যুক্তরাষ্ট্রের নয়া ফন্দি, তুরস্কের কাছে বেচতে চায় পেট্রিয়ট

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
বুধবার, ১৮ জুলাই, ২০১৮, ১১:২০ পূর্বাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের নয়া ফন্দি, তুরস্কের কাছে বেচতে চায় পেট্রিয়ট। ছবি : সংগৃহীত।

অন্যদৃষ্টি অনলাইন।।

আমেরিকার রাজনৈতিক ও সামরিক বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত সহকারী মন্ত্রী কাইদিয়ানভ বলেছেন, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রির বিষয়টি নিয়ে তুরস্কের সাথে আলোচনা করছে। পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা সম্পর্কে তুরস্ককে একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা চলছে।

রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রির জন্য তুরস্ককে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে আমেরিকা। তবে এ নিয়ে তুর্কি সরকারের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের কোনো বৈঠক হয়েছে কিনা তা জানান নি কাইদিয়ানভ।

তুরস্ক যখন রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার জন্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে তখন আমেরিকার পক্ষ থেকে তা বানচালের চেষ্টা হচ্ছে। তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিমান বিক্রি না করারও হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

আমেরিকা এবং ন্যাটোর আরো কিছু সদস্য দেশ বলছে, রাশিয়া থেকে তুরস্ক এস-৪০০ কিনলে তাতে ন্যাটোর ভেতরে অচলাবস্থা দেখা দেবে। তুরস্ক নিজেও নাটোর সদস্য।

বি-২ যুদ্ধবিমানে করে বি-৬১ পারমাণবিক বোমার সর্বাধুনিক ১২তম সংস্করণের সফল বহনের পরীক্ষা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এই পরীক্ষা চালানোর খবর প্রকাশ করার পর যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দায় সরব হয়েছে  রাশিয়ার সামরিক বিশেষজ্ঞ ও রাষ্ট্রীয় মিডিয়া। তারা এ ঘটনায় উদ্বেগও প্রকাশ করেছে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র নতুন প্রযুক্তি এই পারমাণবিক বোমা বিমানে বহনের সফল পরীক্ষা চালানোর খবর প্রকাশ করে। আর নতুন এই বোমা তুরস্কে মোতায়েন করার চিন্তা করছে যুক্তরাষ্ট্র এমনটাও জানিয়েছে, রুশ সংবাদমাধ্যম।

বি-৬১ পারমাণবিক বোমার সর্বাধুনিক সংস্করণ(১২) তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি বিমানে বহনযোগ্য। বোমাটির বহনের সফল পরীক্ষার পরই এই খবরে নড়েচড়ে বসেছে রাশিয়া। রুশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অত্যাধুনিক পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম বিমানকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে এই পরীক্ষার মাধ্যমে।

সেনাবাহিনীর সাবেক কর্নেল ও সামরিক বিশ্লেষক আলেকজান্ডার ঝিলিন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আরআইএ’কে বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী মানসিকতা এখনো টিকে আছে, যা অতিমাত্রায় বর্বর।’

আরেক রুশ বিশেষজ্ঞ সের্গেই সুডাকোভ যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক বি-৬১(১২) পরীক্ষাকে ‘দম্ভ ও শক্তিপ্রদর্শন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, নতুন এই বোমা কেবল তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জন্য হুমকি হয়ে দেখা দেবে। যেসব দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল, তাদের সাথেই এই বোমা ব্যবহার করা যাবে।

রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ বলছে, তুরস্কের ইনকিরলিক বিমান ঘাঁটিতে নতুন এই বোমা ও এর বহকারী বিমান মোতায়েন করবে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডেও এটি মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

বি-২ বিমান ছাড়াও পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমানেও বহন যোগ্য নতুন এই বোমা। ২০২০ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র অতিরক্তি হিসেবে এ ধরনের বিমানও মোতায়েনের চিন্তা করছে, বিদেশে তাদের ঘাঁটিগুলোতে।

 

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ