এমপিওতে শিক্ষামন্ত্রী আন্তরিক নয় : আন্দোলনকারীদের অভিযোগ

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
মঙ্গলবার, ৩ জুলাই, ২০১৮, ২:১৪ পূর্বাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার।।

বেসরকারি নন এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা অভিযোগ করে বলেন, আজ শিক্ষামন্ত্রী যদি আমাদের জায়গায় থাকতেন তবে তিনি কী করতেন? বছরের পর বছর বিনা বেতনে চাকরি করছি, রাষ্ট্রের কি দায় নেই? আদতে শিক্ষামন্ত্রী ব্যর্থ। তার আন্তরিকতার অভাব। তিনি চান না শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হোক। মন্ত্রী এক কথা বলেন, সচিব আরেক কথা বলেন। ন্যায্য দাবি পূরণে কখন শিক্ষকরা রাস্তায় দাঁড়ান শিক্ষামন্ত্রী কি তা বোঝেন না? তিনি কি অনুভূতিশূন্য?’

এদিকে শিক্ষক-কর্মচারীদের আমরণ অনশন কর্মসূচির ৮ম দিনে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিভুক্তির দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচির ৮ম দিনে সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের একথা বলেন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায়।

তিনি বলেন, ‘এ বছর দ্বিতীয় দফায় আমরা ২৩ দিন ধরে আন্দোলন করছি। আজ আমরণ অনশনের ৮ম দিন। রোববার রাত ১২টা পর্যন্ত ১৫৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদু্ন্নবী ডলারসহ গুরুতর অসুস্থ ২১ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি অসুস্থ সবাইকে স্যালাইন দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, আমরা তো বেশি কিছু চাইনি। আমরা শ্রমের বিনিময়ে পারিশ্রমিক চাইছি। বছরের পর বছর বিনা বেতনে শ্রম দিচ্ছি। আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, বিসিএস দিচ্ছে, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, এসপি হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকতা করছে। অথচ আমরা শিক্ষকরা রাস্তায় কেন? কারণ আমরা বিনা বেতনে চাকরি করছি। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্বীকৃত হলেও এমপিওভুক্ত নয়। এর দায় কি কারো নেই?’

ড. বিনয় ভূষণ রায় বলেন, এমপিওভুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দুটি প্রস্তাব দিয়েছেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। দাবি দুটি হলো সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আওতায় এনে আংশিক বেতন চালু করে পরবর্তী অর্থবছরে তা সমন্বয় করা। দুই, দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত না হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য এমপিওভুক্তির পর তিন বছর সময় দেয়া। আশা করছি, আমাদের দাবি পূরণ হবে। শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের কর্মস্থলে ফিরবেন। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন চলবে।’

অনশনে অংশ নেয়া শিক্ষকরা বলেন, সারাদেশে পাঁচ হাজারের অধিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে গত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছেন। অনেকের চাকরির মেয়াদ আছে ৫-১০ বছর। বেতন-ভাতা না পাওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা অত্যন্ত কষ্টকর ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

আবুল মকসুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি যৌক্তিক। এ দাবি পূরণে সরকার, মন্ত্রী, সচিব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাহলে বাহানা কেন? কেন দাবি পূরণ করা হচ্ছে না?’

তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রতি আমি অনুরোধ করছি, শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি মেনে নেন। শিক্ষকরা দাবি আদায়ে আন্দোলন করবে এটা দৃষ্টিকটু। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের দাবি পূরণ হওয়াই এর সমাধান।’

 

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ