বন্ধ হচ্ছে অস্তিত্বহীন ১৮৯ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
বৃহস্পতিবার, ২৮ জুন, ২০১৮, ৪:০৪ পূর্বাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার।।

একযোগে ২০২টি দাখিল মাদ্রাসা বন্ধের পর এবার বন্ধ হচ্ছে অস্তিত্বহীন ১৮৯টি স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা। এসব প্রতিষ্ঠানের এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশন আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ইআইআইএন) থাকলেও বাস্তবে অস্তিত্ব নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) জাবেদ আহমেদ বলেন, ‘বিকালে অস্তিত্বহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা পেয়েছি। এসব প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন নম্বর থাকলেও স্বীকৃতি নেই। ফলে এমপিও নেই। এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) সালমা জাহান বলেন, ‘অস্তিত্বহীন ১৮৯ স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার মধ্যে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে কিনা, থাকলে কতটি প্রতিষ্ঠানের এমপিও রয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে অধিদফতরের কাছে। এ তালিকার মধ্যে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলের জন্য অধিদফতরকে নির্দেশ দেওয়া হবে। আর যেসব প্রতিষ্ঠানের এমপিও নেই সেগুলোর পাঠদান ও একামিক স্বীকৃতি বাতিল করবে অধিদফতর ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড। সেভাবেই নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।’

অস্তিত্বহীন ১৮৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘ প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা চেয়েছি। মন্ত্রণালয় এখনও নির্দেশনা দেয়নি। এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা জরুরি। মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দিলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’

মন্ত্রণালয় ও মাউশির তথ্যে জানা গেছে, সারা দেশে ইআইআইএন নম্বরধারী, অনুমোদনহীন ও স্বীকৃতিবিহীন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা মোট এক হাজার ৭৫৮টি। এর মধ্যে ইআইআইএন নম্বরধারী প্রতিষ্ঠান অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান ১৮৯টি। অনুমোদনহীন ও স্বীকৃতিবিহীন প্রতিষ্ঠান এক হাজার ৫৬৯টি।

দেশের নয়টি অঞ্চলের ১৮৯টি অস্তিত্বহীন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার মধ্যে ঢাকায় ২০টি, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ৭টি, সিলেট অঞ্চলে ৮টি, বরিশাল অঞ্চলে ২২টি, রাজশাহী অঞ্চলে ৫৯টি, রংপুরে ৭০টি এবং চট্টগ্রামে ৩টি।

মন্ত্রণালয় ও মাউশি সূত্রে জানা গেছে, গত বছর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সারা দেশে অস্তিত্বহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কতটি তা জানতে মাউশির পরিচালকের কাছে চিঠি দেয়। মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য পাওয়ার পর গত ৩ এপ্রিল মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. মাহাবুবুর রহমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর চিঠি দিয়ে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা চান।
মাউশির ওই চিঠির পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এসব প্রতিষ্ঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে। গত ৪ জুন মহাপরিচালক বরাবর আবার চিঠি দেয় মন্ত্রণালয়। উপসচিব মো. কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত চিঠিতে ওই চিঠিতে বলা হয়, যেসব প্রতিষ্ঠানের বাস্তবে অস্তিত্ব নেই অথচ এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশন আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (ইআইআইএন) রয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত কিনা তা যাচাই করে সাত দিনের মধ্যে তথ্য পাঠানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জানানো হয়, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা পেলে ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া হবে।

 

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ