পারভীন আক্তার।।
১২:৩০টা হতে ৪:১৫ আর ৯:০০টা হতে ৪:১৫ একই পরিবেশে একই বয়সী সমগোত্রীয় শিশুদের জন্য দুই ধরনের বিদ্যালয় সময়সূচীর প্রভাব কি আসলেই ইতিবাচক?
” আফা, কিছু মনে নিয়েন না। সময় না কমাইলে আমি পোলারে অন্য স্কুলে ভর্তি করমু। সারাদিনে বাচ্চা আমার কাহিল হইয়া যায়!”- অভিভাবকের আক্ষেপ।
দীর্ঘ সময়সূচীর কারণে দরিদ্র বাবা-মায়েরাও সন্তানকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠাতে চান না। শিশুরা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। মাধ্যমিকের কিশোর বয়সী শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় সময় সীমার তুলনায় প্রাথমিকের শিশুদের দীর্ঘ সময়সূচীর যৌক্তিকতা কি? আর উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরাতো দিশেহারা। চেয়েও শ্রেণিপাঠদানের সূর্যোদয় হয় না বুঝি!
গবেষণা ও পরিসংখ্যান করা হোক এবিষয়ে। নিয়ম বদলায়। তবে সময়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয় এক একটি সুবিশাল গোষ্ঠী। দেশের সমস্যাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর একটি চিহ্নিত অংশ হয়ে বিরাজ করে/করবে এরা।
অপরিকল্পিতভাবে কিন্ডারগার্টেনগুলোর আধিপত্য বেড়ে যাওয়ার আর একটি বড় কারণ হোলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচীর দীর্ঘসূত্রিতা।
আর সকাল থেকে পরিকল্পিত সময়সীমাও বিভ্রান্তিকর। মাত্র ১৫ মিনিটে কি সমাবেশ পরিচালনার মত সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন সম্পন্ন করা সম্ভব? শ্রেণিপাঠদানের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার সময়টুকুই বা কখন? উত্তর আমার কাছে আছে। জানতে চাওয়া হোক,প্লিজ!
আমি ব্যবহারিকভাবে সমাবেশ ও শিখন-শেখানো কার্যক্রম পরিচালনা করে গবেষণা ও নিরীক্ষার গিনিপিগ হতে রাজি আছি। আমি সবিনয় আবেদন করছি,আমাকে সুযোগ দেয়া হোক ব্যবহারিকভাবে কার্যকরী কার্যক্রম প্রদর্শন ও ব্যাখ্যা প্রদানের।
জবাবদিহিতার জন্য তৈরি আছি। তবুও যথার্থতা আসুক। অনেক কিছু বদলে ফেলা চাই। ক্লান্তিময় নির্দেশ পালনে সফলতা আসবেনা। চাই স্বতঃস্ফূর্ত, সৃষ্টিশীল ধারাবাহিক কর্মযজ্ঞ।
আর বিদ্যালয় পর্যায়ে চাই দূরদর্শী, দক্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিতকরণ। যে জায়গাটি আসলেই নড়বড়ে। কলুর বলদের মত নির্দেশ পালনে প্রবৃত্ত হওয়াটা যোগ্যতা নয়। উপযোগিতা আর যথার্থতায় চৌকশ প্রাজ্ঞ প্রতিষ্ঠান প্রধান চাই প্রতি বিদ্যালয়ে। বিচিত্র কারণে ধামাধরা নেতৃত্ব সমাদৃত অবলীলায়। এভাবে আর কতদূর?
পরিসংখ্যান করে দেখা হোক বাংলাদেশের কতজন প্রাথমিক শিক্ষক শারীরিক বা মানসিকভাবে সুস্থ আছেন। এবং কারণগুলো কি সত্যিই মানবিক? এর কি সমাধান হওয়া জরুরি নয়?
ওঁরা শুধুই ভীত হতে জানে।মেনে নিতে জানে বোবা প্রাণীর মত। একুশ ওদের বলতে শেখায়নি।ওঁরা শুধুই মেনে নিতে শিখেছে নীরবে।
কে বা কারা দায়িত্বে অবহেলা করছেন তা দেখতে চাইনা।আমি বলছি ওঁদের কথা,যাঁরা নীরবে মেনে নিচ্ছেন।ক্লান্তিময় শ্রম ও মেধা বিসর্জন দিচ্ছেন এলোমেলো,অগোছালো ধারায়..মেনে নিয়ে,মাথা নত করে।
যথার্থতার প্রামাণ্যচিত্রগুলো তুলে ধরবার সাহসটুকু নেই যাদের।ওঁরা আলোর দীপ জ্বেলে চলেছেন, সম্মুখে অপেক্ষমান ভোরের খবরটুকু দেবার কন্ঠশক্তি ক্ষীণ হয়ে এসেছে।
কিন্তু কেন?
আমি সহযোগিতা করতে চাই আমার শিক্ষা পরিবারকে সঠিক ও কার্যকরী ধারায় বিভ্রান্তিবিহীন মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে।
অনেক কিছু বলতে চাই।প্লিজ,জানতে চাওয়া হোক।
লেখক
সহকারী শিক্ষক
নজরুল নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, খুলনা।
You must be logged in to post a comment.