জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে ‘চাঁদাবাজ’ বানানোর অপচেষ্টা প্রকৃত চাঁদাবাজদের আড়াল করার কৌশল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর কারা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত তা জাতি জানে। অথচ সেই চক্রকে বাঁচাতেই পরিকল্পিতভাবে জুলাইযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মামলা, রিমান্ড ও হয়রানি চালানো হচ্ছে।’
সোমবার (৬ জানুয়ারি) মধ্যরাতের পর কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে টঙ্গীর নিজ বাসায় ফেরা জুলাইযোদ্ধা সুরভী ও তার পরিবারের সাথে সাক্ষাৎকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
সুরভীর ঘটনায় গণমাধ্যমের একটি অংশের ভূমিকা নিয়েও কঠোর ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে একটি বিশেষ দলের পক্ষে কাজ করছে মিডিয়ার একটি অংশ। তারা সংবাদ নয়, অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। মিডিয়া নিরপেক্ষ না হলে দেশে কখনোই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।’
তিনি অবিলম্বে গণমাধ্যমকে দলীয় অবস্থান পরিত্যাগ করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতারের পর সোমবার রাত সোয়া ৭টার দিকে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভী। ওইদিন সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক অমিত কুমার দে তার চার সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে, একই দিন দুপুর ১টায় গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক সৈয়দ ফজলুল মহাদি সুরভীর দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে আদালতপাড়ায় ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ শুরু হয়।
রিমান্ড আদেশের পর প্রিজনভ্যানে তোলার সময় সুরভী চিৎকার করে বলেন, ‘কোনো তদন্ত ছাড়াই আমারে রিমান্ড দিছে। ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে কোনো তদন্ত রিপোর্ট দেয়া হয়নি। এটা বিচার নয়, নিপীড়ন।’
এ রিমান্ড আদেশকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নজরে এলে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘সুরভীর বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ সে দ্রুত প্রতিকার পাবে।’
এরপরই জামিনে মুক্ত হয়ে টঙ্গীর বাসায় ফেরেন সুরভী। খবর পেয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তার পরিবারের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে সুরভীর বাসায় উপস্থিত হন।
You must be logged in to post a comment.