লক্ষ্মীপুরে জোট সমীকরণে আ.লীগ-বিএনপি, ছাড়তে হতে পারে একাধিক আসন

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
শনিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৮, ৮:৫৫ অপরাহ্ন

মোহাম্মদ আলী, লক্ষ্মীপুর।। 

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীরা সরব হয়ে উঠেছেন। এদের অনেকেই এ বছরের শুরু থেকে রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়ে আসছেন। জেলার সবকটি আসন দখলে নিতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে দেশের বড় এই দুই রাজনৈতিক দল। তবে জোট সমীকরণে দু’দলেরই হাতছাড়া হতে পারে লক্ষ্মীপুরের দুটি আসন। এনিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটারদের মাঝে রয়েছে নানা কৌতুহল।

দলীয় সূত্র জানায়, গেলবার মহাজোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শরিকদল তরিকত ফেডারেশনকে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসন ছেড়ে দিতে হয় আওয়ামী লীগকে। একই সাথে জোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিতে হয় লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসন। এক সময়ের আধিপত্যে বিএনপি’র দূর্গ হিসেবে ব্যাপক পরিচিত এ দুটি আসন। গত নির্বাচন গুলোতে বিএনপি ছাড়া জোটের অন্যকোনো শরিকদল আসনগুলোতে নির্বাচন করে জয় লাভ করতে পারে নি। স্থানীয়দের ধারণা হয়তো সেই কারণে আওয়ামী লীগের শরিকদলকে আসন দুটি ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এবার দুটি আসনই দখলে নিতে চায় আওয়ামী লীগ। কিন্তু জোট সমীকরণের বাইরে গিয়ে আসন দুটিতে আওয়ামী লীগ নির্বাচন করবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক।

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের জন্য এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ১৩ জন। এরমধ্যে রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন খাঁন আওয়ামী লীগ ও তরিকত ফেডারেশন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে। দলীয় একাধিক নেতাকর্মী জানায়, মহাজোটের সমীকরণে আসনটি শরিকদলকে দেওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। হয়তো তা আঁচ করতে পেরেই এমপি হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তরিকতের মনোনয়নও সংগ্রহ করেছেন শিল্পপতি আনোয়ার খান। তাছাড়া জোটের শরিকদল এলডিপিকে আসনটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে বিএনপিতে।
আওয়ামী লীগের একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের শরিকদল জাতীয় পার্টিকে আসনটি দেওয়া হয়। এবারও সেই সম্ভাবনা দেখছেন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝেও সেই আশঙ্কা রয়েছে। তবুও এ আসনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন ১৮ জন। এদের মধ্যে রয়েছেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ (সাবেক এমপি), শিল্পপতি কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুল, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. এহসানুল কবির জগলুল, জেলা যুবলীগের সভাপতি এ কে এম সালাহ্ উদ্দিন টিপুসহ আরো অনেকে। আবার জোটের সিদ্ধান্ত হলে আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দিতে হবে বিএনপি। কারণ এ আসনে জামায়াতেরও রয়েছে বিশাল ভোট ব্যাংক।

অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে রয়েছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান। আওয়ামী লীগের হয়ে এ আসনে নির্বাচন করতে চান বর্তমান বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপি। তার বিকল্প হতে পারে ঢাকা মোহাম্মপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সাত্তার। জোট সমীকরণে আসনটি হারানো কোনো আশঙ্কা নেই আওয়ামী লীগের। তবে ৮ম ও ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত এমপি ও বর্তমান কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি আবারো এ আসন থেকে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। এনিয়ে জোটের বিকল্প কোনো সমীকরণ নেই বলে মনে করছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। তবে বিএনপি জোটের শরিকদল জামায়াতের প্রার্থী ডা. আনোয়ারুল আজিম ভোটারদের নিকট আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। সে হিসেবে শরিক দু’দলের ভোট ব্যাংক একত্রিত না হলে আওয়ামী লীগের পথ পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের আব্দুল্লাহ আল মামুন। তবে এরআগের দুই নির্বাচনেই এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপি’র আশরাফ উদ্দিন নিজাম। অবশ্য এবারের দৃশ্যপট ভিন্ন বলে অনেকাংশেই পরিষ্কার ভোটারদের চোখে। কারণ ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষনেতা ও জেএসডি’র কেন্দ্রীয় সভাপতি আ স ম আব্দুর রব এবং বিকল্পধারা থেকে মেজর আব্দুল মান্নান আসনটির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। নির্বাচনে এই দুই ভিআইপি’র লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র প্রার্থীদের অবস্থান কতটুকু তা নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক।

জেলা বিএনপি’র সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, লক্ষ্মীপুরের ৪টি আসনেই বিএনপি’র শক্ত অবস্থান রয়েছে। তবে জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যে দলের প্রার্থী মনোনয়ন পাবে তার জন্যই আমরা একযোগে কাজ করবো। আমরা আশাবাদি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি জোটের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, অন্যান্য সময়ের তুলনায় বর্তমানে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগ সুসংগঠিত। সরকারের বিগত ১০ বছরের উন্নয়ন কর্মকান্ডে এখানে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। আমরা চেষ্টা করছি জোটের হাতে থাকা আসনগুলো উদ্ধার করতে। তাছাড়া আগামী নির্বাচনে লক্ষ্মীপুরের ৪টি আসনে নৌকার প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয় লাভ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

১৯৭০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ ১ বার, বিএনপি ৫ বার, জাতীয় পার্টি ১ বার এবং সম্মিলিত বিরোধী দল থেকে ১ বার এমপি নির্বাচিত হয়। লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনে আওয়ামী লীগ ৪ বার, বিএনপি ৬ বার ও জাতীয় পার্টি থেকে ৩ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছে। লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগ ৩ বার, বিএনপি ৫ বার, জাসদ ১ বার ও জামায়াত থেকে ১ বার এমপি নির্বাচিত হয়। লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনে আওয়ামী লীগ ২ বার, বিএনপি ৪ বার, মুসলিম লীগ ১ বার, কমিউনিষ্ট পার্টি ১ বার ও জেএসডি থেকে ৩ বার এমপি নির্বাচিত হয়।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ