সারাদেশ আজ গুম ও খুনের আতংকে আতঙ্কিত : সেলিমা রহমান

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
রবিবার, ৩০ জুন, ২০১৯, ৬:০৪ অপরাহ্ন
প্রেসক্লাবের সামনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

প্রদীপ কুমার দেবনাথ। 

গুম আর খুনের মহোৎসবে সারা দেশ আজ ভয়ঙ্কর আতংকে কাঁপছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান।

তিনি বলেন, ”আজকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ বাংলাদেশে বর্তমানে অবৈধ সরকার, অবৈধ সংসদ চলছে, তারা অবৈধ কর্মকান্ড কনট্রোল করতে পারছে না। দেশে আজ কথা বলার সামান্য স্বাধীনতাটুকুও নেই, ন্যায়বিচার বলে কিছু নেই। আজ শিক্ষাব্যবস্থাকে ধংস করে দেয়া হয়েছে। দেশে এখন আছে শুধু খুন, গুম, ধর্ষণ, দুর্নীতি ও শেয়ারবাজার লুট।”

শনিবার (২৯ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেলিমা রহমান বলেন, ”আজকে বরগুনায় যে তান্ডব দেখা গেল, প্রকাশ্য রাজপথে কুপিয়ে হত্যা করেছে নয়ন বন্ড। এই নয়ন বন্ড অনেকদিন যাবত অপরাধ সংঘটিত করছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করে নাই, অবৈধভাবে সাহায্য করেছিল।”

তিনি বলেন, না”রীসমাজের আজকে জীবনের কোনও নিরাপত্তা নেই। আপনারা দেখেছিলেন শিক্ষাখাতে নারীদের কতটা অগ্রগতি হয়েছিলো। কিন্তু আজকে কিশোরীরা স্কুল-কলেজে যেতে ভয় পায়। কেন ভয় পায়? কারণ আজকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর প্রতিদিন আক্রমণ হচ্ছে। কিন্তু এর কোনও বিচার হচ্ছে না। ক্ষমতার প্রভাব ও দুর্নীতির মধ্য দিয়ে তারা এ সকল কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে”।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ”বিশ্বজিৎকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করা হয়েছিলো। আদালতে হত্যাকারীদের বিচারও হয়েছিলো। হত্যাকারীরা সবাই ক্ষমতার প্রভাবের সাথে জড়িত ছিলো। আজকে তাদের কার কি শাস্তি হয়েছে তা আমরা জানি না। সাগর-রুনী হত্যা, তনু হত্যা, নুসরাত হত্যা একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটেই চলেছে। প্রতিটা হত্যাকান্ডের পর আন্দোলন হয়, সরকার বলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কিন্তু আস্তে আস্তে সরকার সব ভুলে যায়।”

তিনি বলেন, ”আজকে বরগুনায় প্রকাশ্যে দিবালোকে রাজপথে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হলো। রিফাত হত্যাকারী নয়ন বন্ড অনেকদিন যাবত অপরাধ সংঘটিত করে আসছিলো। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেফতারের নাম করে অপরাধমূলক কর্মকান্ডে উল্টো সহযোগিতা দিয়ে আসছিল।”

সেলিমা রহমান বলেন, ”আজকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ বাংলাদেশের এই অবৈধ সরকার যারা ‘মিডনাইট নির্বাচন’ করে ক্ষমতায় এসে অবৈধভাবে সংসদ চালাচ্ছে তারা এসব কন্ট্রোল করতে পারছে না। তারা নিজেরাই অনৈতিক, তাদের মধ্যে কোনও বিবেকবোধ নেই।”

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ”আপনারা ভাবছেন এরকম মানববন্ধন দিয়ে কী হবে? আপনারা যে সকল খুন, গুম, ধর্ষণ ও অন্যায়ভাবে যাদেরকে কারাগারে আটকে রেখেছেন তাদের লাখ লাখ পরিবার আজকে সব যায়গায় উত্তাপ ছড়াচ্ছে। সেই উত্তাপ ভয়ংকর উত্তাপ, সেই উত্তাপে আপনারা জিততে পারবেন না। পুড়ে ছাই হয়ে যাবেন।”

ঘোষিত বাজেট প্রসঙ্গে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ”বাজেটে কোনও আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নেই। বাজেটে গরিবের ওপর চাপানো হয়েছে করের বোঝা। এই বাজেট দেয়ার পর বাংলাদেশের জনগণ উত্তপ্ত, তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছে। জনগণ আজকে সচেতন। এ অবস্থা আর চলতে পারে না, চলতে দেয়া হবে না।”

 

 

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ”আসুন সারা দেশের জনগণকে একত্রিত করে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলি। ইনশাআল্লাহ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে ও একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হবে এবং দেশে সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।”

বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে দাবি করে সেলিমা রহমান বলেন, আজকে দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে অগণতান্ত্রিকভাবে কারারুদ্ধ করে রেখেছে এই অবৈধ সরকার। কারণ তারা জানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারের বাইরে থাকলে এই সরকার মিডনাইটের নির্বাচন কোনভাবেই করতে পারত না। তিনি যদি মুক্ত থাকতেন তাহলে তারা কোনোভাবেই একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে পারত না। সেজন্য নির্বাচনের আগ মুহূর্তে দেশনেত্রীকে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল।

মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের পরিচালনায় মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অপর্ণা রায়, মহিলা দলের নুর জাহান ইয়াসমীন, আমেনা বেগম প্রমুখ।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ