আর আর চৌধুরী, নওগাঁ।।
খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি বলেছেন, বর্তমানে মাদক আমাদের বড় সমস্যা। মাদক পরিবার, সমাজ সর্বোপরি দেশকে ধ্বংস করছে। কাজেই দেশকে মাদকের কড়ালগ্রাস থেকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত নির্বাচনী ইস্তেহারে মাদক প্রতিরোধের উপর জোর দিয়েছেন।
বর্তমানে মাদক, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়িত হচ্ছে। (২১ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার দুপুরে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির প্যারেড গ্রাউন্ডে ১৬ বিজিবি নওগাঁ সদর ও ১৪ বিজিবি নওগাঁর পত্নীতলা কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে আটককৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি। বিজিবি রাজশাহীর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বিপিএমজির সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে, নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আরিফুল ইসলাম, নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৪ বিজিবি পত্নীতলার অধিনায়ক লেঃ কর্নেল জাহিদ হাসান এবং নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

খাদ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আজকের যুবকরা আগামী দিনের দেশনায়ক। তারাই আগামীতে বিভিন্নভাবে দেশের নেতৃত্ব দেবেন। কাজেই বাংলাদেশকে মাদকের কড়ালগ্রাস থেকে মুক্ত করে এই যুব শক্তিকে নির্মল এবং মেধাবী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দেশের অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী, কিশোর এবং যুবকরা মোবাইল ব্যবহরা করে। ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার ইত্যাদি মাধ্যমে প্রত্যেকে যদি প্রতিদিন মাদকের বিরুদ্ধে ঘৃনা প্রকাশ করে পোষ্ট- ষ্ট্যাটাস দিতে থাকি তাহলে আপনাতেই মাদকের বিরুদ্ধে একটি সামাজিক গন-আন্দোলন গড়ে উঠবে।
কারন মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন ছাড়া এই ভয়াল ব্যাধি থেকে আমাদের নিস্তার নাই। সীমান্ত রক্ষায় বিজিবির ভুমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, সীমান্তে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের মত আমাদের উন্নত সুযোগ সুবিধা নাই। অনেক ঘাত প্রতিঘাত, কষ্ট করে নানা প্রতিকুলতার মধ্যদিয়ে তাদের সীমান্ত রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাদের মধ্যে প্রবল দেশপ্রেম আছে বলেই এত প্রতিকুলতার মধ্যেও তারা নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তবে তিনি আশা দিয়ে বলেন, সরকার সীমান্ত এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আলো সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নওগাঁ জেলার সীমান্ত বরাবর রাস্তা তৈরী এবং আলোকিত করে সীমান্তকে সুরক্ষিত করার পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে এবং তা শীঘ্র্ই বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে বলেও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার তার বক্তব্যে জানান।
এসময় নওগাঁস্থ ১৬ বিজিবি ও নওগাঁর পত্নীতলাস্থ ১৪ বিজিবি কর্ত্তৃক বিভিন্ন সময়ে আটককৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়। ধ্বংস করা মাদকদ্রব্য গুলো হলো, ফেন্সিডিল ১৫ হাজার ৬৪১ বোতল, বিভিন্ন প্রকার মদ ৮০১ বোতল, গাঁজা ২৫ কেজি, ইয়াবা ১৫৫ পিস, হেরোইন ২৫ গ্রাম, টাপেন্টা ট্যাবলেট ১৫ পিস, ভারতীয় নেশা জাতীয় ইনজেকশন ৩৪৪ পিস, বাংলাদেশ নেশা জাতীয় বোতল ৪৭ পিস ও দেশীয় স্থানিয়ভাবে তৈরীকৃত চোলাই মদ ১৪৬ লিটার সহ কীটনাশক ১ বোতল ধ্বংস করা হয়। ধ্বংসকৃত মাদক দ্রব্যর সিজার লিষ্ট হিসাবে মোট মূল্য ৭৭ লাখ ৪৬ হাজার ৮৫৫ টাকা বলেও জানিয়েছেন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আরিফুল ইসলাম।
You must be logged in to post a comment.