এ.কে আজাদ সানি, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি॥
জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে সবেমাত্র। এবার শুরু হয়েছে উপজেলা নির্বাচনের প্রস্তুতি। এরই মধ্যে তফসিলও ঘোষণা করে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী চারটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন।
আর এই চারটি ধাপের মধ্যে তৃতীয় ধাপে রয়েছে কুষ্টিয়ার নাম। এই নির্বাচনে বিএনপি জোট প্রার্থী দেয়নি এখনো। তবে ঘর গুছিয়ে ফেলেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ তাদের প্রার্থিতাও চুড়ান্ত করে ফেলেছে এরই মধ্যে। কুষ্টিয়ার ৬টি উপজেলায় নৌকার টিকেট পেয়েছেন এবার নতুন ৩মুখ। মিরপুর, খোকসা ও কুমারখালী উপজেলায় আগের সেই পুরনোরাই পেয়েছেন নৌকার টিকেট। নতুন মুখ কুষ্টিয়া সদর, ভেড়ামারা ও দৌলতপুরে। নতুন ৩মুখের মধ্যে দৌলতপুর উপজেলায় নৌকার টিকেট পেয়েছেন সাবেক সাংসদ আফাজ উদ্দিন পুত্র এ্যাড: মামুন, ভেড়ামারা উপজেলায় ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান মিঠু ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় শহর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। পুরনোদের মধ্যে মিরপুরে কামারুল আরেফিন, কুমারখালীতে আব্দুল মান্নান খান এবং খোকসায় আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খানের প্রতিই আস্থা রেখেছে মনোনয়ন বোর্ড। শনিবার মধ্যরাতে দলের পক্ষ থেকে প্রার্থিতা নিশ্চিত করা হয়। তবে আওয়ামী লীগ চুড়ান্ত প্রার্থি ঘোষণা করলেও তফসিল ঘোষণার পর থেকেই কুষ্টিয়া জুড়ে শুরু হয় ব্যাপক জল্পনা কল্পনা। কারা হচ্ছেন নৌকার প্রার্থি, পুরনোরাই থাকছেন নাকি নতুন কেউ পাচ্ছেন দলের মনোনয়ন। একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থি দলের চুড়ান্ত মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। দলের পক্ষ থেকে ৩জনের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়। তৃণমুলের ভোটে পাঠানো ওই তালিকা থেকেই চুড়ান্ত করে দল। যদিও তৃণমুলে নাম পাঠানো নিয়ে ঘটে তুলকালাম কান্ড। হট্টগোল পর্যন্ত হয় প্রার্থি নির্বাচনী সভায়।
একনজরে
দৌলতপুরঃ দৌলতপুরে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থি নৌকার মনোনয়ন পেতে মাঠে নামেন। এর মধ্যে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আল মামুন ছাড়াও যুবলীগ নেতা টোকেন চৌধুরী ও অ্যাড. মামুন মনোনয়ন দৌড়ে ছিলেন এগিয়ে। তবে সব কিছু ছাপিয়ে দলের মনোনয়ন বোর্ড কুষ্টিয়া-১(দৌলতপুর) আসনের সাবেক সাংসদ আফাজউদ্দিন আহমেদ পুত্র অ্যাড. মামুনের প্রতিই আস্থা রাখেন। তাঁর হাতেই তুলে দেয়া হয় নৌকার টিকেট।
ভেড়ামারাঃ এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের দু’জন প্রার্থির নাম কেন্দ্রে পাঠালেও মনোনয়ন বোর্ড আক্তারুজ্জামান মিঠুকেই চুড়ান্ত করে মনোনয়ন বোর্ড। মিঠু ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।
মিরপুরঃ মিরপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থি ছিলেন ৩জন। এরা হলেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন, মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম। তৃণমুলের ভোটে কেন্দ্রে ৩জনের নাম পাঠালেও মনোনয়ন বোর্ড কামারুল আরেফিনে আস্থা রেখেই নৌকার টিকেট দেন। যদিও তৃণমুলে নাম পাঠানো নিয়ে নানা নাটকীয়তার জন্ম হয়। আওয়ামী লীগের একটি অংশ বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিনকে মাইনাস করতে গিয়ে উল্টো তৃণমুলের কাছেই প্রত্যাখ্যাত হন অন্যরা। ফলে তুনমুলের সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হন কামারুল আরেফিন।
সদর উপজেলাঃ সদর উপজেলায় একাধিক প্রার্থি মনোনয়ন দৌড়ে মাঠে ছিলেন। কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী ফারুকুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: আমিনুল হক রতন, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা ছিলেন সম্ভাব্য প্রার্থি তালিকায়। প্রার্থি জটের কারনে তৃণমুলের সমর্থন চাই জেলা আওয়ামী লীগ। এনিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে তৃণমুলের সমর্থন আহ্বান করে আওয়ামী লীগ। কিন্তু তৃণমুলের অধিকাংশ নেতাকর্মী শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাকে একক প্রার্থি হিসেবে সমর্থন দিলে বিপত্তি ঘটে। কিছু নেতাকর্মী এমন সিদ্ধান্তে আপত্তি তুলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে ৩জনের নাম পাঠানো হলে দলের মনোনয়ন বোর্ড শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতার ওপর আস্থা রেখে তাকেই নৌকার টিকেট তুলে দেন।
কুমারখালীঃ কুমারখালী উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়ন দৌড়ে বেশ কয়েকজনের নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত একক প্রার্থি হিসেবে আব্দুল মান্নান খানের নাম পাঠানো হয় কেন্দ্রে। শেষ পর্যন্ত কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খানের ওপরই আস্থা রাখেন মনোনয়ন বোর্ড। তাঁর হাতেই তুলে দেয়া হয় নৌকার টিকেট।
খোকসাঃ কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খোকসা উপজেলা পরিষদ’র বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান এবারও দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। একক প্রার্থি হিসেবে কেন্দ্রে শুধু তাঁর নামই পাঠানো হয়েছিল। দলের মনোনয়ন বোর্ড তাঁর ওপরই আস্থা রেখেছে।
You must be logged in to post a comment.