এ.কে আজাদ সানি, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি॥
কুষ্টিয়া ইবি থানার মনোহরদিয়া ইউনিয়নের গঙ্গাবরকান্দি গ্রামে নির্মাণাধীন ইটের দেয়ালে চাপা পড়ে দুই শিশুর করুন মৃত্যু হয়েছে। নিহত দুই শিশুর পরিবারে কান্নার মাতম ও এলাকায় শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে ৷
সোমবার (৭ জানুয়ারী) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণকারী তিন বছরের শিশু লিজা গঙ্গাবরকান্দি গ্রামের ইমারুল হক বাবলু’র মেয়ে আর সমবয়সী শিশু মরিয়ম প্রতিবেশী মৃত মশিউর রহমান রুবেলের মেয়ে।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, বড় বোন নির্মাণাধীন ইটের দেয়ালের ওপর উঠে গাছের কুলবরই পাড়ছিল। নিচে দাঁড়িয়ে কুলবরই কুড়াচ্ছিলেন ছোট বোন তিন বছরের লিজা। তার সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিল সমবয়সী আরেক শিশু মরিয়ম। হঠাৎ করেই নির্মানাধীন ইটের দেয়ালটি ভেঙে পড়ে। এতে চাপা পড়ে নিচে থাকা দুই শিশু। ঘটনাস্থলেই মারা যায় লিজা। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় মরিয়ম।
স্থানীয় মনোহরদিয়া পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এস আই আনছারুল হক জানায়, সন্ধ্যার কিছু সময় আগে লিজা বড় বোনের সঙ্গে কুলবরই গাছ তলায় যায়। এ সময় তাদের সঙ্গে মরিয়মও ছিল। বড় বোন বরইগাছ সংলগ্ন প্রতিবেশী ফজলুর রহমানের নির্মাণাধীন ভবনের দেয়ালের ওপর ওঠে। ছয় থেকে সাত ফুট উঁচু নির্মাণাধীন বাড়ির দেয়ালে বসেই সে গাছ থেকে বরই পাড়ছিল। এ সময় নিচে দাঁড়িয়ে লিজা ও মরিয়ম বরই কুড়াচ্ছিল। হঠাৎ করেই নির্মাণাধীন ভবনের দেয়ালটি ভেঙে লিজা ও মরিয়মের ওপর পড়ে। এতে চাপা পড়ে লিজা ঘটনাস্থলেই মারা যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মরিয়ম মারা যায়।
গঙ্গাবরকান্দি গ্রামের ইউপি সদস্য সেলিম রেজা এ প্রতিবেদককে বলেন, মরিয়মের বাবা মশিউর (৩০) চার মাস আগে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মশিউরের স্ত্রী শিল্পী খাতুন একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে থাকতেন। এবার মেয়েটাও চলে গেল। মঙ্গলবার সকালে দুই শিশুকে দাফন করা হয়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, সোমবার রাতে দূর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
You must be logged in to post a comment.