মাগুরা সদর হাসপাতালে একটি মাত্র নলকূপ, দূর্ভোগে রোগির স্বজনেরা

মহসিন মোল্যা,মাগুরা
শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২১, ১০:৩৯ অপরাহ্ন

 

মাগুরা সদর হাসপাতালে একটিমাত্র পানি উত্তোলনের টিউবওয়েল থাকার কারণে নিয়মিত ভূগছেন রুগি ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতালের সকল ওয়ার্ডের রুগি,হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ,মেডিকেল কলেজের ছাত্র ছাত্রীরাসহ আশপাশের দোকান মানুষের ভিরে সবসময় ব্যস্ত থাকে এই নলকুপ।

ভুক্তভূগীরা বলেন, হাসপাতালের মর্গের সামনে একটি নলূকল আছে যা লাস কাটা ঘরের কথা শুনলে অনেকে ভয়ে সেখানে যেতে চায় না। আবার তার পাশে নার্সিং ইনিস্টিটিউট থাকার কারণে সেখানকার মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য রাতে নিরাপত্তার চাদরে মোড়া থাকে। সুতরাং রাতে পানি লাগলে মর্গের ভয় ও নিরাপত্তার কারণে যাওয়া হয়না ভুক্তভূগীদের। তাছাড়া দিনে ও রাতে ঐ কলের আশেপাশে বর্জ্য নালার গন্ধ প্রচুর থাকার কারণে সেখান থেকে কেউ পানি সংগ্রহ করতে চায় না।

সব থেকে অবাক হওয়ার বিষয় বলে রোকেয়া নামে এক রুগির আত্মীয় বলেন, একটি মুমূর্ষ রুগিকে ফেলে তার স্বজনেরা পানি সংগ্রহ করার জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে সময় ক্ষেপন করে পানি সংগ্রহ করতে গেলে ঐ রুগির কপালে কি আছে তা একবার ভেবে দেখা প্রয়াজন হাসপাতাল কতৃপক্ষের। তাছাড়া সেখানে রাতে নেই কোন আলোর ব্যবস্থা। মহিলারা ভয়ে ভয়ে রাতে পানি সংগ্রহ করেন।

হাসপাতালে ভর্তি থাকা নুরজাহানের স্বজন বলেন, মাঝে মধ্যে লম্বা লাইন ও একটিমাত্র কল অধিক ব্যবহারের কারণে নষ্ট হয়ে গেলে পানি কিনে খেতে হয়। আবার অনেক সময় টাকা না থাকলে অনেক দূর থেকে মানুষের বাসা বাড়ি হতে পানি সংগ্রহ করতে হয়। সকলে মিলে একটি কল ব্যবহার করার কারণে প্রায়ই কলটি নষ্ট হয়ে যায় আর এই দূর্ভোগে পড়তে হয়।

এ বিষয়ে মাগুরা হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার বিকাশ কুমার সিকদার বলেন, একটি কল নতুন ও পুরাতন ব্লিডিংয়ের মাঝে অবস্থিত হওয়ার কারণে রুগি ও তাদের স্বজনরা ভাত তরকারীসহ নানা রকম বর্জ্য সেখানে ফেলার কারণে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। এ কারণে হাসতাপাল কতৃপক্ষ সেটি বন্ধ করে দিয়েছে যার ফলে সেটা আর নতুন করে সংস্কার করা হয় না। আর মর্গের সাথে লাগোয়া নলকূপ ভালো আছে কিন্তু কেউ ব্যবহার করতে চায় না।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার স্বপন কুমার কুন্ডু বলেন, হাসপাতালের নতুন ব্লিডিংয়ের সামনের নতুন কলটি অপসারণ করে সেখানে রুগিদের জন্য হাইস্পিড অক্সিজেনের সিলিন্ডার প্লান স্থাপন করা হয়েছে জায়গা সংকটের কারণে। কারণ বড় কাভার্ডভ্যান থেকে এই অক্সিজেন নামাতে গেলে সামনের জায়গা প্রয়োজন তাই সেখান থেকে নলকূপ অপসারণ করা হয়েছে।

মাগুরা জেলা পরিষদ থেকে ৬টি পানির ফিল্টার মাগুরা হাসপাতালে দিলেও তা রুগি ও তাদের স্বজনরা ঠিকমত ব্যবহার করছে না জানা গেছে হাসপাতালে ভর্তি থাকা বিভিন্ন ওয়ার্ডের রুগিদের কাছ থেকে। তারা বলেন, ক্রয় করা পানি ও ফিল্টার করা পানি পান করে শান্তি পায় না।

তবে এ বিষয়ে মাগুরা সদর হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার বিকাশ কুমার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবে বলে আশ্বস্ত করেন।

উল্লেখ্য চারটি নলকূপের মধ্যে একটি ভালো যা বেশি ব্যবহার করার কারণে নিয়মিতই নষ্ট হয় আর বাকি তিনটির মধ্যে একটি মর্গের সাথে যা অনেক দুর, ভয় আর দুর্গন্ধের কারণে ব্যবহার হয় না, আর দুইটির মধ্যে একটি রুগিরা পরিবেশ নষ্ট করে বলে বন্ধ ও আরেকটি অক্সিজেন প্লান স্থাপন করার জন্য অপসারণ করেছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ।
তবে হাসপাতাল কতৃপক্ষের রুগিদের পানি সেবা প্রদান করার ইচ্ছা থাকলেও পারছেনা নতুন কল বসাতে জায়গা সংকটের কারণে।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ