আজ এই রায় হতো না! যদি তিনি :
১। রাজনীতিবিদ হিসেবে রাজনীতি করতেন, রাজনীতিকে তার পথে চলতে দিতেন,রাজনীতিকে মোকাবিলা করতেন রাজনীতি দিয়ে ।
২। সামরিক/ বেসামরিক প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার উপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীল না হতেন।
যদি এসব প্রতিষ্ঠানকে কতিপয় সুবিধাভোগী কর্মকর্তার চারণভূমিতে পরিণত না করতেন।
পুলিশকে যাচ্ছেতাই করার ব্ল্যাংকচেক না দিতেন বা উজবুক পুলিশ কর্তাদের মাথা গরম কথার ভিত্তিতে সবকিছু ‘কঠোরহাতে’ দমনের দিবাস্বপ্ন না দেখতেন ।
বিরোধী মতের রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী এমনকি ব্যবসায়ীদের দিনরাত গোয়েন্দা মনিটরিংয়ের নামে শত্রু না বানাতেন।
৩। নির্বাচনগুলো মোটামুটি স্বচ্ছ করায় জোর দিতেন এবং তাতে যেকোন প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের কাছে হেরে গেলেও তা মেনে নিতেন ।
এক্ষেত্রে গোয়েন্দা রিপোর্টকে রাজনীতির বাইরে রাখতেন। মাথামোটা কিন্তু চতুর দলবাজ কর্মকর্তাদের কথা না শুনে রাজনীতিবিদদের কথা শুনতেন।
দলের রাজনীতিবিদরা পদ, পদবী,সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের চেয়ে অনেক ভালো পরামর্শ দিতে পারে এই কথাটি মনে রাখতেন।
৪। মুক্তিযুদ্ধের ইস্যুতে অন্য সকল মুক্তিযোদ্ধাকে সহমর্মিতা ও সম্মানের সাথে দেখতেন, তাদের সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক বহমান রাখতেন।
অযথা জেনারেল জিয়াউর রহমানের মতো একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান অপদস্থ না করতেন।
৫। ভারত ও চীনের মধ্যে তথাকথিত ব্যালেন্সের নামে উঠতে বসতে পশ্চিমা বিশ্বের ব্যাপারে আজগুবি সব তত্ত্ব/বিবমীষা না ছড়াতেন।
৬। আরেক নারী বেগম খালেদা জিয়াকে একশ্রেণীর পদলোভী কর্তার উসকানিতে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ না করতেন ও পরবর্তীতে কথিত গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী বিচার করে জেলে না পুরতেন ।
৭। র্যাবের উপর বিশেষ ব্যক্তি ও জায়গা থেকে ওহী নাজিল করে গুম, ক্রসফায়ার না করতেন। যদি ইলিয়াস আলীর মতো রাজনীতিবিদ হারিয়ে না যেতেন।
৮। পদলেহনকারী সাংবাদিকদের হাত কচলানো কথা ও চরম নিম্নমানের তোষামোদকে যথাসময়ে থামিয়ে দিতেন।
৯। যদি উগ্র ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলাম বিরোধীতার রাশ টেনে ধরতেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সংস্কৃতির প্রতি চরম ঘৃণা পোষণকারী সংস্কৃতিজীবীদের আছরে উল্টোপাল্টা সিদ্ধান্ত না নিতেন।
আরো অনেক, অ-নে-ক কথা বলা যায়। সমস্যা তো একদিনে তৈরি হয়নি !
অযথা শত্রুর সংখ্যা বাড়িয়ে, রাজনীতির উপরে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে স্থান দিলে রাজনীতি আর থাকে না। একসময় সেই রাজনীতিবিদ নিজেই ফাঁদে পরতে বাধ্য হন যা তিনি হয়েছেন।
ভবিষ্যতেও যদি কোন রাজনৈতিক দল এসব করে তাকেও ফাঁদে পরতে হবে। তাদেরকেও ভুগতে হবে।
এগুলো না করলে নির্দ্বিধায় তিনি একজন সফল রাজনীতিবিদ হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হতেন। হাজারো বিরোধিতার পরও নিশ্চিন্ত মনে বাকি জীবনটা কাটাতে পারতেন।
এখন আবারও কি পতিত কিছু কর্মকর্তার কথা শুনছেন তিনি?
লেখক:
Editor and Publisher at Bangladesh Defence Journal
Assistant Editor, Special Correspondent and Senior Sub Editor at Journalist
You must be logged in to post a comment.