উঠানের গর্তে মিলল গৃহবধূর লাশ! সন্দেহের তীর কলেজ প্রভাষক স্বামীর দিকে !

আবদুল মান্নান,স্টাফ রিপোর্টার
রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন

উঠানের গর্তে মিলল গৃহবধূর লাশ! সন্দেহের তীর কলেজ প্রভাষক স্বামীর দিকে !

 

নিখোঁজের পাঁচদিন পর অবশেষে গৃহবধূ আফরোজার সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে জীবিত নয় ,মৃত ! শনিবার(১৭ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে স্বামী রাকিব হাসান বাপ্পীর বাড়ির উঠোনের আঙিনায় পুঁতে রাখা অবস্থায় তার হদিস মিলে। গর্ত খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।

নিহত  আফরোজার বড়ভাই মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল বোনের শ্বশুরবাড়ি থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দ্বীপাঞ্চল মহেশখালী থানার কালারমারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহির উদ্দীনের নেতৃত্বে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান কক্সবাজার জেলার এএসপি সার্কেল(মহেশখালী) ও নবাগত ওসি আব্দুল হাই।

কক্সবাজার জেলার ক্রাইমজোন হিসেবে পরিচিত দ্বীপাঞ্চল উপজেলা মহেশখালীর উত্তর নলবিলার আওয়ামী লীগ নেতা হাসান বশিরের দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে রাকিব হাসান বাপ্পী। তিনি চকরিয়া উপজেলার বদরখালী কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। প্রথম স্ত্রীর সাথে ডিভোর্সের পর ৯ মাস পূর্বে একই উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পুঁইছড়ার মো: ইসহাকের মেয়ে আফরোজার বেগমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় বাপ্পীর।ইতিপূর্বে আফরোজার স্বামী মারা যায়। ফলে এটি তারা উভয়ের দ্বিতীয় বিয়ে।

কিন্তু স্বামী বাপ্পী আফরোজা কে বিয়ে করার পর তালাকী প্রথম স্ত্রীর সাথে ফের যোগাযোগ শুরু করেন। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী আফরোজাকে প্রায় অমানুষিক নির্যাতন করতো। এই নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে।

হঠাৎ গত ১২ অক্টোবর নিখোঁজ হয় আফরোজা। কিন্তু তার নিখোঁজের পর রহস্যজনকভাবে পালিয়ে যায় কলেজ প্রভাষক স্বামী রাকিব হাসান বাপ্পী। আফরোজা বেগম কে পরিবারের লোকজন বিভিন্নভাবে হন্য হয়ে খোঁজতে থাকে। কিন্তু তার সন্ধান পায়নি তার পরিবার। অবশেষে শনিবার রাত দশটার দিকে স্বামী রাকিবুল হাসান বাপ্পীর বাড়ির উঠানে গর্তে লোকানো অবস্থায় লাশের সন্ধান মেলে।

নিহত আফরোজা বেগমের বড়ভাই মিজান মহেশখালী থানার নবাগত ওসি ও কালামরছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলেন।এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে বাপ্পীর ভগ্নিপতি শহীদুল ইসলাম কাজল বেশ দৌড়াদৌড়ি করেছে বলে জানান। তিনি আরো বলেন, গত শুক্রবার কয়েকজন লোক নিয়ে তার বোনের খোঁজের বিষয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে গেলে কনস্টেবল হাসান মিজানকে পিস্তল ধরে ভয়ভীতি দেখায় বলে দাবি করেন। এ হত্যার সাথে বাপ্পীর মা রোকেয়া হাসানসহ পরিবারের লোকজন জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

 

 

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ