গাইবান্ধা প্রতিনিধি।।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের খামার বোয়ালী গ্রামে আলাই নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে পাশ্ববর্তী ফসলি জমি নদীতে ভেঙ্গে যাওয়ায় ১১ জনের নামে গাইবান্ধা আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন শফিউল আলম নামের এক ব্যক্তি। তিনি ওই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য।
মামলার বিবরণে জানা যায়, খামার বোয়ালী গ্রামের শফিউল আলমের ফসলি জমি সংলগ্ন আলাই নদী থেকে একই গ্রামের দুলাল চন্দ্র সাহা, আনোয়ারুল ইসলাম, জহুরুল ইসলাম বাদশা, বাচ্চা মিয়া, বজলুর রহমান, শাহাজাহান মিয়া, জেনা মিয়া, ছদল হোসেন, জাহিদুল ইসলাম, মজনু মিয়া ও আব্দুস সালাম একত্র হয়ে বালু উত্তোলন শুরু করেন।
এতে করে শফিউল আলমের ২৮ শতক জমির মাটি নদীতে ভেঙ্গে যায় ও গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়। তিনি মৌখিকভাবে তাদেরকে বালু তুলতে নিষেধ করলেও তা না শুনে তারা শফিউল আলমকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন। এব্যাপারে গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা করতে গেলে তা না নেওয়ায় পরে শফিউল আলম গাইবান্ধা আমলী আদালতে গিয়ে মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ৬ মাস থেকে খামার বোয়ালী গ্রামে আলাই নদীর ত্রিমোহিনী-বালাসীঘাট রেললাইনের সেতুর দক্ষিণ পাশে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। সেই উত্তোলন করা বালু গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কের প্রশস্ত করণ কাজে ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দেয় বালু উত্তোলনকারীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবলীগ নেতা জানায়, স্থানীয় জনগনের সহায়তায় বালু উত্তোলন বন্ধে পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পায়নি।
সরেজমিন খামার বোয়ালী গ্রামে আলাই নদীতে বালু উত্তোলনের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অন্যের জমি লিজ নিয়ে বিশাল এলাকা জুরে বালু স্তুপ করে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে প্রতিদিন বালু বিক্রি করছে বালু উত্তোলনকারী চক্রের মুল হোতা আনোয়ারুল ইসলাম, তার ভাতিজা মিন্টু মিয়া ও তার সহযোগিরা।
এসব বালু পরিবহনের জন্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কেটে চলাচল করেছে ট্রাক্টর। ফলে বাঁধ ও রাস্তা অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। শফিউল আলম বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আমার ফসলি জমির ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। এছাড়া আশপাশের অনেকের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।
এ ব্যাপারে বালু ব্যবসায়ী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এখানে এর আগে অনেকেই বালু উত্তোলন করেছে। তখন কেউ বাধা দেয়নি। তাই আমরাও নদী থেকে বালু উত্তোলন করছি এবং সরকারি কাজে ঠিকাদারদের কাছে বালু বিক্রি করছি।
তিনি আরও বলেন, দুলাল চন্দ্র সাহার সাথে শফিউল আলমের জমাজমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। জমির ধান কাটাকে কেন্দ্র করে দুলাল চন্দ্র সাহা একটি মামলা করেন শফিউল আলমের বিরুদ্ধে। ওই মামলায় আমরা স্বাক্ষী। তারই জের ধরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুলাল চন্দ্র সাহাসহ আমাদের ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন শফিউল আলম। তার ভাতিজা মিন্টু মিয়া বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলন বৈধ না অবৈধ তা বুঝি না। আমরা বালু সরবরাহ বন্ধ করে দিলে সরকারি অনেক কাজ বন্ধ হয়ে যাবে।
দ্রুত খামার বোয়ালী গ্রামে আলাই নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে এলাকার পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিবে। এলাকাবাসির দাবি অবিলম্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে এগিয়ে আসবে।
You must be logged in to post a comment.