চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাংগঠনিক অবস্থান, কার্যক্রম, গঠনতন্ত্র প্রণয়ন এবং কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কিত বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুলনা বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) বিকেল চারটায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় এটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দরা বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার পতনে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ আজ সুবিধাবাদী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কাছে কুক্ষিগত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আজ অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। ফ্যাসিবাদ ব্যবস্থার বিলোপ করতে গিয়ে যে সংগঠন হারালো মেধাবী তরুণ ও নিষ্পাপ তাজা প্রাণগুলোকে, সেই সংগঠনই আজ ফ্যাসিবাদী বন্দোবস্তের কাছে ধরাশায়ী হতে চলেছে। এই ছাত্র আন্দোলনের বীজ যে সাহসী তরুণ ছাত্র নেতারা বুনেছিলো তারা এই সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সাংগঠনিক রুপরেখা না দিয়েই সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। পরবর্তীতে সুবিধাবাদী ও স্বার্থান্বেষী একশ্রেণীর নেতাকর্মীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে এই অরাজনৈতিক ব্যানার কে কলঙ্কিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জুলাই-আগস্ট গনঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই গণঅভ্যুত্থানে আমরা হারিয়েছি প্রায় দুই হাজার শহীদ ভাই এবং পঙ্গুত্ববরণ করেছে প্রায় লক্ষাধিক তরুণ ছাত্র জনতা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের লক্ষ্যে গঠিত নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যক্তিদের প্রভাব কোনো ভাবেই প্রত্যাশিত নয়।
তাছাড়া যে সকল নেতৃবৃন্দ গণঅভ্যুত্থানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন অর্থাৎ জেলা আহ্বায়ক কমিটি থেকে উক্ত নির্বাচনে প্রার্থীতার সুযোগ রাখলেও ভোটাধিকার ব্যবস্থার কোন সুযোগ রাখা হয়নি। এ ছাড়া জুলাই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শুরুতে তৎকালীন ১৫৮ জন সমন্বয়কের মধ্যে যারা এখনো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে তাদেরকেও প্রার্থিতা ও ভোটাধিকারের সুযোগ রাখা হয়নি।
এসময় খুলনা বিভাগের অঞ্চলের নেতারা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো—নির্বাচন কমিশন নতুন করে গঠন করতে হবে এবং কোন রাজনৈতিক দলের নেতা নির্বাচন কমিশনার হতে পারবে না, জেলার নেতৃবৃন্দকে প্রার্থীতার পাশাপাশি ভোটাধিকারের সুযোগ দিতে হবে এবং কেন্দ্রীয় যেসকল সমন্বয়ক কোন রাজনৈতিক দলে নেই তাদের কে প্রার্থীতা ও ভোটাধিকারের সুযোগ দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈবিছাঅ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক এস এম সুইট, যশোর জেলার বৈবিছাআ’র আহ্বায়ক রাশেদ খান, মাগুরা জেলার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার সেলিম, নড়াইল জেলার আহ্বায়ক আব্দুর রহমান মেহেদী, ঝিনাইদহ জেলার আহ্বায়ক আবু হুরায়রা ও কুষ্টিয়ার সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমানসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
You must be logged in to post a comment.