সর্বনাশা পদ্মার গ্রাসে বিলীনের পথে রাজশাহীর  নিমতলী গ্রাম

রাজশাহী প্রতিনিধি
শনিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২১, ৫:৪৩ অপরাহ্ন

রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ বর্ষা আসে, সঙ্গে আসে বন্যা সে সাথে শুরু হয় নদী ভাঙ্গন।  দর্ভোগের আশঙ্কায় বুক কাঁপে মানুষের। লাখ লাখ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। প্রতিবছরের মতো এ বছরও ধেয়ে এসেছে বন্যা সে সাথে শুরু হয়েছে রাজশাহী গোদাগাড়ীতে সর্বনাশা পদ্মার নদী ভাঙন শুরু হয়েছে।
প্রায় প্রতি বছর আষাঢ় মাসেই দেশে বন্যার প্রাদুর্ভাব শুরু হয়ে যায়। প্রথমেই বৃষ্টি ও এসময়ে ভারত তাদের ফারাক্কার সবকয়টি গেট খুলে দেয় আর উজান থেকে ধেয়ে আসে বন্যা পদ্মা, মাহনন্দা নদীর পানি বড়ার সাথে শুরু হয় তীব্র  নদী ভাঙন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয় নি।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার নিমতলা, চাক পাড়া, খারিজাগাঁতি ও মোল্লাপাড়ায় পদ্মা নদীতে নতুন করে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে নদী গর্ভে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার বিঘা এলাকার ফসলি জমি, আম বাগান। হুমকির মুখে রয়েছে বসতবাড়ি, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
প্রতি বছর বন্যার সময় পদ্মা নদী ভয়ালরূপ ধারণ করে। পদ্মার তীব্র ভাঙ্গনে আম বাগান, বিভিন্ন ফলের গাছ, ফসলী জমি যাচ্ছে নদীগর্ভে। গত ১৫ দিন ধরে উপজেলার নিমতলা চাক পাড়া, খারিজাগাঁতি ও মোল্লাপাড়া এলাকায় দেখা দিয়েছে এই ভাঙ্গন। হুমকির মুখে রয়েছে ফসলি জমি, পাশাপাশি বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ভাঙ্গন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদী পাড়ের বাসিন্দারা।  এই বুঝি সব তলিয়ে গেল, সর্বনাশা পদ্মা নিয়ে গেল আমাদের জান মাল, গবাদিপশু।  এলাকাবাসির  দাবী ভাঙ্গন রোধে দ্রুতই পদক্ষেপ নেয়ার।
এখন  পদ্মার তীব্র স্রোতে বিলীনের পথে  উপজেলার ৭ নম্বর দেওপাড়া ইউনিয়নের নিমতলী গ্রামটি। গ্রামের ৪ কিলোমিটার এলাকায় কোনো না কোনো অংশ প্রতিদিনই গিলছে পদ্মা।
শনিবার সকালে  সরেজমিনে দেখা গেছে, ভেঙে পড়ছে নদীপাড়ের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। পদ্মার ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) লোকজন সেখানে ফেলছেন জিও ব্যাগভর্তি বালু। তারপরও থামছে না পদ্মার ভাঙ্গন।
পাউবো সূত্র জানায়, গত ১৭ আগস্ট নিমতলী গ্রামের ভাঙনের কথা জানার পরদিনই জিও ব্যাগভর্তি বালু ফেলে সাময়িকভাবে প্রতিরোধ চেষ্টা করা হয়। ১৮ আগস্ট থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বস্তা জিও ব্যাগে বালু ফেলা হয়েছে। তবে সেখানে ১০ হাজার বস্তা জিও ব্যাগ ফেলা হবে।
নিমতলী গ্রামের বাসিন্দা ষাটোর্ধ ওয়াসিলুল হক বলেন, ১৯৯৮ সালের দিকে একবার গ্রামটি ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে যায়। পরে আবার পলি জমে চর জাগলে লোকজন আবার বসতি স্থাপন করে। আদিবুল হাসান দিপু নামের এক যুবক বলেন, প্রায় ২৩ বছর ধরে এদিকে কোনো নদী ভাঙনের সৃষ্টি হয়নি। এবার বর্ষার শুরুর দিকে ভাঙন দেখা দিলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানানো হয়। কিন্তু তারা তেমন আগ্রহ দেখাননি। ফলে নিমতলী গ্রামের ৩-৪ কিলোমিটার নদী তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি হয়।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক মোঃ বেলাল উদ্দিন সোহেল  বলেন,  চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এসেছিলেন, আমিও তাদের সাথে ছিলাম। এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী নির্দেশে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা সবকিছু করছেন পাঁচ হাজারের বেশী বালু ভর্তি  জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে আরও পাঁচ হাজার ব্যাগ ফেলা হবে ।
দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান আক্তার বলেন, গত দীর্ঘদিন এ এলাকায় কোনো ভাঙন ছিল না। তবে এবারের ভাঙনটা আকস্মিক দেখা দিয়েছে।
পাউবোর সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার রিফাত করিম বলেন, ভাঙন প্রতিরোধের কোনো ব্যবস্থা আগে এখানে ছিল না। ভাঙন ঠেকাতে এলাকায় ১০ হাজার বস্তা জিও ব্যাগে বালু ফেলার কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামীতে মূল নদীতে ড্রেজিং, বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সিমেন্টের তৈরি ব্লক ফেলার মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধেও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ