রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা, যৌতুক, চোরাচালান, সন্ত্রাস ও নাশকতা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জানে আলমের অনুউপস্থিতিতে গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি মোঃ কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মালেক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুফিয়া খাতুন মিলি।
বক্তব্য প্রদান করেন, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আশোক কুমার চৌধুরী, বাংলাদেশ ওয়ার্কস পাটির রাজশাহী জেলার সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল, মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাংবাদিক কলামিষ্ট মোঃ হায়দার আলী, চর আষাড়িয়াদহ ইউপি চেয়ার ম্যান মোঃ আশরাফুল হক, বাসুদেবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলামসহ জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, দপ্তরের প্রধানগণ সুধিজন উপস্থিত ছিলেন।
বক্তরা বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা খুবই শক্তিশালি, মাদক ব্যবসায়ীরা বলে পুলিশ, বিজিপি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত সদস্যরা এখন বীর দাপটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এর সহস্য কী? আপনারা জনগনের উপর দোষ দিয়ে আপনার দায়িত্ব এড়িয়ে যাবে না। সীমান্ত এলাকায় কাঁটা তারের বেড়া থাকা শর্তেও হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা, মদসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য আসে কি করে। আপনারা আরও আন্তরিক হলে কোন মাদকদ্রব্য দেশে আসবে না। রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে প্রশাসনের সখ্যতা রয়েছে, আর এ কারণে মাদক ব্যবসা কমছে না। এ শীতের সময় গরু মহিষ বেশি চুরি হয়। এ ব্যবপারে সবাই কে সজাগ থাকতে হবে, পুলিশি টহল জোরদার করার অনুরোধ জানান।
এসময় ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, কোন পুলিশের সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের সখ্যতা থাকে প্রমান করতে পারেন তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। থানায় আসতে দালাল লাগবে না। শ্রমিক, ভ্যানচালকসহ যে কেউ আসতে পারেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কোন মাদক ব্যবসায়ী, শিশু নির্যাতন, কোন আপরাধ করে পার পাবে না।
মাদক বন্ধ করা পুলিশের কাজ নয়। সামাজিক প্রতিরোধ করে গড়ে তোলা হলে মাদক অনেক অংশে কমে আসবে।
মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান, খাইরুল ইসলাম বলেন, আমার ইউপি এলাকায় তালের তাড়ি কারবার চলে আদিবাসীদের কারণে এটা বন্ধ করা যায় না। ইদানিং গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা, মাদক ব্যপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে।
শ্রী কৃষ্ণ কুমার সরকার বলেন বিদিরপুর ক্লাব, প্রেমতলী, নিমতোলা, রাজাবড়ি, পিরিজপুর, আলিমগজ্ঞ, গোপালপুর প্রভূতি স্থানে মাদকের হাট বসে। এরা খুব শক্তিশালি তাই এদের বিরুদ্ধে তথ্য দিতে ভয় পায়। মাদক আসে সীমান্ত দিয়ে, বিজিপি সজাগ থাকলে ৯০ ভাগ মাদক আসা বন্ধ হয়ে যাবে। মাদক ব্যবসা কমে যাবে।
আমি আপনাদের সহযোগিতা করবেন। গোদাগাড়ীর গোগ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত সংঘর্ষের মামলা হয়েছে, আসামিরা বাড়ীতে ঘুমাবে না এটা স্বাভাব।
উপজেলার বসুদেবপুর, মাদারপুর, গোপালপুর, মিষ্টির দোকানের সামনে হিরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিলের কারবার চলে এছাড়া রাজাবাড়ী, প্রেমতলী হাসপাতাল এলাকা, রেলবাজার মনির হোটেল, কসাইপাড়া, মহিশালবাড়ী গরুরহাট, সুলতানগজ্ঞ, ফিরোজচত্তর, সুলতানগজ্ঞ, বাসুদেবপুর, পিরিজপুর, কুমুরপুর, মাদারপুর, শিবসাগর প্রভূতি এলাকায় অবাদে হোরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্নধরের মাদকসেবন, বেচাবিক্রিসহ ছোটবড় অপরাধ হয়। ওই স্থানে অভিযান ও মোবাইল কোর্টসহ মাদকব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন।
অন্যান্য বক্তাগণ তাদের বক্তব্যে বলেন, গোদাগাড়ীর আইনশৃঙ্খলা ভালই আছে, তবে আরও ভাল রাখার জন্য উপজেলার পুলিশ, বিজিপি, সরকারী কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অনেক সচেতন হতে হবে। গোদাগাড়ীর একটাই বদনাম মাদক, হিরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল,গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরণের মাদক ব্যবসায়ী গডফাদার এখানে রয়েছে। গোদাগাড়ীতে পুলিশের তালিকাভুক্ত ১৭৩ জন মাদকব্যসায়ী রযেছে। তাদেরকে গ্রেফতার করলে মাদক ব্যবসা কমে আসে।
মাদক ব্যবসায়ীদের বাড়ী সাইনবোর্ড লিখে ঝুলাতে হবে। এছাড়া কামালা মাঝি, শ্রমিক, ভান চালকসহ যারা শূন্য থেকে শত শত কোটি টাকার সম্পাদকের তদন্ত করে তাদের সম্পদ সরকারী কোষাগারে জমা করার ব্যপারে আলোচনা করা হয়।
প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করেছেন তাই কোনভাবে মাদকব্যবসায়ীরা যেন কোনভাবে পার পেতে না পারেন সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে শক্ত মামলা, চার্জসীট প্রদান করতে হবে।
You must be logged in to post a comment.