জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ঘোষণা, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা থাকবে না

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন

অন্যদৃষ্টি অনলাইন।।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর হোটেল পূর্বাণী ইন্টারন্যাশনালে এ ইশতেহার ঘোষণা শুরু হয়।

লিখিত ইশতেহার পাঠের আগে বক্তব্য দিচ্ছেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন।

বক্তৃতায় তিনি বলেন, জনগণকে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনে জয়ী হলে জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে দেয়া হবে।

জাতীয় ঐক্য গড়া, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানসহ ঐক্যফ্রন্টের ১৪ প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন ড. কামাল হোসেন।

বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে ইশতেহার ঘোষণার মঞ্চে উঠেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। এরপর শুরু হয় ইশতেহার ঘোষণা।

এর আগে জোটের পক্ষ থেকে প্রথম দফায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে এবং ডিসেম্বরের ৮ তারিখে ইশতেহার ঘোষণার কথা বললেও পরে তা স্থগিত করা হয়নি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু প্রমুখ ও ড. রেজা কিবরিয়া প্রমুখ।

ইশতেহার তৈরির জন্য ঐক্যফ্রন্ট ৬ সদস্যের একটি কমিটি করে দেয়। কমিটিতে বিএনপি থেকে সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, গণফোরাম থেকে আ ও ম শফিক উল্লাহ, নাগরিক ঐক্য থেকে ডা. জাহেদ উর রহমান, জেএসডি থেকে শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের অধ্যক্ষ ইকবাল সিদ্দিকী এবং ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে রাখা হয়।

ইশতেহার পড়ে শোনান নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

এসময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনাসহ ইশতেহারে ১৪টি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে ফ্রন্ট।

প্রতিশ্রুতির মধ্য রয়েছে-

জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সর্বদলীয় সত্যানুসন্ধান ও বিভেদ নিরসনে কমিশন গঠন করা হবে,

হত্যা ও গুম পুরোপুরি বন্ধ করা হবে।

ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাতিল করা হবে।

নির্বাচনকালীন সরকারের বিধান তৈরি করা হবে।

পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকা যাবে না।

পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ব্যতীত সরকারি চাকরিতে প্রবেশের কোনো বয়সসীমা থাকবে না।

সরকারের দুর্নীতি তদন্ত করে বিচার করা হবে।

জেলা পরিষদ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবে।

পিএসসি জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হবে।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে ১২ হাজার টাকা।

প্রথম বছরে গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না।

প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হবে।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ