হুসেন তালাত, খুশদিল শাহ, মোহাম্মদ আব্বাস আফ্রিদি, মোহাম্মদ হারিস (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নাওয়াজ, সাহিবজাদা ফারহান (উইকেটরক্ষক), সাইম আইয়ুব, সালমান মির্জা ও সুফিয়ান মুকিম।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ