নওগাঁর পোরশা উপজেলাধীন হরিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুদ্দীনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় পরিচালনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ করেন অত্র বিদ্যালয়ের এসএমসির সভাপতি, সদস্য,অভিভাবক ও বিদ্যালয় ক্যাচমেন্ট এলাকার জনসাধারন। প্রধান শিক্ষক শামসুদ্দীনের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান একাধিক সভাপতি।
এসএমসির সাবেক সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, আমি বিদ্যালয়ের সভাপতি থাকা কালে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাগজে আমার স্বাক্ষর জাল করে ও স্লিপের অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ের প্রায় সকল কাগজে আমার জাল স্বাক্ষর করে স্লিপের টাকা উত্তোলন করে তা যথাযথ ব্যায় করেনি।উপরোক্ত বিষয়গুলি আলোকপাত করে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর ০৪-০১-২০২০ ইং তারিখে অভিযোগ করি কিন্তু সেই অভিযোগের কোন প্রতিকার না পেয়ে আবারও এসএমসির বর্তমান ও সাবেক ৪ সভাপতি, সদস্য,অভিভাবক ও স্থানীয় জনসাধারন সহ একই অফিসে অভিযোগ করলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাজহারুল ইসলাম গত ১৯/০১/২০২৩ ইং তারিখে জাল স্বাক্ষর সহ সকল অভিযোগের তদন্ত করেন এবং সকল অভিযোগ যথাযথভাবে প্রমান করতে সমর্থ হই। তিনি আরো বলেন,উক্ত তদন্ত কাজে আমি নিজে উপস্থিত থেকে প্রত্যক্ষ করেছি তাতে মনে হয়েছে এটি লোক দেখানো ও তদন্তের রিপোর্ট নিয়ে তালবাহানা করায় অধিকতর তদন্তের জন্য নওগাঁ জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করি। সেই অভিযোগের আলোকে গত ০৬-০৩-২৩ ইং তারিখে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সকল সভাপতি,সদস্য,অভিভাবক ও জনসাধারনের উপস্থিতিতে তদন্তে আমার সকল অভিযোগ প্রমান করতে সক্ষম হই। উল্লেখ্য সেই তদন্তে অনুপস্থিত থাকার জন্য বিভিন্নভাবে আমাকে চাপ সৃষ্টি করেছিলো।
এ বিষয়ে এসএমসির বর্তমান সভাপতি আব্দুল মতিন জানান, প্রধান শিক্ষক শামসুদ্দীন পূর্বের সভাপতির ন্যায় আমার স্বাক্ষরও জাল করে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের স্লিপের পরিকল্পনা অফিসে জমা দেন। সেই জাল স্বাক্ষরের ব্যাপারে মৌখিকভাবে অফিসে জানালে, অফিস তা বাতিল করে পুনরায় স্লিপ পরিকল্পনা জমার নির্দেশ দেন।কিন্তু আমি পূর্বের সকল অভিযোগের সুরাহা না হওয়া পর্যন্তু সকল ধরনের স্বাক্ষর থেকে বিরত থাকলে আমাকে বিশ্বস্ত মাধ্যমে হুমকি প্রদান করে বলেন,”নতুন স্লিপ পরিকল্পনায় হয় স্বাক্ষর করো, না হয় পদত্যাগ করো”।তিনি আরো বলেন, আমি চরমভাবে মানসিক বিপর্যস্ত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক শামসুদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাজহারুল ইসলাম বলেন,প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের বিষয়ে একাধীক তদন্ত হয়েছে এবং রিপোর্ট অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অফিস ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন।#
You must be logged in to post a comment.