জয়খরা কাটালো: ৯ বছর পর পাকিস্তানকে হারালো বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক
রবিবার, ২০ জুলাই, ২০২৫, ৯:৫৯ অপরাহ্ন

অবশেষে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়খরা কাটালো বাংলাদেশ। ফুরালো দীর্ঘ ৯ বছরের আক্ষেপ। ১২ ম্যাচ পর দলটির বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে জয় পেলো টাইগাররা। ধরে রাখলো সাফল্যের ধারা।

বোলারদের গড়ে দেয়া মঞ্চে উদযাপনের শেষটা টানলেন ব্যাটাররা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৭ উইকেটের জয় পেলো বাংলাদেশ। ১১১ রানের লক্ষ্য ১৫.৩ ওভারে ৭ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে গেছে টাইগাররা।

১১১ রানের ছোট লক্ষ্য, দেখেশুনে খেললে আধুনিক ক্রিকেটে তা সহজই বটে। তবে তা তাড়া করতে নেমেই বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। ২.২ ওভারে মাত্র ৭ রান তুলতেই হারায় ২ উইকেট।

প্রথম ওভারেই ফেরেন তানজিদ তামিম। ৪ বলে মাত্র ১ রান করেই ক্যাচ দেন তিনি। ২ রানেই ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। আর ২.২ ওভারে ফেরেন লিটন (১)। দুজনকেই ফেরান সালমান মির্জা।

এরপর দলকে টানতে থাকেন পারভেজ ইমন ও তাওহীদ হৃদয়। শুরুর ধাক্কা সামলে জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে দেন তিনি। ৬২ বলে গড়েন ৭৩ রানের জুটি। হৃদয় ফেরেন ৩৭ বলে ৩৬ করে।

টি-টোয়েন্টিতে ১০ রানের কমে প্রথম ২ উইকেট খোয়ানোর পর তৃতীয় উইকেটে যা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জুটি। ১২.৩ ওভারে দলীয় ৮০ রানে ৩য় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তখনো প্রয়োজন ৩১ রান।

তবে তা সহজেই পেরিয়ে যায় টাইগাররা। শ্রীলঙ্কায় শেষ দুই ম্যাচেই শূন্য রানে ফেরা পারভেজ ইমন তুলে নেন ফিফটি, ৩৪ বলে পৌঁছান এই মাইলফলকে। দলও পেরিয়ে যায় তিন অংকের গণ্ডি।

পাঁচে নামা জাকের আলিও দেন দারুণ সঙ্গ। মাত্র ১৮ বলে ৩২ রানের জুটি গড়ে নিশ্চিত করেন জয়। ইমন ৩ চার ৫ ছক্কায় ৩৯ বলে ৫৬ ও ১০ বলে ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন জাকের।

এর আগে রোববার মিরপুরে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে মোস্তাফিজুর রহমানের রেকর্ড গড়া বোলিং আর তাসকিন আহমেদের ৩ উইকেটের বদৌলতে ১৯.৩ ওভারে মাত্র ১১০ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।

বল হাতে প্রথম ওভারেই সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। শেখ মেহেদীর বলে সহজ একটি ক্যাচ মিস করেন তাসকিন, জীবন দেন ফখর জামানকে। পরের ওভারে নিজেই বোলিংয়ে এসে অবশ্য প্রায়শ্চিত্ত করেন তার।

ফখর জামানকে অবশ্য ফেরাতে পারেননি, ফেরান আরেক ওপেনার সাইম আইয়ুবকে। তাতে ১৮ রানে ভাঙে পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি। সাইম ফিরেছেন ৪ বলে ৬ করে।

পরের ওভারে এসে তিনটি বলে বাউন্ডারি হজম করেন মেহেদী। তবে শেষ বলে ফিরিয়েছন মোহাম্মদ হারিসকে। ৩ বলে ৪ রান করে শামীম হোসেনকে ক্যাচ দেন তিনি। ৩২ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন হয়।

চারে নামা পাকিস্তান অধিনায়ক আগা সালমানকে থিতু হতে দেননি তানজিম সাকিব। নিজের প্রথম ওভার করতে এসে প্রথম পাঁচ বলে রীতিমতো নাচিয়ে শেষ বলে (৯ বলে ৩) সালমানকে লিটনের ক্যাচে পরিণত করেন।

নিজের প্রথম ওভার করতে এসে উইকেট তুলে নেন মোস্তাফিজুর রহমানও। ৫.৫ ওভারে তার শিকার হাসান নাওয়াজ। চার বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি হাসান। তবে তখনো মাঠে ছিলেন ফখর।

ফখরকে রেখে ৭.৪ ওভারে ফেরেন মোহাম্মদ নাওয়াজও, ৫ বলে ৩ রান নিয়ে রান আউট হন তিনি। মাত্র ৪৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে তখন রীতিমতো ধুঁকতে থাকে পাকিস্তান।

তবে এরপর ফখর আর খুশদিল শাহ মিলে হাল ধরার চেষ্টা করেন। এর মাঝেই ফের জীবন পান ফখর। মেহেদীর বলে মেহেদীকেই ফিরতি ক্যাচ দিলেও তা নিতে পারেননি তিনি।

যদিও ইনিংস বেশি বড় হয়নি আর, ১১.৩ ওভারে ৭০ রানের মাথায় তিনিও ফেরেন রান আউট হয়ে। মোস্তাফিজের বলে তাসকিনের থ্রো ধরে স্ট্রাইকিং প্রান্তের উইকেট ভাঙেন লিটন।

৩৪ বলে ৪৪ রান করেন ফখর। তখন পর্যন্ত তিনি ছাড়া পাকিস্তানের আর কেউ দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেনি! এরপর দলকে তিন অংকে পৌঁছে দিয়ে ফেরেন খুশদিল, মোস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকার হন ২৩ বলে ১৭ করে।

শেষ দিকে নেমে অবশ্য দারুণ ব্যাট করেন আব্বাস আফ্রিদি। তবুও পুরো ২০ ওভার ব্যাট করতে পারেনি পাকিস্তান। শেষ ওভারের প্রথম তিন বলে পতন হয় ৩ উইকেটের। তাসকিন নেন জোড়া উইকেট।

ফাহিম আশরাফ (৫) ও আব্বাস আফ্রিদি (২২) তাসকিনের শিকার হোন। মাঝে সালমান মির্জা ফেরেন রান আউট হয়ে কোনো রান না করেই। ১১০ রানেই শেষ হয় পাকিস্তানের ইনিংস।

যা বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের এই সংস্করণে দলীয় সর্বনিম্ন। আগের সর্বনিম্ন ১২৯/৭, ২০১৬ সালে মিরপুরেই এশিয়া কাপে।

বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন মোস্তাফিজ। পুরো চার ওভার বল করে এরচেয়ে কম রান দেয়ার রেকর্ড নেই আর কোনো বাংলাদেশীর। অন্যদিকে ২২ রানে ৩ উইকেট শিকার তাসকিনের।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের এশিয়া কাপে সর্বশেষ পাকিস্তানকে হারায় বাংলাদেশ। এরপর আরো ১২টি ম্যাচ খেলেও জিততে পারেনি টাইগাররা। সব মিলিয়ে ২৩ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪র্থ জয় পেল টাইগাররা।

এদিকে ওয়ানডে, টেস্টের পর টি-টোয়েন্টিতেও দেশের মাটিতে প্রথমবার নেতৃত্ব দিতে নেমেই জয় পেলেন লিটন দাস।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ