ইবিতে উন্নয়ন প্রকল্পের কোটি টাকা আত্মসাৎ, জড়িতদের শাস্তি নির্ধারণে কমিটি

ইবি প্রতিনিধি
রবিবার, ২৬ মে, ২০২৪, ৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অবকাঠামোগত উন্নয়নে ৫৩৭ কোটি টাকা মেগাপ্রকল্পের কাজ চলছে। এই প্রকল্প থেকে সম্প্রতি সোয়া ৬ কোটি টাকার ভুয়া বিল উত্তোলন ও ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী, প্রকল্প পরিচালক, ঠিকাদারসহ একাধিক কর্মকর্তা ও কয়েকজন সাবেক-বর্তমান ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে এই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গত পাঁচ মাস আগে একটি তদন্ত কমিটি করে প্রশাসন।

গত ১৯ মে অনুষ্ঠিত ইবির সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত প্রতিবেদন খোলা হয়। তদন্তে আর্থিক অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়।

তবে প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের শাস্তির সুপারিশে নির্ধারিত ধারা উল্লেখ না থাকায় সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সিন্ডিকেট সদস্যরা। শাস্তির ধরণ অনুযায়ী ধারা উল্লেখ করতে একটি কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (২৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

কমিটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ.কিউ.এম মাহবুবকে আহবায়ক, ইবির জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলামকে সদস্য ও আইন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আনিচুর রহমানকে সদস্য-সচিব করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প (৩য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের সর্বশেষ চলতি বিল প্রদানের ক্ষেত্রে তথ্যের গরমিল সংক্রান্ত অভিযোগ উঠে। অভিযোগের বিষয়ে ভিসি কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা ও সুপারিশ অনুযায়ী ইসলামিক ইউনিভার্সিটি এমপ্লয়ি ইফিসিয়েন্সি অ্যান্ড ডিসিপ্লিন রুলস-এর আলোকে সংশিষ্টদের বিষয়ে কি ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তা নির্দিষ্ট করা নেই। এটি নির্ণয় ও নির্দিষ্ট করার জন্য সিন্ডিকেটের ২৬৩তম সভার ৫ নং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

কমিটির সদস্য সচিব ড. আনিচুর রহমান বলেন, বিষয়টি জেনেছি তবে এখনও চিঠি হাতে পাইনি। এই বিষয়ে যখনই ডাকা হবে সাড়া দেব।

তথ্য মতে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৩৭ কোটি টাকার মেগাপ্রকল্পের কাজের সোয়া ৬ কোটি টাকার ভুয়া বিল উত্তোলন ও ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ উঠে।

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক সমিতি, শাপলা ফোরামসহ বিভিন্ন দফতরে এ সংক্রান্ত একটি উড়ো চিঠি আসে। সেই চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী, প্রকল্প পরিচালক, ঠিকাদারসহ একাধিক কর্মকর্তা ও কয়েকজন সাবেক-বর্তমান ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে এই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।

এসব অভিযোগ তদন্তে ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর একটি তদন্ত কমিটি করেন ভিসি ড. শেখ আবদুস সালাম। তিনমাস পর গত ৯ মার্চ কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। তিন পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টদের অনিয়মের বিষয় উঠে আসে।

প্রতিবেদনে আর্থিক অনিয়মের সত্যতাও পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে সূত্র। এদিকে একই অভিযোগের তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনেও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে সূত্র।

এই বিষয়ে গত ১৯ মে অনুষ্ঠিত ইবির ২৬৩তম সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিলো। সভায় প্রশাসন থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন খোলা হয়। কিন্তু প্রতিবেদনে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি এমপ্লয়ি ইফিসিয়েন্সি অ্যান্ড ডিসিপ্লিন রুলস-এর আলোকে অভিযুক্তদের বিষয়ে কি ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তা নির্দিষ্ট করা ছিলো না। ফলে সংশ্লিষ্টদের শাস্তির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সিন্ডিকেট।

ফলে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা ও সুপারিশ অনুযায়ী শাস্তির ধারা নির্ণয় ও নির্দিষ্ট করার জন্য কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সিন্ডিকেটে। কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি শেয়ার করুন


আরো সংবাদ
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com