ছাত্র আন্দোলন নসাৎ করতেই বিএনপিকে জড়ানোর চক্রান্ত -মির্জা ফখরুল

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
রবিবার, ৫ আগস্ট, ২০১৮, ১০:৪২ অপরাহ্ন
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : ফাইল ছবি।

অন্যদৃষ্টি অনলাইন।।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নস্যাৎ করতেই সরকার বিএনপিকে জড়ানোর নতুন চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্যই সরকার নতুন চক্রান্ত করেছে। বিভিন্নভাবে বিএনপিকে কিছু সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত করবার আবার অপপ্রয়াস শুরু করেছে। গত দুইদিন ধরে আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীরা যে ভাষায় কথা বলছেন ও বিএনপিকে যেভাবে জড়ানোর চেষ্টা করছেন এর একটাই উদ্দেশ্যে যে, ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা, আন্দোলনকে নসাৎ করে দিয়ে আবার গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর ওপরে আক্রমণ শুরু করা এবং সেটা তারা করেছেও।

তিনি বলেন, আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, আমরা গণতন্ত্রের বিশ্বাসী, গণতন্ত্রের চর্চা করি। আমরা কখনো কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপকে প্রশ্রয় দেই না। অতীতেও কখনো দেইনি ও এখনো দেইনা।

শনিবার ধানমন্ডি ও জিগাতলায় শিক্ষার্থীদের ওপরে ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের’ হামলার ঘটনার চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নিরীহ কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ওপরে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হেলমেট পড়ে আক্রমণ চালায়, প্রচণ্ডভাবে তাদের আহত করেছে। এই সমস্ত নিরীহ অসহায় ছাত্র-ছাত্রীরা আশ্রয় নিতে গেলেও পুলিশ আশ্রয় দেয়নি।

তিনি বলেন, আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, বেশ কিছু শিক্ষার্থীরা মারাত্মকভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে গেছে। এএফপি বলছে, প্রায় একশ’র মতো আহত হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, কোটা আন্দোলনকারীদের সাথে প্রতারণার পর সরকারের কথা শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করতে পারছে না, জনগনও বিশ্বাস করতে পারছে না। কারণ এই বিশ্বাসযোগ্যতা তারা হারিয়ে ফেলেছে। সেজন্য সারাদেশে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা বড়দেরকে শিক্ষা দিয়ে ওরা মাঠে নেমে এসে তাদের দাবি আদায়ে আন্দোলন করছে।

তিনি বলেন, সরকারের এই ব্যর্থতা শুধু পরিবহন ক্ষেত্রে নয়, রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ। সংসদ নেই, বিরোধী দল নেই, প্রশাসন সম্পূর্ণ দলীয়করণ করে ফেলেছে। সরকার নির্বাচন কমিশন শেষ করে দিয়েছে, বিচার বিভাগকে শেষ করেছে। এই রাষ্ট্রকে ব্যর্থ রাষ্ট্রের পরিণত করেছে। আমরা আহবান জানাচ্ছি সমগ্র দেশে মানুষের কাছে, জাতির উপর চেপে থাকা এই জগদ্দল পাথর সরানোর জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে এই পাথরকে, এই স্বৈরাচার সরকারকে সরাতে হবে।

বার্ণিকাটের গাড়িতে আওয়ামী সন্ত্রাসীরাই হামলা করেছে
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্ণিকাটের গাড়িতে আওয়ামী সন্ত্রাসীরাই হামলা করেছে অভিযোগ করে এটাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার শামিল হিসেবে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে তাদের গ্রেফতারের দাবিও করেছেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি। সে দেশের রাষ্ট্রদূতের ওপরে আক্রমণ হওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ হওয়ারই শামিল। এই ঘটনা বাংলাদেশে ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গণে প্রচণ্ড রকমের একটা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আমরা অবিলম্বে এই আওয়ামী সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, বার্নিকাট শনিবার সুজনের পরিচালক বদিউল আলম মজুমদারের বাসায় নৈশভোজে গিয়েছিলেন। এই নৈশভোজের পর তিনি যখন বাসা থেকে বেরুচ্ছিলেন তখন আগে থেকেই আওয়ামী সন্ত্রাসী সেখানে জড়ো হয়েছিলো এবং ধাক্কাধাক্কি করছিলো গেটে। যখন বেরিয়েছেন তখন গাড়ির ওপর আক্রমণ করেছে, ইট-পাথর মেরেছে। ড্রাইভার আহত হয়েছেন ব্যক্তিগত যারা নিরাপত্তা প্রহরী ছিলেন তাদের কারণে তিনি নিজে রক্ষা পেয়েছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন,সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম সাহবকে আমরা সবাই চিনি। তিনি একজন অত্যন্ত দেশপ্রেমিক ও স্পষ্টবাদী মানুষ। তার বাড়িতে আক্রমণ করা ও তার ছেলের ওপর আক্রমণ করাকে আমরা মনে করি যে, মুক্ত চিন্তার ওপরে আঘাত করা।

খসরুর ফোনালাপ বিকৃত কন্ঠস্বর দিয়ে তৈরি
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামে যে অডিও প্রকাশ করা হয়েছে তা বিকৃত কন্ঠস্বর দিয়ে তৈরি বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল । তিনি বলেন, এই সরকারের দুরাচার সকলে জানে। নিজেরাই ঘটনা তৈরি করে সেই দোষ চাপিয়ে দেয়। আপনারা দেখেছেন, আন্দোলনগুলো নসাৎ করার জন্য নিজেরা গাড়ি জ্বালিয়ে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়েছে।

ফখরুল বলেন, আমীর খসরু সাহেব কী বলেছেন শুনিনি। কথিত অডিও অনুযায়ী বলেছেন যে বসে আছো কেনো? ছাত্রদের সাথে নেমে পড়ো, মাঠে নামো। এই কথাটা কোন প্রেক্ষিতে কিভাবে কখন বলেছেন সেটা তো সেখানে বলা নেই।
তিনি বলেন, এটা তো অপরাধ নয়। ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে গোটা দেশের মানুষ তো নেমে পড়েছে। অপরাধটা কোথায়? তবে আপনি সেটা বলেছেন যে কন্ঠস্বর বিকৃত করে।

তিনি বলেন, শনিবার রাতে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাসায় দুইবার পুলিশ অভিযান চালিয়েছে তাকে গ্রেফতার করার জন্য। আমাদের ছাত্রদলের নেতাদের বাসায় বাসায় তল্লাশি ও তাদের গ্রেফতার করেছে। পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করেছে।

নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, নাজিমউদ্দিন আলম,আবদুস সালাম আজাদ, আসাদুল করীম শাহীন, শাহিন শওকত, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

 

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ