মহেশখালীতে গৃহবধূ হত্যায় কলেজ প্রভাষক স্বামীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামল,।স্বামী পলাতক
কক্সবাজারেরমহেশখালীতে গৃহবধু আফরোজা নিখোঁজ হওয়ার ৬ দিন পর স্বামীর বাড়ির আঙ্গিনার গর্তে লাশের হদিস মেলে। উক্ত হত্যাকান্ডে স্বামী কলেজ প্রভাষক রাকিব হাসান বাপ্পী কে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে নিহতের পরিবার। মামলার অন্যান্য আসামিরা হল রাকিবের তালাকপ্রাপ্তা প্রথম স্ত্রী কামিনী আফরিন কনা,বাপ্পীর মা রোকেয়া হাসান,ভাই আসিফ ও ভগ্নিপতি শহীদুল ইসলাম কাজল।
কিন্তু নিখোঁজের ৬দিন পর লাশ পাওয়ার পর ঘাতক স্বামীর পরিবার পলাতক আছে। এদিকে মহেশখালী থানার পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে বলে জানাযায়। নিহত আফরোজা মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পূঁইছড়া গ্রামের মোঃ ইসহাকের মেয়ে। আর স্বামী কালারমারছড়া উত্তর নলবিলার বাসিন্দা হাসান বশিরের পুত্র রাকিব হাসান বাপ্পি।
সূত্র মতে, কলেজ শিক্ষক রাকিব হাসান বাপ্পীর স্ত্রী আফরোজা বেগম পরকিয়ার জেরে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার দাবি করে শশুর বাড়ীর লোকজন। তখন থেকে আফরোজা বেগম কে হন্য হয়ে খুঁজতে থাকে তার পরিবার। অন্যদিকে তার স্বামী বাপ্পী রহস্যজনক উধাও হয়ে যায়।
বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির হদিস না মিললে তার ভাই বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে। এক পর্যায়ে গত ১৭ অক্টোবর শনিবার রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে আফরোজা বেগমের সন্ধান পাওয়া যায় তার শশুর বাড়ির আঙিনার গর্তে। পুলিশ এসে গর্ত থেকে হতভাগা আফরোজা বেগমের অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করে। লাশের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।এনিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
১৮ অক্টোবর (রবিবার) ময়না তদন্ত শেষে সন্ধ্যায় আফরোজার লাশ জানাজা শেষে দাফন করা হয়। স্থানীয় জনতা মানববন্ধন করে খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানায়। এঘটনায় ইতিপূর্বের দায়ের হওয়া অপহরণ মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়-নিহত আফরোজা বেগম (২৪) হোয়ানক ইউনিয়নের পুঁইছড়া এলাকার মোহাম্মদ ইসহাকের মেয়ে। তার স্বামী রাকিব হাসান বাপ্পী উত্তর নলবিলার হাসান বশিরের ছেলে। তিনি চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক। গত ১১ মাস আগে আফরোজার সাথে তার বিয়ে হয়। আফরোজার আগে বাপ্পীর আরও এক স্ত্রী ছিল। তার সাথে ডিভোর্স হলে আফরোজা কে বিয়ে করে। প্রথম স্ত্রীর সাথে বাপ্পীর পুনরায় যোগাযোগ শুরু হলে সংসারে টানাপোড়েন শুরু হয়। এ নিয়ে আদালতে মামলা পর্যন্ত গড়ায়। বাপ্পীর প্রথম স্ত্রীর ৫ বছর বয়সী এক কন্যা শিশু রয়েছে। সেই শিশুটিই লাশ গুমের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বলে জানা গেছে।
এদিকে শনিবার রাত ১১টায় সহকারী পুলিশ সুপার (মহেশখালী) জাহেদুল ইসলাম, মহেশখালী থানার অফিসার ইন-চার্জ(ওসি) মো. আবদুল হাই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে বাপ্পীর বাড়ির উঠোনের মাটি খুঁড়ে আফরোজার লাশ উদ্ধার করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জহিরুল জানান- আফরোজার লাশটি প্রায় অর্ধ গলিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয। তার ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আসামিদের সন্ধানে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেন।
এদিকে ১৮ অক্টোবর (রবিবার) সন্ধ্যায় আফরোজার মরদেহ হোয়ানকের বাবার বাড়িতে এসে পৌঁছুলে স্থানীয়রা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এ সময় তারা আফরোজার ঘাতকদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভও মানববন্ধন করে।
You must be logged in to post a comment.